আমাদের বাড়ির কাছে একটা পুকুর আছে। সেখানে আমরা গোসল করতে যাই। সেই পুকুরপারে একটা আমগাছের নিচে বসে আমার ভাইয়ার বয়সী অনেকে সিগারেট খায়, তাস খেলে। এসব সিগারেট খেতে দেখলে ভালো লাগে না। পরে ফুটবল কেনার বুদ্ধিটা আমার মাথায় এসেছে। আম্মু বলেছে, সিগারেট খাওয়া তো খারাপ। স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো না। আমার মনে হলো, যারা খেলাধুলা করে, তারা এই খারাপ কাজ করবে না। স্কুলে স্যাররাও এমন কথা বলেছিলেন। তাই প্রথমে বাবাকে বলেছিলাম কয়েকটা ফুটবল কিনে দিতে। আমার বাবা সিএনজি চালান। তিনি বললেন, ‘তুমি টাকা জমাও। পরে আমি কিনে দেব।’ সেই থেকে মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো শুরু করলাম। টিফিনের জন্য আমাকে যে টাকা দিত, সেখান থেকে একটা

অংশ জমাতাম। গত রোজার ঈদে যে সালামি পেয়েছিলাম, সেটাও জমালাম। মা গরু পালেন। গরুর দুধ বেচেন। আম্মুর কাছ থেকেও কিছু টাকা পেয়েছিলাম। সব মিলিয়ে এক বছরে চার হাজার টাকার মতো হলো। টাকাগুলো বাবার হাতে দিয়ে বললাম, আমাকে ফুটবল কিনে দাও। আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েদের দেব। পরে বাবা মোট ছয়টা ফুটবল কিনে আনলেন। তিনটা ফুটবলের দাম এক হাজার ৮০০ টাকা আর বাকি তিনটার দাম ৯০০ টাকা। ২০ তারিখে ফুটবলগুলো সবাইকে দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা আর পুকুরপারে বসে তাস খেলে না। এখন তো স্কুল ছুটি। সবাই মিলে মাঠে ফুটবল খেলে। আমিও খেলি। বাবা প্রতি শুক্রবার গরিব মানুষকে খাওয়ান। বাকি টাকাটা তাঁকে দিয়ে দিয়েছি। নতুন একটা ব্যাংক কিনেছি। এক বছর পর সেই টাকা দিয়ে আরো ভালো কিছু করব।