• ই-পেপার

বিশ্রামও দরকার

  • হাসান হাফিজ

গরু কেনার গল্প

আজিজুল হক মোল্লা বাবু

গরু কেনার গল্প

খোকন সোনার জেদ

বাবার সাথে হাটে যাবে

কষ্টেও নাই খেদ!

 

ধরে বাবার হাত

ঘুরবে খোকা দেখবে গরু

হোক না যত রাত!

 

খোকার লাগলে ভালো

সেই গরুটাই কিনবে বাবা

হোক লাল বা কালো!

 

গরুর দড়ি ধরে

ঈদের খুশি মুখে হাসি

ফিরবে তারা ঘরে।

 

গরু কেনার গল্প

করবে খোকা সবার সাথে

নয় মোটেও অল্প!

এলো খুশির ঈদ

মাসুম হাসান

এলো খুশির ঈদ

নানুর বাড়ি চিতলমারী 

ঋদ্ধ যাবে ঈদে,

বাসগাড়িতে পেটিস খাবে

লাগে যদি খিদে,

পৌঁছে বাড়ি খেলার মাঠে

দৌড়ে যাবে সিধে।

 

ঈদের দিনে আমেনা ও

আফসানা রিয়ান তূর্য,

পুকুরঘাটে করবে গোসল

উঠবে যখন সূর্য।

 

নানুর হাতের ফিরনি সেমাই

কোরমা পোলাও দধি

মিলেমিশে খাবে সবাই

থাকে গরিব যদি।

 

হৈ-হুল্লোড় খেলাধুলায়

কাটবে সময় ভালো,

ঈদটা এলে ছড়ায় প্রভু

ভালোবাসার আলো।

 

 

টাকা জমিয়ে ফুটবল কিনে দিলাম

সুরভী আক্তার ঝিনুক, প্রথম শ্রেণি, ১৯ নং ভাটিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবনা

টাকা জমিয়ে ফুটবল কিনে দিলাম

আমাদের বাড়ির কাছে একটা পুকুর আছে। সেখানে আমরা গোসল করতে যাই। সেই পুকুরপারে একটা আমগাছের নিচে বসে আমার ভাইয়ার বয়সী অনেকে সিগারেট খায়, তাস খেলে। এসব সিগারেট খেতে দেখলে ভালো লাগে না। পরে ফুটবল কেনার বুদ্ধিটা আমার মাথায় এসেছে। আম্মু বলেছে, সিগারেট খাওয়া তো খারাপ। স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো না। আমার মনে হলো, যারা খেলাধুলা করে, তারা এই খারাপ কাজ করবে না। স্কুলে স্যাররাও এমন কথা বলেছিলেন। তাই প্রথমে বাবাকে বলেছিলাম কয়েকটা ফুটবল কিনে দিতে। আমার বাবা সিএনজি চালান। তিনি বললেন, ‘তুমি টাকা জমাও। পরে আমি কিনে দেব।’ সেই থেকে মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো শুরু করলাম। টিফিনের জন্য আমাকে যে টাকা দিত, সেখান থেকে একটা

টাকা জমিয়ে ফুটবল কিনে দিলাম

অংশ জমাতাম। গত রোজার ঈদে যে সালামি পেয়েছিলাম, সেটাও জমালাম। মা গরু পালেন। গরুর দুধ বেচেন। আম্মুর কাছ থেকেও কিছু টাকা পেয়েছিলাম। সব মিলিয়ে এক বছরে চার হাজার টাকার মতো হলো। টাকাগুলো বাবার হাতে দিয়ে বললাম, আমাকে ফুটবল কিনে দাও। আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েদের দেব। পরে বাবা মোট ছয়টা ফুটবল কিনে আনলেন। তিনটা ফুটবলের দাম এক হাজার ৮০০ টাকা আর বাকি তিনটার দাম ৯০০ টাকা। ২০ তারিখে ফুটবলগুলো সবাইকে দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা আর পুকুরপারে বসে তাস খেলে না। এখন তো স্কুল ছুটি। সবাই মিলে মাঠে ফুটবল খেলে। আমিও খেলি। বাবা প্রতি শুক্রবার গরিব মানুষকে খাওয়ান। বাকি টাকাটা তাঁকে দিয়ে দিয়েছি। নতুন একটা ব্যাংক কিনেছি। এক বছর পর সেই টাকা দিয়ে আরো ভালো কিছু করব।

 

 

 

টরন্টো থেকে নিউইয়র্ক

মাহজুবা তাসনিম অর্না, নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

টরন্টো থেকে নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের সামনে লেখক। ছবি : সংগৃহীত

ভ্রমণ মানে শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া নয়; বরং নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও একটু একটু করে বদলে ফেলা। আমার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ভ্রমণও ছিল তেমনই। দুবাইয়ে ট্রানজিট নিয়ে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার যাত্রা শেষে অবশেষে আমরা পৌঁছি টরন্টোতে। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি তখন শরীর আর চেহারায় স্পষ্ট, তাই প্রথম দিনটি কেটেছিল একেবারেই শান্তভাবে। বিকেলে স্কারবরোর একটি পার্কে সূর্যাস্ত দেখতে যাই। ক্লান্তির মধ্যেও নীল আকাশের সঙ্গে সূর্যের লাল আভা মিশে গিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করেছিল। হালকা ঠাণ্ডা বাতাস আর নীরব পরিবেশ মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, যাত্রার সব ক্লান্তি যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।

পরের দিন থেকেই শুরু হয় শহর দেখা। সিএন টাওয়ার থেকে পুরো টরন্টো শহরটিকে একনজরে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। আধুনিক ভবন আর সবুজের মিশ্রণে শহরটি খুবই সুশৃঙ্খল ও সুন্দর। এরপর বেরিয়ে পড়ি শহরের বিভিন্ন রাস্তা দেখতে। রজার্স সেন্টার, নাথান ফিলিপস স্কয়ার, সেন্ট লরেন্স মার্কেট, টরন্টো আইল্যান্ডসহ নানা জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে শহরের ভিন্ন ভিন্ন রূপ চোখে পড়ছিল। বিশেষ করে টরন্টো আইল্যান্ডে সূর্যাস্তের সময় পানির ওপর আলোর প্রতিফলন পুরো পরিবেশকে যেন সোনালি রঙে রাঙিয়ে দিল!

পরের দিন আমরা গেলাম ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোতে। চারপাশের সবুজ গাছপালা, খোলা মাঠ আর সবুজ ঘাসে বসে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে দেখা সত্যিই দারুণ লাগছিল। এমন পরিবেশে পড়াশোনা করাও নিশ্চয়ই আনন্দের! পরে জানলাম, এটি বিশ্বের সবচেয়ে টেকসই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। এরপর যাই ক্যাসা লোমা প্রাসাদে, সেখানে কানাডার বিভিন্ন ঐতিহাসিক বস্তু, ব্যক্তি ও ঘটনার সঙ্গে পরিচিত হই।

টরন্টোর পর আমাদের যাত্রা মন্ট্রিয়লে। শহরটিতে পৌঁছেই মনে হয়েছিল, যেন কানাডার ভেতরে ছোট্ট এক ইউরোপে চলে এসেছি! পুরনো ধাঁচের ভবন, পাথরের রাস্তা আর শরতের হালকা ঠাণ্ডা আবহ পুরো শহরটিকে অন্য রকম সৌন্দর্য এনে দিয়েছিল। আমরা প্রথমে ওল্ড পোর্ট মন্ট্রিয়ল ঘুরে দেখি। এরপর নটর ডেম ব্যাসিলিকা চার্চের নীলাভ কারুকার্যশোভিত অভ্যন্তর দেখে মুগ্ধ হলাম। পরে বায়োডোমে গিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন বায়োম এক জায়গায় দেখার অভিজ্ঞতা ছিল ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ। কোথাও পেঙ্গুইন, কোথাও রেইনফরেস্ট, আবার কোথাও অচেনা প্রাণী ও রঙিন পাখি—সবকিছুই অবিশ্বাস্য লাগছিল। শহরজুড়ে শরতের কমলা-হলুদ পাতাগুলো পুরো পরিবেশ আরো মনোরম করে তুলল। আমরা জার্ডিন বোটানিক ও মন্ট্রিয়ল ললিতকলা জাদুঘরও ঘুরে দেখি। সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল এখানকার ফরাসি ভাষার ব্যবহার। সামান্য ফরাসি জানি বলে বিভিন্ন জায়গায় ‘বনজার’ কিংবা ‘মার্সি’ বলার ছোট ছোট মুহূর্তগুলোও বিশেষ হয়ে রয়ে গিয়েছিল।

টরন্টো থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অটোয়ায় যাই। সেখানে পার্লামেন্ট অব কানাডা দেখি। এরপর কেমব্রিজে কয়েকটি দিন কাটে একেবারে পারিবারিক পরিবেশে। শহর বা দর্শনীয় স্থানের চেয়ে এখানে সময়টা ছিল অনেক বেশি নিরিবিলি। শান্ত দুপুর, পার্কে হাঁটা আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো পুরো যাত্রার ব্যস্ততার মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দিয়েছিল।

এরপর নায়াগ্রা জলপ্রপাত। সেখানে প্রতিটি মুহূর্তই ছিল অনন্য। বিশাল জলপ্রপাতের গর্জন, আকাশের দিকে উঠে যাওয়া কুয়াশা আর নীলচে পানির প্রবাহ একসঙ্গে এমন এক অনুভূতি তৈরি করেছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মনে হলো, প্রকৃতির শক্তিকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারছি! পরের দিন আমরা ঝরনার ওপর রংধনু দেখতে পাই। কুয়াশার ভেতর দিয়ে আলো ভেঙে রঙের এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়েছিল। রাতের বেলা আলোকসজ্জায় পুরো জলপ্রপাত যেন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল, আর আলো-ছায়ার সেই খেলা পুরো পরিবেশ আরো স্বপ্নিল করে তুলেছিল। এরপর জলপ্রপাতের পেছন দিকে গিয়ে পানির ঠিক পেছন থেকে সেই বিশাল প্রবাহ দেখা ছিল একেবারেই ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা।

নায়াগ্রা থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করি। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পৌঁছি ফিলাডেলফিয়ায়। সেখানে আমিশ কান্ট্রি দেখার সুযোগ হয়, যেখানে আধুনিক জীবনের বাইরে একেবারে সহজ, ধীর আর প্রকৃতির কাছাকাছি এক জীবনধারা দেখা যায়। যেদিকে তাকাই, সেদিকেই শুধু নীল আকাশ আর বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ।

এরপর নিউইয়র্কে। শহরটিকে আগে দেখলেও এবারের অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। জানা ছিল, পুরো সময় বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি যেন শহরটিকে আরো স্বপ্নিল করে তুলেছিল।

টাইমস স্কয়ারের বৃষ্টিভেজা রাস্তায় নিয়ন আলোর প্রতিফলন এক অবাস্তব সুন্দর দৃশ্য তৈরি করেছিল। সামিট ওয়ান ভ্যান্ডারবিল্টের ৯১তম তলায় গিয়ে একনজরে শহরটাকে দেখলাম। কাচের গায়ে বৃষ্টির ফোঁটার মধ্য দিয়ে আকাশচুম্বী ভবনগুলো—যেন কোনো সিনেমার দৃশ্য দেখছিলাম। এরপর আধুনিক শিল্পকলা জাদুঘরে গিয়ে ‘দ্য স্টেরি নাইট’-এর সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, বাস্তব আর কল্পনার দূরত্ব যেন একমুহূর্তে মুছে গেছে। ছবিটি বাস্তবে দেখার অনুভূতি ছিল অনেক বেশি গভীর ও আবেগপূর্ণ।

শেষ দিনে নিউইয়র্ক ছাড়ার সময় মনে হলো, যেন শহরটি নীরবে বিদায় জানাচ্ছে, আর প্রতিটি আলো, প্রতিটি রাস্তা ধীরে ধীরে স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। টরন্টোর শান্ত সূর্যাস্ত, মন্ট্রিয়লের ইউরোপীয় আবহ, নায়াগ্রার গর্জন, কেমব্রিজের নিরিবিলি সময় আর নিউইয়র্কের বৃষ্টিভেজা আলো—সব মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল এই ভ্রমণ।