• ই-পেপার

বই আলোচনা

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সাক্ষাৎকার নিয়ে বই

  • সীমান্ত নওশের

আবার দেখার সুযোগ

দিপিকা দাশ তুষী

আবার দেখার সুযোগ

বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পের ইতিহাসে নভেরা আহমেদের নাম উচ্চারিত হয় প্রায়ই একটি প্রতিষ্ঠাতা চরিত্র হিসেবে। কিন্তু তাঁকে ঘিরে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে থাকে তাঁর জীবন, দেশত্যাগ, স্বীকৃতি কিংবা ব্যক্তিগত ইতিহাস। ফলে অনেক সময় শিল্পীর কাজের তুলনায় শিল্পীর জীবনই বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে আয়োজিত ‘নভেরা.নভেরা’ প্রদর্শনী এই পরিচিত বয়ানকে ধারণ করলেও একই সঙ্গে তাঁর শিল্পভাষাকে নতুনভাবে দেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর তৈরি করেছে।

প্রদর্শনীটি শুধু ভাস্কর্যের প্রদর্শনী নয়; বরং নভেরা আহমেদের শিল্পচর্চার একটি আর্কাইভভিত্তিক পুনর্নির্মাণ। ভাস্কর্য, চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র, জীবনপঞ্জি, ব্যক্তিগত নথি এবং প্রামাণ্যচিত্র—সব মিলিয়ে শিল্পীর দীর্ঘ শিল্পযাত্রাকে একটি ধারাবাহিক বয়ানে উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্যালারির বিন্যাসও সেই বয়ানকে অনুসরণ করে। কোথাও অপ্রয়োজনীয় ভিড় নেই; বরং একটি স্বাভাবিক প্রবাহ দর্শককে শিল্পীর বিভিন্ন সময়ের কাজের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়।

প্রদর্শনীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত নভেরা আহমেদের কম আলোচিত চিত্রকর্মগুলোর উপস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে প্রধানত একজন ভাস্কর হিসেবেই দেখা হয়েছে। অথচ এই প্রদর্শনী দেখায়, তাঁর চিত্রভাষাও সমান মনোযোগ দাবি করে। বিশেষ করে ‘উষা’ চিত্রকর্মটি শিল্পীর আরেকটি সংবেদনশীল সত্তার পরিচয় দেয়। সূর্যালোকের দিকে মুখ তুলে থাকা নগ্ন নারীদেহ এখানে কোনো যৌনায়িত উপস্থাপনা নয়; বরং প্রকৃতি, আলো ও মানবদেহের এক স্বতঃস্ফূর্ত সহাবস্থান। ভাস্কর্যে যে সংহত, ভারী ও ঘনীভূত ফিগার দেখা যায়, তার তুলনায় এই চিত্রকর্মে মানবদেহ অনেক বেশি উন্মুক্ত, তরল ও নিঃশব্দ। নভেরার শিল্পভাষার এই ভিন্ন মাত্রা তাঁর কাজকে নতুনভাবে পড়ার সুযোগ করে দেয়।

ভাস্কর্যগুলোর দিকে তাকালে একটি পুনরাবৃত্ত ফিগারেটিভ ভাষা স্পষ্ট হয়। মানবদেহ এখানে বাস্তবতার অনুকরণ নয়; বরং সরলীকরণ, সংহতি ও সম্পর্কের বিমূর্ত রূপ। ‘মা ও দুই শিশু’র মতো কাজে পৃথক দেহের চেয়ে সম্পর্কের গঠনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যগুলোর পৃষ্ঠে তৈরি হওয়া পেঁচানো টেক্সচার একটি বিশেষ ভিজ্যুয়াল ছন্দ নির্মাণ করে। সেই গঠন বাংলার বাঁশ-বেতের কারুশিল্পের বোনা কাঠামোর স্মৃতি জাগায়। এটি কোনো ঐতিহাসিক প্রভাবের দাবি নয়; বরং শিল্পকর্মের সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া একটি ভিজ্যুয়াল অনুষঙ্গ, যা নভেরার ভাস্কর্যকে স্থানীয় নন্দনতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার সঙ্গেও যুক্ত করে পড়ার সুযোগ দেয়।

কিউরেশনের দিক থেকে প্রদর্শনীটি সুপরিকল্পিত হলেও কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। ‘কম্পোজিশন’ শিরোনামে প্রদর্শিত কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে শিল্পীর মূল শিরোনাম অনুপস্থিত। এগুলো শিল্পীর দেওয়া নাম, নাকি পরবর্তী আর্কাইভিংয়ের অংশ, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় দর্শকের কৌতূহল অপূর্ণ থেকে যায়। একই সঙ্গে শিল্পীর নিজের বক্তব্য বা কাজের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট যুক্ত থাকলে প্রদর্শনীটি গবেষক ও সাধারণ দর্শক—উভয়ের জন্যই আরো সমৃদ্ধ হতে পারত।

সব মিলিয়ে ‘নভেরা.নভেরা’ প্রদর্শনী নভেরা আহমেদকে নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে পুনর্বিবেচনার একটি সুযোগ করে দেয়। বিশেষত তাঁর কম পরিচিত চিত্রকর্মগুলোর উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় যে নভেরাকে শুধু বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের অগ্রদূত হিসেবে নয়, একজন বহুমাধ্যমে কাজ করা শিল্পী হিসেবেও নতুন করে পড়া প্রয়োজন। এই প্রদর্শনীর সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবত এখানেই, এটি নভেরার জীবনকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর শিল্পকে আবারও দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায়।

 

ড. সঞ্জয় চক্রবর্ত্তী

নভেরা নগরের নাগরিকের

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়েই নভেরার মতো শিল্পী শিল্পচর্চার সূচনা করলেও এখনো আমাদের দেশে নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণ যৎসামান্যই। মূলধারার শিল্পচর্চায় নারীর অংশগ্রহণ এখনো হাতে গোনা যায়। এমন পরিস্থিতিতে নভেরা আহমেদের মতো শিল্পীদের বারবার উদযাপন প্রয়োজন

নভেরা নগরের নাগরিকের

আধুনিক শিল্পের ইতিহাসে নারীর অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। কারণ শিল্পের ইতিহাস যেভাবে লেখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়ে গেছে লিঙ্গভিত্তিক ও ক্ষমতাকাঠামোর রাজনীতি, যে রাজনীতি উপেক্ষা করে শিল্পকে দেখা সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্যবাদী পুরুষ যেভাবে শিল্পের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছে, তাতে নারীর সৃষ্টিশীলতাকে করা হয়েছে উপেক্ষা। একদিকে লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যদিকে ক্ষমতার বলয় শিল্পকে ভাগও করে নিয়েছে উচ্চমার্গ ও নিম্নশ্রেণির দোলাচলে। রাজা বা ধর্মের নিরিখে শিল্পকে মূলধারার শিল্প আর গৃহকোণে তৈরি শিল্পকে অন্তঃপুরশিল্প বা কুটির শিল্প বলে দেওয়া হয়েছে নানা নাম; আর করা হয়েছে শ্রেণিবিভাগ। এই ভাবনা থেকে যে আমরা এখনো মুক্ত হতে পেরেছি, তা কিন্তু নয়। ঔপনিবেশিক ভাবনার পরম্পরায় আমরা এখনো শিল্পকে একইভাবে দেখে চলছি।

নভেরা নগরের নাগরিকের

ইউরোপের রেনেসাঁ থেকে আধুনিকতাবাদ পর্যন্ত ‘মহান শিল্পী’র (Great Artist) ধারণাটিতে আমরা প্রায় একচেটিয়াভাবে দেখতে পাই পুরুষ শিল্পীদের। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবে এই প্রশ্ন উঠে আসে—নারীরা কি সত্যিই অনুপস্থিত ছিলেন, নাকি শিল্প-ইতিহাস তাঁদের বাদ দিয়েছে? এই প্রশ্নকে তাত্ত্বিক ভিত্তি দেন Linda Nochlin তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘Why Have There Been No Great Women Artists?’-এ (১৯৭১)। নকলিনের মূল যুক্তি হলো, সমস্যাটি নারীর প্রতিভার অভাব নয়;

নভেরা নগরের নাগরিকের

বরং শিল্পশিক্ষা, একাডেমি, পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রদর্শনব্যবস্থার মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নারীদের দীর্ঘদিন বাইরে রেখেছিল। তবে ইউরোপের এই বোঝাপড়া আবার আমাদের ইতিহাস ভাবনার অবলম্বন;  কারণ ঔপনিবেশিক শিক্ষার পরম্পরায় আমাদের মনোজগতে যে কাঠামো তৈরি হয়েছে, ইউরোপের ইতিহাসকে কোনো এক অবস্থান থেকে নিজেদের ইতিহাস বলেই ভাবতে থাকি। আর এখানেই প্রশ্ন আসে, তাহলে কি আমাদের শিল্পের ইতিহাস আলাদা? এবং উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই আলাদা। আমাদের ইতিহাস আমরা অনেক ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক কাঠামোতে দেখতে এবং দাঁড় করতে ব্যস্ত। ফলে ইউরোপের শিল্প ইতিহাসের কাঠামোতে আমরা যখন শিল্প ইতিহাসে নারী শিল্পী খুঁজতে যাই, তখন তা আর পাই না। আসলে

নভেরা নগরের নাগরিকের

ইউরোপের কাঠামোতে তো আমরা আমাদের শিল্পীদেরই নাম পাই না। কারণ এখানকার শিল্পকে কোনো ব্যক্তি শিল্পীর প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়নি; এখানে শিল্পকে দেখা হয়েছে বরাবর সমষ্টির উদ্যাপন হিসেবে। এখানে কৃষি থেকে স্থাপত্য সকল প্রসঙ্গে নারী-পুরুষ একসঙ্গে শ্রম দেয়। এখনো বাংলার যেকোনো গ্রামে কুমারপাড়ায় দেখতে পাই, একটি হাঁড়ি অথবা কলসি তৈরি হয় নারী ও পুরুষের যৌথ শ্রমে। কারণ হাঁড়ি ও কলসির ওপরের মুখ তৈরি হয় কুমারের চাকায়, যাতে কাজ করে পুরুষ, আর নিচের অংশ তৈরি হয় কাঠের তৈরি ছাঁচে পিটিয়ে পিটিয়ে, যা তৈরি করে নারীরা। একটি নিত্যব্যবহার্য পাত্রই যখন নারী-পুরুষের যৌথ শ্রমে তৈরি হয়, সেখানে বাকি শিল্পের আলোচনা তো অবশ্যই দীর্ঘ হবে। এখানেই আমরা আলোচনায় নিয়ে আসতে পারি প্রাসঙ্গিকভাবে আমাদের শহীদ মিনারকে, যা নভেরা আহমেদ ও হামিদুর রহমানের একটি যৌথ প্রকল্প। অবশ্য পুরুষকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামো বারবার নভেরা আহমেদকে বাদ দিয়ে হামিদুর রহমানকে উদযাপন করতে চেয়েছে শিল্প ইতিহাসে। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত সত্য শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। সবকিছু অতিক্রম করে নভেরা হয়ে উঠেছেন দীপ্তিময়।

নভেরা নগরের নাগরিকের

শহীদ মিনার তৈরির এই যৌথ প্রকল্পে ভাস্কর হিসেবে ছিলেন নভেরা এবং চিত্রশিল্পী হিসেবে ছিলেন হামিদুর রহমান। যেহেতু শহীদ মিনার ছিল একটি ত্রিমাত্রিক কাঠামো এবং যা চিত্রচর্চার চেয়েও অনেক বেশি মাধ্যম বিবেচনায় ভাস্কর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই অবলীলায় ধারণা করা যায়, এই প্রকল্পে তুলনামূলক বেশি শ্রম দিয়েছিলেন নভেরা। ইতিহাসকে পুনঃপাঠের মধ্য দিয়ে হয়তো এই ধারণার সত্য সামনে আসবে। তবে সবকিছু বাদ দিলেও আমরা যে বিষয়টি এখানে নিয়ে আসতে

নভেরা নগরের নাগরিকের

পারি, এই শিল্পটি এক নারী ও এক পুরুষ শিল্পীর যৌথ প্রয়াস। নারী আর পুরুষকে সমান অবস্থান থেকে দেখার অভ্যস্ততা এখানে এই সমাজে অত্যন্ত প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয়তা সমসাময়িক বাস্তবতার কথা ভেবেই আমাদের সামনে আসে। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়েই নভেরার মতো শিল্পী শিল্পচর্চার সূচনা করলেও এখনো আমাদের দেশে নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণ যৎসামান্যই। মূলধারার শিল্পচর্চায় নারীর অংশগ্রহণ এখনো হাতে গোনা যায়। এমন পরিস্থিতিতে নভেরা আহমেদের মতো শিল্পীদের বারবার উদযাপন প্রয়োজন। কারণ ২০২৪-এর আন্দোলনে নারীর অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ আমাদের যে আশার আলো দেখিয়েছিল, সেই চব্বিশের আন্দোলনের পরেই নারী হয়েছে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। দেশজুড়ে ভাঙা হয়েছে শত শত ভাস্কর্য। এখানেই আজকের বাংলাদেশের প্রতিটি নগর ও নগরের নাগরিকের জন্য ভাস্কর নভেরাকে অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ নভেরা একই সঙ্গে নারী এবং ভাস্কর।

নভেরা নগরের নাগরিকের

কিন্তু সমাজের এমন সংকটময় বাস্তবতায় নভেরার জন্য আয়োজিত প্রদর্শনী প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু প্রশংসার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও করা প্রয়োজন। বছরের এই সময়ে যখন প্রকৃতি মেঘের ঘনঘটায় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করে, তখন দর্শক কতটা শিল্প উদযাপনে সক্ষম হয় এবং দর্শকের প্রদর্শনী দেখতে আসার পরিস্থিতির জন্য কতটা অনুকূল? বাংলাদেশে প্রায় সব শিল্পকর্মকাণ্ড যখন ঢাকামুখী, তখন পুরো দেশের মানুষ এমন আয়োজন থেকে উপেক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা কি তৈরি করে না? উপরন্তু প্রদর্শনীতে নভেরার ভাস্কর্যগুলো কি কোনো নির্দিষ্ট ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে সাজানো হয়েছে? নভেরার চিত্রমালায় যতটা উজ্জ্বল রঙের আধিপত্য রয়েছে, বিপরীতে তাঁর ভাস্কর্য অনেক বেশি মৃদু বা হালকা রঙের, ফলে প্রদর্শনীর গ্যালারিতে

নভেরা নগরের নাগরিকের

শিল্পকর্মের আয়োজনে প্রচণ্ড বৈপরীত্য লক্ষণীয়, যা শিল্পের নান্দনিক সৌন্দর্যকে পূর্ণ উপভোগে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। বেশ কিছু ভাস্কর্য শিল্পকর্ম দৃষ্টিসীমার নিচে রাখা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। উপরন্তু অনেকগুলো স্থিরচিত্র তথ্যবিহীনভাবে উপস্থাপিত। হয়তো এসব অপূর্ণতা প্রকাশনার মাধ্যমে পূর্ণতা পাবে। তবে নভেরা আহমেদের মতো একজন কালজয়ী ভাস্কর, যিনি শুধু বাংলাদেশের নন, সমস্ত দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক শিল্প ইতিহাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, এমন শিল্পীর প্রদর্শনী আয়োজনের যে প্রদর্শনী টিম, তাতে ভাস্কর্যশিল্পী ও নভেরা গবেষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

 

 

 

মনিরুল আলম

জলসাঘর জৌলুসহীন

জলসাঘর জৌলুসহীন

রাত অন্তহীন

প্রহর নিদ্রাহীন

অম্বর মেঘহীন

হূদয় প্রেমহীন

জীবন বর্ণহীন

কানন কুসুমহীন

জলসাঘর জৌলুসহীন

তানপুরা সুরহীন

নূপুর নিক্বণহীন

বীণা প্রাণহীন।

 

টোকন ঠাকুর

বোকা ছাত্র

বোকা ছাত্র

ছাত্র নাকি? পড়িস কোথায়?

                  বল তো সব খুলে

আমি তো খুব ভালো ছাত্র

                  ভুলন্ত ইশকুলে

 

নাম কী তোর? থাকিস কি তুই

                  তুলসী নদীর কুলে?

এত প্রশ্নে সব উত্তর

                   গিয়েছি আমি ভুলে

 

বলিস কি তুই? এই অবস্থা?

                  দিগন্তে চোখ তুলে

আমি শুধু বসে থাকি

                   তমাল তরুমূলে

 

পাস করবি? বোকা ছাত্র

                 শার্টের বোতাম খুলে

হেঁটে যাচ্ছিস! ফেটে যাচ্ছিস

                 হাওয়ার মতন ফুলে

 

দুলে যাচ্ছি দুলে

হাওয়ায় ঝুলে ঝুলে...