• ই-পেপার

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল

পাউরুটিতে ক্যান্সারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাউরুটিতে ক্যান্সারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট
সংগৃহীত ছবি

পাউরুটি উৎপাদনের সময় এতে বিষাক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেছে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন (এমএইচআরজিএফ)। একই সঙ্গে পাউরুটি বাজারজাতকরণের সময় প্যাকেটের গায়ে ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার হয়নি’ এমন ঘোষণা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রকিবার (২৬ জুলাই) জনস্বার্থেমুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস ও গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

রিটে খাদ্যসচিব, বাংলাদেশে অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফেকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বিএসটিআই মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাণ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নাবিস্কো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেফ ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেনিস ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, (ফ্রেশ) মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আকিজ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হক ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে পাউরুটি উৎপাদনের পর বাজারজাতকরণ বা প্যাকেটজাতকরণের সময় পটাশিয়াম ব্রোমেট সংক্রান্ত ঘোষণা, উপকরণের নাম বাধ্যতামূলত ঘোষণা নিশ্চিত করা এবং পাউরুটিতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিট দায়ের পর রিট আবেদনকারী মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস ও গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর বলেন, সম্প্রতি ‘পাউরুটিতে মিলছে ক্যান্সারের উপাদান’ শিরোনামে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের তথ্য যুক্ত করে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের ৪০টি দেশে পটাশিয়াম ব্রোমেট নিষিদ্ধ। বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে খাদ্যপণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তারপরও পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আমরা চাই না অনিরাপদ খাদ্যের কারণে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ুক। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব কারণে রিটটি করেছি।

রিটে আবেদন বলা হয়, ভেজাল খাদ্যের কারণে বাংলাদেশের ৪৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছরই ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর ক্যান্সারে প্রাণ হারাচ্ছে ১ লাখ ১৭ হাজার মানুষ। নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে এক লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজারের মতো। দেশে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনি জটিলতায় ভুগছে। এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা-উপজেলায় কোন ধরনের আইন-কানুন না মেনে  অপরিকল্পিতভাবে বেকারিতে পাউরুটি তৈরি করে স্বাস্থ্যঝঁকি বাড়ানো হচ্ছে।

রিটকারীর আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার পেছনে সহায়-সম্বল, ভিটামাটি বিক্রি করছেন। আমরা এই অবস্থার অবসান চাই। আমরা চাই না খাদ্যের মাধ্যমে মরণঘাতি ক্যান্সারের উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করুক। এসব কারণে পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে  জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী সঞ্চয় মণ্ডল।

২০২১ সালের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাউরুটিতে অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। পটাশিয়াম ব্রোমের বিরুদ্ধে ওই বছর প্রচার কার্যক্রম চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

ওই বছর ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ১৯টি পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করে ১৬টির ক্ষেত্রে বা ৮৪ শতাংশে মাত্রাতিরিক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া যায়। পাউরুটিগুলোতে পটাশিয়াম ব্রোমেটের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩১ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) থেকে ১২ দশমিক ৯১ পিপিএম। অর্থাৎ ব্যবহৃত আটার ১০ লাখ ভাগের ৩ দশমিক ৩১ থেকে ১২ দশমিক ৯১ ভাগ পটাশিয়াম ব্রোমেট। 

পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে রুটি, পাউরুটি ও বেকারি পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেট ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পাউরুটি ও বেকারি খাদ্যে সংযোজক দ্রব্য হিসেবে পটাশিয়াম ব্রোমেট (KBrO3) ও পটাশিয়াম আয়োডেট (KIO3) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ওই সময় নিষেধাজ্ঞায় জানায়, মানবদেহে পটাশিয়াম ব্রোমেট থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ সৃষ্টি করে। এমনকি ক্লাস টুবি কারসিনোজেন, যা ক্যান্সারের কারণ। এটি একটি জেনোটক্সিক কারসিনোজেন, যা জিনগত রোগ ও মিউটেশন ঘটাতে পারে। ডায়রিয়া, বমিভাব ও পেটের পীড়াসহ অন্যান্য উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এ জন্য বেকারি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের উৎপাদিত খাবারে এসব ব্যবহার অনতিবিলম্বে বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। 

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নেওয়া কিছু নমুনায় পটাশিয়াম ব্রোমেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ও ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া তিনটি নমুনা পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট পাওয়া গেছে। যা থাকার কথা ০.৭ শতাংশ, সেখানে মিলেছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। যা মানবদেহ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 

পটাশিয়াম ব্রোমেট এবং পটাশিয়াম আয়োডেট এই দুই উপদান মেশানো রুটি, পাউরুটি এবং বেকারি পণ্য মোড়কহীন কিংবা মোড়কে মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

পাউরুটি তৈরির জন্য ২০১৬ সালে একটি মান নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। তখন পাউরুটি ইমপ্রুভার হিসেবে অ্যামোনিয়াম পারসালফেট, পটাশিয়াম ব্রোমেট, পটাশিয়াম আয়োডেট, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, অ্যাসিড ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম ফসফেট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সময় এক কেজি পাউরুটিতে ৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারের অনুমতি ছিল। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো পাউরুটিতে এই রাসায়নিকটির ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ২০১৮ সালে পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিএসটিআই।

বহুল ব্যবহৃত পাউরুটিতে শুরু থেকেই ইস্ট ব্যবহার করে এটি ফুলানো হতো। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় এর ব্যবহার কমে যায়। এরপর বাংলাদেশ, ভারতসহ কিছু দেশে রুটি ফুলাতে খাবার সোডা ব্যবহৃত হতে থাকে। তবে নব্বইয়ের দশক থেকে অনেক দেশে আটার খামিরকে দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়ার জন্য বেকারির মালিকেরা পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার উৎসাহিত করেন। এটি দামেও সস্তা এবং পাউরুটিকে আকর্ষণীয়ভাবে ফোলানো ও নানা আকৃতি দেওয়ায় ওই বিষাক্ত উপাদানটি বেশ কার্যকর।

২ সাংবাদিক ও ২৫ অভিনেতা-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
২ সাংবাদিক ও ২৫ অভিনেতা-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস ও সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)। রবিবার (২৬ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর লিখিত ওই আবেদন জানান এসডিএফের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিবআল নূর মোহাম্মদ আয়াস। জুলাই গণহত্যায় প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানানো হয়।

অভিযুক্তরা হলেন—
১। ফেরদৌস আহমেদ (তৎকালীন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক)
২। মেহের আফরোজ শাওন (অভিনেত্রী ও নির্মাতা)
৩। রিয়াজ আহমেদ (চিত্রনায়ক)
৪। অরুণা বিশ্বাস (অভিনেত্রী)
৫। শমী কায়সার (নাট্যব্যক্তিত্ব)
৬। রোকেয়া প্রাচী (অভিনেত্রী ও নির্দেশক)
৭। মাহিয়া মাহি (চিত্রনায়িকা)
৮। নিপুণ আক্তার (চিত্রনায়িকা)
৯। তানভীন সুইটি (অভিনেত্রী)
১০। রুবি হক (নাট্যব্যক্তিত্ব)
১১। জ্যোতিকা জ্যোতি (অভিনেত্রী)
১২। সাজু খাদেম (অভিনেতা)
১৩। সোহানা সাবা (অভিনেত্রী)
১৪। পিয়া জান্নাতুল (মডেল ও আইনজীবী)
১৫। শামীমা তুষ্টি (অভিনেত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেত্রী)
১৬। হিরো আলম (অভিনেতা)
১৭। আশা হাবীব ভাবনা (অভিনেত্রী)
১৮। সাইমন সাদিক (চিত্রনায়ক)
১৯। সুজাত আজিম (অভিনেত্রী)
২০। জায়েদ খান (চিত্রনায়ক ও নির্বাচনী প্রচারকারী)
২১। আজিজুল হাকিম (অভিনেতা)
২২। চন্দন রেজা (অভিনেতা)
২৩। আসাদুজ্জামান নূর (প্রবীণ অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী)
২৪। মারিয়া কিসপট্টা (মডেল)
২৫। শায়লা ফারজানা মোমিন মেহেদী
২৬। সোমা ইসলাম (টেলিভিশন উপস্থাপিকা)
২৭। আনিস আলমগীর (সাংবাদিক)।

আল নূর মোহাম্মদ আয়াস লেখেন, ‘আমাদের অভিযোগ হলো, ওই ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত ঘটনাবলিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জনপরিসরে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে আমরা এই অভিযোগ দাখিল করছি।’

যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ নয় কেন, হাইকোর্টের রুল

অনলাইন ডেস্ক
যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ নয় কেন, হাইকোর্টের রুল

যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কুইক রেসপন্স টিম গঠন, বেপরোয়া গতি কমাতে প্রতিটি গণপরিবহনে ভেতরে-বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং একতলা বিশিষ্ট বাসকে ডাবল ডেকারে রূপান্তর ঠেকাতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রবিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্ট মার্টিন পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান রিটটি করেন। আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা তার আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।

এর আগে, গত মে মাসে দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে ওই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ এক তলা বাসের চেসিসের ওপরই তৈরি হচ্ছে দ্বিতল স্লিপার বাস। এর মধ্যে কোনো কোনো বাসের নিচ তলায় বিজনেস ক্লাস সিট ও ওপরে স্লিপার সিট থাকে, আবার কোনোটিতে নিচে ও ওপরে দুই তলাতেই থাকে স্লিপার সিট। বাসগুলো সাধারণ এক তলা বাসের তুলনায় বেশি উচ্চতার তৈরি করা হয়। অনুমোদনহীন এই রূপান্তরের বিষয়ে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একেবারেই নীরব। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, টাইপ অনুমোদন না থাকায় বর্তমানে স্লিপার বাস অনুমোদনের সুযোগ বিআরটিএর নেই। তবে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। দ্বিতল স্লিপার বাসের চেসিস কী ধরনের হবে, বডির ডিজাইন, সিটের ধরন বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে ওই নীতিমালায়। 

বর্তমানে কিভাবে স্লিপার বাস চলছে, এ প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে সাধারণ বাসের অনুমোদন নিয়ে পরবর্তী সময়ে বাসগুলোকে রূপান্তর করে স্লিপার বাসে পরিণত করা হয়। 

তবে বছর ঘুরে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে আসলে, সেসব বাস কিভাবে ফিটনেস সনদ পায়, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
 

ডিপজলের নামে খালাতো ভাই টাইগারের মানহানি মামলা, তদন্তে ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিপজলের নামে খালাতো ভাই টাইগারের মানহানি মামলা, তদন্তে ডিবি

খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন আপন খালাতো ভাই আজিজুর রহমান টাইগার।

রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে ডিপজলের খালাতো ভাই এ ওয়ান ট্রেডিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টাইগার এ মামলা করেন।

মামলায় ডিপজলের ম্যানেজার আব্দুল গণি এবং ব্যক্তিগত সহকারী খোকনকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশের ডিসিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামি ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আজিজুর রহমান টাইগারের সুনাম, সুখ্যাতি, ব্যাবসায়িক সফলতা, দেশ-বিদেশে পরিচিতিতে ঈষান্বিত হয়ে ডিপজল বিভিন্নভাবে তার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারই ধারাবাহিকতায় ম্যানেজার আব্দুল গণি গত বছরের ৩ অ্যাগাস্ট আজিজুর রহমান টাইগারের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, টাইগারের নির্দেশে ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিলশাদ, সাইদুর রহমানসহ ১০-১৫ জন তাদের (ডিপজলের) ভাড়া দেওয়া নাভানা সিএনজিতে জোর করে সাইনবোর্ড ভেঙে তাদের নামে লাগানোর চেষ্টা করে। তারা জমির মালিকানা দাবি করে সামনের মাস থেকে ভাড়া দাবি করে। তবে জিডির তদন্তে টাইগারের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। পরদিন ডিপজল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দেন।

টাইগার দাবি করেন, ওই সম্পত্তির (নাভানা সিএনজি) মালিক তিনি নিজে। ডিপজল ওই সম্পত্তি তার দাবি করে তাকে সমাজে তাকে হেয় করতে চেয়েছেন।

বাদী অভিযোগ করেন, ডিপজল শুধু ফেসবুক পোস্টে ক্ষ্যান্ত হননি। টেলিভিশন, বিভিন্ন পত্রিকায়, অনলাইন নিউজপোর্টালে বিষয়টি প্রচার করে। এতে তার সামাজিক সম্মানহানী করে, ব্যাবসায়িক সুনাম ও কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন।

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল | কালের কণ্ঠ