• ই-পেপার

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক
হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি আজ।

সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ দিন ধার্য রয়েছে।

গত ৪ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গ্রেপ্তার এক আসামিকে হাজির না করায় তা পিছিয়ে আজকের দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রথমে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করবে প্রসিকিউশন। এরপর ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চেয়ে শুনানি করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন– চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।

হাছান মাহমুদ ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।

এর আগে, ১৩ মে পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।

গত ৭ এপ্রিল তিন অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়। এছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা তিন নম্বর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ইলিয়াস গুমের ভয়ংকর বর্ণনা

আদালতে জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষীর জবানবন্দি ১৫০-২০০ ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে হত্যা করতে দেখেছি ‘ইলিয়াসকে গলফ করলাম’ তারিক সিদ্দিকের সঙ্গে ফোনালাপ

অনলাইন ডেস্ক
ইলিয়াস গুমের ভয়ংকর বর্ণনা

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন তার একসময়ের দেহরক্ষী (রানার) সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় ১৫০ থেকে ২০০ ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে হত্যা করতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গেও জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরেন সেনাবাহিনীর এই ওয়ারেন্ট অফিসার।

শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের ৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইমরুল। জবানবন্দি দেওয়ার সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম উপস্থিত ছিলেন। জিয়াউল আহসানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

জবানবন্দিতে সেনা কর্মকর্তা ইমরুল বলেন, ২০০১ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০১০ সালের ১০ আগস্ট র‌্যাব সদর দপ্তরে পোস্টিং পান। সেখানে প্রথমে প্রশাসনিক শাখায় থাকলেও কয়েকদিনের মধ্যে তাকে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় (ইন্টেলিজেন্স উইং) নেওয়া হয়। পরে তাকে জিয়াউল আহসানের রানার (দেহরক্ষী) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এই পদে। জবানবন্দি অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল। ২০০৪ সালে কমান্ডো কোর্স এবং পরে ১-প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নে কর্মরত থাকার সময় তিনি জিয়াউল আহসানের অধীনে কাজ করেন। র‌্যাবে দেখা হওয়ার পর জিয়াউল আহসান তার নাম ও নম্বর নেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে পোস্টিং দেওয়া হয়।

‘বস্তা’ নয়, ছিল লাশ : ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালকে বলেন, রানার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ২০-২৫ দিন পর এক রাতে জিয়াউল আহসান তাকে র‌্যাব-১-এর সামনে যেতে বলেন। সেখানে দুইটি কালো হায়েস মাইক্রোবাস ছিল। একটি মাইক্রোবাসে উঠে তিনি দেখেন, জিয়াউল আহসান, র‌্যাব-১-এর তৎকালীন সিও রাশেদ, ক্যাপ্টেন কাউসারসহ কয়েকজন ভেতরে আছেন। জিয়াউল আহসান তাকে বলেন, পেছনে একটি ‘বস্তা’ আছে, সেটি ফেলে দিতে হবে। তার ভাষ্য, গাড়িটি রাতের বেলা টঙ্গীর দিকে একটি রেললাইনের কাছে গিয়ে থামে। সেখানে মাইক্রোবাসের পেছনের অংশ খুলে বস্তা নামাতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আসলে একটি ঠান্ডা মৃতদেহ। পরে অন্যদের সহায়তায় তিনি লাশটি রেললাইনের পাশে নিয়ে রাখেন। এরপর জিয়াউল আহসানসহ অন্যরা লাশটি রেললাইনের ওপর রাখেন। কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেন চলে গেলে তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন। এই ঘটনার পর কয়েক দিন তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন ইমরুল।

‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এ ৮-১০ জনকে হত্যা : বিডিআর বিদ্রোহের পর ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ চলাকালে জিয়াউল আহসান ৮ থেকে ১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে দাবি করেছেন ইমরুল। তার ভাষ্য, তাদের কেউ কেউকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হতো, আবার কাউকে পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন আর্মি ক্যাম্পের ভিতর দিয়ে বোটে নদীতে নিয়ে গিয়ে সিমেন্টভর্তি বস্তার সঙ্গে বেঁধে মাথায় গুলি করে পানিতে ফেলে দেওয়া হতো।

উত্তরা, পোস্তগোলা, কাঁচপুর-একাধিক হত্যার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দিতে আরো বলা হয়, ২০১১ সালের রমজানের শেষ দিকে জিয়াউল আহসান তাকে ক্যামেরা নিয়ে উত্তরার নর্থ টাওয়ার এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখেন। পরে জানতে পারেন, ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ‘ক্রসফায়ারে’ তারা নিহত হয়েছেন। তবে ইমরুলের দাবি, ঘটনাটি ছিল ‘সাজানো’।

২০১২ সালের শুরুতে ১১ জন আসামিকে তিনটি মাইক্রোবাসে করে পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নেওয়া হয় বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমরুলের ভাষ্য, সেখান থেকে একটি বোটে করে নদীর মাঝখানে নিয়ে আগের মতোই ওই ১১ জনকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ, কমান্ডার সোহায়েল ও এডিজি (অপস) মুজিব উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া ২০১২ সালের মাঝামাঝি জাফলং সীমান্তে দুই আসামিকে ভারতীয় পক্ষের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে ফেরার পথে আলাদা আলাদা স্থানে গাড়ি থামিয়ে দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ আছে। একপর্যায়ে র‌্যাব-৪-এর সেফ হাউস থেকে নেওয়া দুই আসামির একজনকে একটি নির্জন স্থানে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় বলেও বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। একইভাবে আরেকটি ঘটনায় কাঁচপুর ব্রিজের ওপর নিয়ে গিয়ে দুই ‘টার্গেট’কে গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথাও জবানবন্দিতে এসেছে।

‘ইলিয়াসকে গলফ করলাম’ : জবানবন্দিতে সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে একটি অপারেশনের প্রস্তুতিতে তিনি জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ছিলেন। তবে সেদিন ‘টার্গেট’ না আসায় অভিযানটি সম্পন্ন হয়নি। পরদিন তিনি ৯ দিনের ছুটিতে চলে যান। ছুটিতে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়েছেন। ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে ফিরে র‌্যাব সদর দপ্তরে ‘থমথমে’ পরিবেশ দেখতে পান বলে জানান ইমরুল।

তার দাবি, পরে তিনি জানতে পারেন অস্ত্রাগারের ইন-আউট রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। একই সময়ে একদিন জিয়াউল আহসানকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে শুনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনের একপর্যায়ে জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে? এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠাই দেন।’ ইমরুলের দাবি, জিয়াউল আহসান তখন ‘তারেক স্যার’ বলে সম্বোধন করছিলেন, যা তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিককে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করেন।

‘১৫০ থেকে ২০০ ব্যক্তিকে হত্যা করতে দেখেছি’ : জবানবন্দিতে ইমরুল আরো বলেন, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে প্রায় এক বছর তিন-চার মাস রানার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি দেখেছেন, বিভিন্নভাবে মানুষকে গুম ও হত্যা করা হতো। তার দাবি, র‌্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে আনা ব্যক্তিদের কখনো গুলি করে, কখনো ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্বে বর্ণিত ঘটনার বাইরে আরো ১০-১২ জনকে ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তার ভাষায়, ‘আমি দেশের জন্য শপথ গ্রহণ করেছি, প্রশিক্ষণও নিয়েছি; কিন্তু তা কখনো দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। আমি বিবেকের তাড়নায় এবং সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে জবানবন্দি দিয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। কোনো সৈনিক যেন আমার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে রুল শুনানি ২৪ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে রুল শুনানি ২৪ জুন
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ারের আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি হবে আগামী ২৪ জুন। আজ রবিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ জুন সারোয়ারের আলমগীরের প্রার্থিতাসংক্রান্ত রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া ওই আসনে তার ভোটের ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে।  

প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানির পর ১৮ জানুয়ারি ইসি আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পর দিনই হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। শুনানির পর ২৭ জানুয়ারি রুলসহ আদেশ দেন। সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে ইসিকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।

রুলে জানতে চাওয়া হয়, সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন নুরুল আমিন; যা গত ৪ ফেব্রুারি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। 

আদেশে বলা হয়, সারোয়ার আলমগীর যদি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) এসংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ নুরুল আমিনের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন। আদেশে স্থগিতাদেশ চলমান রেখে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। এই আদেশের পর রুলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রাখা হয়।

গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

গাড়ি বিক্রির নামে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মির্জা আবুল বাসারকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন বাসারকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে বাসারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী মো. আজিজুল ইসলাম গাড়ির গ্যারেজ ও পুরোনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যাবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে মির্জা আবুল বাসার তার কাছে একটি পুরোনো গাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দেন। ২০২৫ সালের ৬ জুন গাড়ির অগ্রিম মূল্য হিসেবে আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ এক কোটি টাকা নেন বাসার। এ সময় টাকার লেনদেনের ভিডিওচিত্রও সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, টাকা গ্রহণের পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাড়ি বুঝিয়ে দেননি বাসার। পরে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে গাড়ি দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পরে ৬ নভেম্বর একটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বাসার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করার আবেদন করেন আজিজুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত গুলশান থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ | কালের কণ্ঠ