দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তাকে পুরুষাঙ্গ কেটে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রেমিকা বিউটি আক্তারকে (২৮) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৬ জুলাই) শুনানির দিন ধার্য থাকায় আসামিকে কারাগার থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক তারেক হাসান গত ১৪ জুলাই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেন। আজ রিমান্ড শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
হত্যাকান্ডের শিকার মামুন মিয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের সেকেন্ড ক্লাস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ননদের মাধ্যমে মামুনের সঙ্গে বিউটির পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে বিষয়টি মামুনের পরিবারের জানা ছিল না। সম্প্রতি চিকিৎসার কথা বলে বিউটি ঢাকায় এসে মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন। গত ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে বিউটির ডাকে সেখানে দেখা করতে যান মামুন।
এজাহারে আরো বলা হয়, সেখানে বিউটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে ফল কাটার ছুরি দিয়ে মামুনের গোপনাঙ্গ ও পেটে আঘাত করেন বিউটি। মামুনের ডাকচিল্কার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান মামুন।
এ ঘটনায় নিহত মামুনের চাচা মো. শমসের আলী বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বিউটিকে গ্রেপ্তার করার পর গত ১২ জুলাই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।





