ইস্তানবুল এমন একটি শহর, যেটি দুটি মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত এবং ইতিহাসের তিন-তিনটি সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৬ সালে ইউরোপের যাত্রাপথে ইস্তানবুল বন্দরে দুই দিন যাত্রাবিরতি করেন, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে শহরে অবতরণ করতে পারেননি। তবে আধুনিক তুরস্কের জনক কামাল আতাতুর্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে লেখেন, ‘আপনার দেশ দেখার সৌভাগ্য হল না, এ আমার চিরকালের আক্ষেপ হয়ে থাকবে।’ তবে রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’, ‘গল্পগুচ্ছ’ সেই ১৯২০-এর দশকেই তুর্কি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল; এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বাংলা বিভাগ আছে। অবশেষে কবিগুরুর আক্ষেপ মেটাতে ঠিক ১০০ বছর পর ২০২৬ সালে তাঁর এক নগণ্য ভক্ত সেই ইস্তানবুল শহরে অবতরণ করার সুযোগ পেল!

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যবহৃত পাদুকা
প্রথম ধাপ : গোড়াপত্তন
এখন থেকে দুই হাজার ৭০০ বছর আগে (খ্রিস্টপূর্ব ৬৫৭ সালে) গ্রিকদের দ্বারা এই শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল। তখন এর নাম ছিল বাইজানশন। জলপথ ও স্থলপথের সংযোগস্থল হওয়ায় এটি বিশ্ববাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছিল।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পায়ের ছাপ
দ্বিতীয় ধাপ : রোমান সাম্রাজ্য
৩৩০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টিন দ্য গ্রেট এই শহরকে নতুন রূপে গড়ে একে রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেন Nova Roma বা নতুন রোম। পরে তাঁর নামেই এই শহর কনস্টান্টিনোপল নামে পরিচিত হয়। এক হাজার ১০০ বছর এটি বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে কার্যকর ছিল। হায়া সোফিয়া, থিউডোরিসিয়ান প্রাচীরসহ অসংখ্য স্থাপত্য রোমান সাম্রাজ্যের নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

হজরত ফাতিমার ব্যবহৃত বিয়ের নেকাব
তৃতীয় ধাপ : উসমানীয় সাম্রাজ্য
১৪৫৩ সালে উসমানীয় খলিফা ২১ বছর বয়সী দ্বিতীয় মুহাম্মদ টানা ৫৩ দিন অবরোধ করে কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটান। শহরের নতুন নামকরণ হয় ইস্তানবুল। ‘ইস্তানবুল’ শব্দটি এসেছে গ্রিক Eistin Polin বা ‘শহরের দিকে’ শব্দ থেকে। দখলের পর দ্বিতীয় মুহাম্মদ ইস্তানবুলকে সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। হায়া (হাগিয়া) সোফিয়া চার্চকে মসজিদে রূপান্তর করেন এবং রোমান সাম্রাজ্যের অনেক স্থাপত্য মুসলিম স্থাপত্যের আদলে গড়ে তোলেন।
![ইস্তানবুলের যাত্রী : শতবর্ষ পরে [Click and drag to move] ](https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2026/05.May/21-05-2026/Rif/6a0f47e3f17ca.jpg)
হজরত মুসা (আ.)-এর ঐতিহাসিক লাঠি
আধুনিক ধাপ : কামাল আতাতুর্কের প্রজাতন্ত্র
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য জার্মানির সঙ্গে মিলে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ক্ষয়িষ্ণু শক্তি উদীয়মান শক্তির সঙ্গে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশাল উসমানীয় (অটোমান) সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি আমেরিকার সঙ্গে মিলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য টুকরা টুকরা করে ভেঙে দিয়ে আরবদের কতগুলো তাঁবেদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। আজকের ফিলিস্তিন সংকট সেখান থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের সঙ্গে সঙ্গে মিত্রশক্তি সমগ্র তুরস্ক দখল করে। দখলকৃত তুরস্কের মুক্তির জন্য কামাল আতাতুর্ক (আতা মানে পিতা আর তুর্ক মানে তুর্কি, অর্থাৎ তুর্কির পিতা) সংগ্রাম করেন। তারই ফলে ১৯২৩ সালে নতুন তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে রাজধানী দেশটির মধ্যস্থান বরাবর আংকারায় স্থানান্তরিত হয়। তা সত্ত্বেও ইস্তানবুল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইউরোপের সবচেয়ে জনবহুল (১৫ মিলিয়ন) শহর এবং ইউরোপ ও এশিয়ার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে আসছে। তুরস্ক ট্যুরিস্টদের পদচারণে পৃথিবীর পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম। ৮৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশে গতবারের ট্যুরিস্টদের সংখ্যা ৬৫ মিলিয়ন। বিশ্বের নামকরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইস্তানবুলের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্যতম। কসমেটিক সার্জারিতে ইস্তানবুলের খ্যাতি জগত্ব্যাপী। বিশেষ করে টাক মাথা আর বোঁচা নাকের সমাধান এই ইস্তানবুলে। বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ইস্তানবুল বিমানবন্দর অন্যতম।
ইস্তানবুল শুধু দুটি মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত নয়; এটি বিশ্বের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যেখানে উত্তরে কৃষ্ণ সাগর এবং দক্ষিণে মারমারা সাগরকে একটি সরু জলপথ বসফরাস প্রণালি দিয়ে যুক্ত করেছে। মারমারা সাগর আবার আরো একটি ছোট প্রণালি দার্দানেলিস দিয়ে দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশগুলো, যেমন—রাশিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক ও জর্জিয়া সবার বিশ্ববাণিজ্য এই বসফরাস প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বসফরাস প্রণালির চাবি তুরস্কের হাতে থাকায় ওপরের সবগুলো দেশের বিশ্ববাণিজ্য তার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের হিসাবে তুরস্কের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১৮ হাজার ১৯৮ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা দুই হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার, আর খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তা ৮৯ হাজার ৫৯৯ ডলার!)।
ইস্তানবুলের (ইস্তাম্বুল নয়) মূল আকর্ষণ হলো এর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো, গ্রিক সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে উসমানীয় সাম্রাজ্য পর্যন্ত যার বিস্তৃতি।
বসফরাস প্রণালির পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় অংশে মূল স্থাপনাগুলো অবস্থিত। সবচেয়ে আলোচিত স্থাপনাগুলো হলো হায়া সোফিয়া (‘হাগিয়া’কে এরা ‘হায়া’ উচ্চারণ করে), সুলতান আহমেদ কর্তৃক নির্মিত ব্লু মসজিদ এবং উসমানীয় সম্রাটদের (যাকে ইসলামী খেলাফত নামে অভিহিত করা হয়) বাসস্থান তোপকাপি প্রাসাদ।
![ইস্তানবুলের যাত্রী : শতবর্ষ পরে [Click and drag to move] ](https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2026/05.May/21-05-2026/Rif/6a0f47e57215c.jpg)
হজরত ওসমান (রা.)-এর তরবারি
হায়া সোফিয়া : পৃথিবীর প্রথম আধুনিক চার্চ
৩৩০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টিন এর প্রাথমিক কাঠামোটি নির্মাণ করেন এবং সম্রাট জাস্টিনিয়ান ৫৩৭ সালে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ডোম নিয়ে এর নির্মাণকাজ শেষ করেন। ৮২ মিটার উঁচু এবং ৭৪ মিটার প্রস্থের এই বিশাল নান্দনিক কাঠামোর আর্কিটেক্ট ছিলেন ইসিডোর ও এন্থেমিয়াস। ১৪৫৩ সালে অটোমানদের দখলে আসা পর্যন্ত এটা ছিল খ্রিস্টানদের সর্ববৃহৎ ক্যাথেড্রাল। কামাল আতাতুর্কের শাসনামলে ১৯৩৫ সালে এটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালে একে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করা হয়। পাশাপাশি মিউজিয়ামের কার্যক্রমও চলমান। সারা পৃথিবীর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভবন। এখনো এর ছাদে যিশুখ্রিস্টের ফ্রেস্কো এবং ইসলামের ক্যালিগ্রাফি পাশাপাশি বিদ্যমান রয়েছে। বিরোধ ও সহাবস্থানের একটি সৌন্দর্য পাশাপাশি পরস্ফুিটিত হয়েছে।
সুলতান আহমেদের ব্লু মসজিদ
হায়া সোফিয়ার অদূরেই দাঁড়িয়ে আছে অটোমান স্থাপত্য ও আভিজাত্যের প্রতীক ব্লু মসজিদ। ২০ হাজার নীল ইজনিক টাইলস দিয়ে আবৃত এই বিশাল নান্দনিক স্থাপত্য আজও মুসলমানদের কাছে এক পবিত্র ও গর্বের জায়গা। ১৬০৯ থেকে ১৬১৬ সালে নির্মিত এই মসজিদ অটোমান সাম্রাজ্যের স্থাপত্যের একটি মাস্টার পিস। মারমারা সাগরের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই নীল মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে আসেন।
তোপকাপি প্রাসাদ : জীবন্ত ইতিহাস
উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ ১৪৬৫ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত এটি সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র ও সুলতানদের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুলতানদের অন্দরমহলের জীবনযাত্রা নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহ ও কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রাজকীয় নারী বন্দিদেরকে সুলতানদের ভোগবিলাসের কাজে ব্যবহারের বেদনাময় ঘটনা লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাঁদের আলোচিত হেরেমখানার গল্প আমরা কমবেশি সবাই জানি। টিভি সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’-এর সেই ভুবনমোহিনী হুররমের বাসস্থান এটি। তবে প্রাসাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তার জাদুঘর। এখানে নবী মুহাম্মদ (সা.), প্রথম যুগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খলিফা, তাঁদের পরিবারবর্গ, ইসলামের ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনকারী বিভিন্ন বীর যোদ্ধার ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও আর্টিফ্যাক্টস, গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র ও দলিলাদির বড় কালেকশন মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হয়েছে, যেমনটা ওয়াহাবি মতাদর্শের অনুসারী আরবদেশগুলোতে দেখা যায় না। ঐতিহাসিক উপাদানগুলো রক্ষা করার অটোমানদের সদিচ্ছার যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন রয়েছে। এই কক্ষে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা একজন মৌলভি অনবরত কোরআন তিলাওয়াত করে চলেছেন।
তোপকাপি প্রাসাদের আরেক দিকে রয়েছে ট্রেজারি, যেখানে সুলতানদের ব্যবহৃত অতি মূল্যবান সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে। দিল্লির বিখ্যাত মুকুট কোহিনূরের (১০৬.৫ ক্যারেট) কাছাকাছি ৮৬ ক্যারেটের Spoonmaker’s diamond আজও এখানে অটোমানদের হারিয়ে যাওয়া গৌরবগাথার নিদর্শন হয়ে আছে।
রাতের ইস্তানবুল
দিনের ঝকঝকে আলোর অবসানে রাতের ইস্তানবুল এক মোহময় রহস্যময়তায় নিজেকে আবৃত করে। বসফরাসের নীল আলোয় নিয়ন বাতির নীল আলো মিশে গিয়ে এক ঐন্দ্রিলার রূপ ধারণ করে। সেই জালে না জড়িয়ে আপনার গত্যন্তর নেই। সবচেয়ে বড় আকর্ষণজাল হলো রাতের রহস্যময়তার কুহকে বসফরাসে তরি ভাসিয়ে দেওয়া। নানা দেশের নানা বেশের বহু বর্ণের মানুষের এক মিলনোৎসবে পরিণত হয় বসফরাসের বুবুক্ষু বক্ষ। তার পুরনো হৃদয়ে আবার নতুন প্রেমের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। ঊর্ধ্বাকাশে লক্ষ কোটি নক্ষত্ররাজি ঝিকিমিকি পুষ্পের ডালা সাজিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাতে অধীর অপেক্ষায় আছে।
এ রকম অসংখ্য ক্রুজ আমোদিত যাত্রীদের নিয়ে প্রতিদিন আনন্দযাত্রা শুরু করে। তুরস্কের খাবার বিশ্ববিখ্যাত। সেসব ভোগ করে দুর্ভোগ পোহানোর বয়স কালের গর্ভে বিলীন। তাই কিঞ্চিৎ ভক্ষণ আর কিঞ্চিৎ দর্শন করে সাধ আর সাধ্যের সমঝোতায় উপনীত হতে হয়। তবে ভূরিভোজ করতে না পারলেও জীবনের নানা সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ আপনার রয়েছে। একটা বয়সে পেটের ক্ষুধার চেয়ে প্রাণের আরাম মেটাতে বেশি শান্তির। তাই কিছুক্ষণ ছাদে গিয়ে অবারিত আকাশের আলোকিত নক্ষত্রের অসীম গভীরতায় নিজেকে নিমজ্জিত করুন। তারপর একসময় নিচে বাদ্যযন্ত্রের মৃদু আওয়াজ পেলে নেমে আসুন। প্রথমেই কবি দার্শনিক রুমির দরবেশ নাচের মোহাচ্ছন্নতায় নিজেকে সমর্পণ করুন। তারপর ধীরে ধীরে তুরস্কের নিজস্ব লোকায়ত সংস্কৃতি ও সংগীতের তালে তালে না চাইলেও আপনার মন নেচে উঠবে। রাত যত গভীরে গড়াবে, ততই সংগীতের ছন্দে ও নৃত্যের তালে পরিবর্তনের আভাস পাবেন। আর এ কথা কে না জানে যে, মধ্যপ্রাচ্য ও দূরপ্রাচ্যের আনন্দযাত্রা কখনোই পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ পর্যন্ত না আকাশ থেকে নেমে আসা উর্বশী অপ্সরাদের ব্যালে নৃত্যের ঝংকারে আপনার তন্দ্রাভঙ্গ হয়!