• ই-পেপার

টরন্টো থেকে নিউইয়র্ক

  • মাহজুবা তাসনিম অর্না, নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

গরু কেনার গল্প

আজিজুল হক মোল্লা বাবু

গরু কেনার গল্প

খোকন সোনার জেদ

বাবার সাথে হাটে যাবে

কষ্টেও নাই খেদ!

 

ধরে বাবার হাত

ঘুরবে খোকা দেখবে গরু

হোক না যত রাত!

 

খোকার লাগলে ভালো

সেই গরুটাই কিনবে বাবা

হোক লাল বা কালো!

 

গরুর দড়ি ধরে

ঈদের খুশি মুখে হাসি

ফিরবে তারা ঘরে।

 

গরু কেনার গল্প

করবে খোকা সবার সাথে

নয় মোটেও অল্প!

এলো খুশির ঈদ

মাসুম হাসান

এলো খুশির ঈদ

নানুর বাড়ি চিতলমারী 

ঋদ্ধ যাবে ঈদে,

বাসগাড়িতে পেটিস খাবে

লাগে যদি খিদে,

পৌঁছে বাড়ি খেলার মাঠে

দৌড়ে যাবে সিধে।

 

ঈদের দিনে আমেনা ও

আফসানা রিয়ান তূর্য,

পুকুরঘাটে করবে গোসল

উঠবে যখন সূর্য।

 

নানুর হাতের ফিরনি সেমাই

কোরমা পোলাও দধি

মিলেমিশে খাবে সবাই

থাকে গরিব যদি।

 

হৈ-হুল্লোড় খেলাধুলায়

কাটবে সময় ভালো,

ঈদটা এলে ছড়ায় প্রভু

ভালোবাসার আলো।

 

 

বিশ্রামও দরকার

হাসান হাফিজ

বিশ্রামও দরকার
অলংকরণ : মাসুম

কম্পিউটার কম

কোটি অঙ্ক কষতে পারে

একটুও তার নাই জিরানি

লম্বা ভীষণ দম।

খুব নীরবে কাজ সে করে

সচল সে হরদম,

ব্যাপারটা হে নয় মামুলি

দারুণ অনুপম।

 

কম্পিউটার শোনো

বিশ্রাম কি দরকার নাই

একটু তোমার কোনো

মুহূর্তেরও নাই বিরতি

কাজের কী জাল বোনো

পাওয়ার হলে অফ

বন্ধ করা ভালো,

না হলে পর কম্পিউটার

মুখটা করে কালো।

 

টাকা জমিয়ে ফুটবল কিনে দিলাম

সুরভী আক্তার ঝিনুক, প্রথম শ্রেণি, ১৯ নং ভাটিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবনা

টাকা জমিয়ে ফুটবল কিনে দিলাম

আমাদের বাড়ির কাছে একটা পুকুর আছে। সেখানে আমরা গোসল করতে যাই। সেই পুকুরপারে একটা আমগাছের নিচে বসে আমার ভাইয়ার বয়সী অনেকে সিগারেট খায়, তাস খেলে। এসব সিগারেট খেতে দেখলে ভালো লাগে না। পরে ফুটবল কেনার বুদ্ধিটা আমার মাথায় এসেছে। আম্মু বলেছে, সিগারেট খাওয়া তো খারাপ। স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো না। আমার মনে হলো, যারা খেলাধুলা করে, তারা এই খারাপ কাজ করবে না। স্কুলে স্যাররাও এমন কথা বলেছিলেন। তাই প্রথমে বাবাকে বলেছিলাম কয়েকটা ফুটবল কিনে দিতে। আমার বাবা সিএনজি চালান। তিনি বললেন, ‘তুমি টাকা জমাও। পরে আমি কিনে দেব।’ সেই থেকে মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো শুরু করলাম। টিফিনের জন্য আমাকে যে টাকা দিত, সেখান থেকে একটা

টাকা জমিয়ে ফুটবল কিনে দিলাম

অংশ জমাতাম। গত রোজার ঈদে যে সালামি পেয়েছিলাম, সেটাও জমালাম। মা গরু পালেন। গরুর দুধ বেচেন। আম্মুর কাছ থেকেও কিছু টাকা পেয়েছিলাম। সব মিলিয়ে এক বছরে চার হাজার টাকার মতো হলো। টাকাগুলো বাবার হাতে দিয়ে বললাম, আমাকে ফুটবল কিনে দাও। আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েদের দেব। পরে বাবা মোট ছয়টা ফুটবল কিনে আনলেন। তিনটা ফুটবলের দাম এক হাজার ৮০০ টাকা আর বাকি তিনটার দাম ৯০০ টাকা। ২০ তারিখে ফুটবলগুলো সবাইকে দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা আর পুকুরপারে বসে তাস খেলে না। এখন তো স্কুল ছুটি। সবাই মিলে মাঠে ফুটবল খেলে। আমিও খেলি। বাবা প্রতি শুক্রবার গরিব মানুষকে খাওয়ান। বাকি টাকাটা তাঁকে দিয়ে দিয়েছি। নতুন একটা ব্যাংক কিনেছি। এক বছর পর সেই টাকা দিয়ে আরো ভালো কিছু করব।