• ই-পেপার

পাতে বাঙালিয়ানা

  • শারদীয় আয়োজনে ডাইনিংটেবিল সাজাতে পারেন সুস্বাদু সব বাঙালি খাবার দিয়ে। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী সুতপা দে

রেসিপি

আরো তিন পদ

পূজায় পাতে তোলার জন্য  ভিন্ন রকমের আরো চার পদের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী বীথি শাহনাজ

আরো তিন পদ

বাসন্তী পোলাও

 

উপকরণ

সুগন্ধি পোলাওয়ের চাল ১ কাপ

জাফরান ১ টেবিল চামচ

ঘি ৩ টেবিল চামচ

চিনি আধা কাপ

ছোট এলাচ ৫-৬টি

দারচিনি ১ টুকরা

তেজপাতা ৪-৫টি

কিশমিশ ১ টেবিল চামচ

কাজু/পেস্তা বাদাম ১ টেবিল চামচ

লবণ স্বাদমতো

গোলাপ জল ১ টেবিল চামচ

পানি ২ কাপ

আরো তিন পদ

 

যেভাবে তৈরি করবেন

*   চাল ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। লবণ, চিনি আর জাফরান গুঁড়া করে নিন। এবার চালের সঙ্গে গুঁড়া করা জাফরান, লবণ, চিনি আর অর্ধেকটা ঘি ভালো করে মেখে ৫ মিনিট রাখুন। চুলায় প্যান দিয়ে ঘি গরম করে তাতে কাজুবাদাম, কিশমিশ হালকা করে ভেজে নিয়ে উঠিয়ে রাখুন। এবার এলাচ, দারচিনি আর তেজপাতা দিয়ে চালটা কিছুক্ষণ ভেজে নিন। ভাজা হলে পানি দিয়ে দমে রেখে দিন। এরপর ঢাকনা খুলে ভেজে রাখা কাজুবাদাম, কিশমিশ, গোলাপ জল দিয়ে আবারও কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে দিন। এবার নেড়ে সব মিশিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।

 

রাধাবল্লভী

উপকরণ

 

ময়দা ১ কাপ

মাষকলাই ডাল বাটা ১.৫ কাপ

আদা বাটা ২ চা চামচ

কাঁচা মরিচ বাটা ২ চা চামচ

মৌরি গুঁড়া ২ চা চামচ

তেল পরিমাণমতো

লবণ স্বাদমতো

 

আরো তিন পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*    মাখার জন্য একটা পাত্রে ময়দা নিন। এবার দু-তিন চা চামচ ডাল বাটা, ১ চা চামচ আদা বাটা, ১ চা চামচ কাঁচা মরিচ বাটা, আধা চা চামচ মৌরি গুঁড়া, স্বাদমতো লবণ আর সামান্য তেল দিয়ে ময়দা মেখে একটা ডো বানিয়ে নিন।

*  পুরের জন্য একটি কড়াইয়ে সামান্য তেল দিয়ে তাতে বাকি ডাল বাটা, আদা বাটা, কাঁচা মরিচ বাটা, মৌরি গুঁড়া, সামান্য লবণ দিয়ে চুলায় বসান। চুলার আঁচ মিডিয়াম টু লো রেখে ডালটা নেড়ে নেড়ে ভাজুন। ডালের পানি শুকিয়ে গেলে তুলে একটা পাত্রে রাখুন।

*   এবার ময়দার ডো কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিন। এক ভাগ নিয়ে গোল করে তাতে কিছুটা তালের পুর ভরে লুচির মতো বেলে নিন। এভাবে সব কটি রেডি হলে চুলায় তেল গরম করতে দিন। এবার একটা করে রাধাবল্লভী ডুবো তেলে ভেজে তুলে নিন। সবগুলো ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

বাসন্তী পায়েস

উপকরণ

সুগন্ধি পোলাওয়ের চাল আধা কাপ

চিনি দেড় কাপ বা পছন্দ অনুযায়ী

ঘন দুধ ৪ কাপ বা ক্রিম ২ কাপ

ঘি ১ টেবিল চামচ

ছোট এলাচ ৫-৬টি

দারচিনি ছোট একটুকরা

তেজপাতা ১টি

জাফরান ২ টেবিল চামচ

গোলাপ জল ১ টেবিল চামচ

 

আরো তিন পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*    চাল ভালো করে ধুয়ে এলাচ, দারচিনি,  তেজপাতা দিয়ে ঘিতে সামান্য ভেজে নিন। এবার দুধের সঙ্গে সিদ্ধ করে নিন। জাফরান আর চিনি গুঁড়া করে নিন। এবার চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে চিনি আর গুঁড়া করা জাফরান দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন, যেন তলায় লেগে না যায়। পায়েস ঘন হয়ে এলে কাজুবাদাম, কিশমিশ আর গোলাপ জল দিয়ে নামিয়ে নিন।

*    এবার পাত্রে ঢেলে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

 

 

 

রেসিপি

পূজার আহারে বাহারি খাবার

জমজমাট পূজায় চাই জম্পেশ খাবার। বাহারি খাবার ছাড়া কি পূজার আনন্দ পূর্ণ হয়! শারদীয় দুর্গোত্সব উপলক্ষে বাহারি কয়েক পদের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী অসিত কর্মকার সুজন

পূজার আহারে বাহারি খাবার

চিংড়ি মালাইকারি

উপকরণ

বড় সাইজের চিংড়ি ৮-১০টি

(খোসা ছাড়িয়ে লেজ রেখে পরিষ্কার)

নারকেলের দুধ ১ কাপ

পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ

আদা বাটা ১ চা চামচ

রসুন বাটা ১ চা চামচ

কাঁচা মরিচ ৪-৫টি

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ

লাল মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ

গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ

সরিষার তেল ৩ টেবিল চামচ

লবণ পরিমাণমতো

চিনি আধা চা চামচ

পূজার আহারে বাহারি খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

*   চিংড়িতে সামান্য লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে চিংড়ি হালকা ভেজে তুলে নিন।

*   একই তেলে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে নেড়ে নিন, তারপর আদাু-রসুন বাটা দিয়ে ভাজুন। হলুদ, মরিচ গুঁড়া ও সামান্য লবণ দিয়ে কষান।

*  নারকেলের দুধ ঢেলে মিশিয়ে ফুটতে দিন। চিংড়ি যোগ করে ৩ু৪ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। শেষে গরম মসলা ও সামান্য চিনি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

 

দম মাটন

উপকরণ

মাটন ১ কেজি (হাড়সহ ছোট ছোট টুকরা)

পেঁয়াজ ৩-৪টি (পাতলা স্লাইস করা)

টমেটো ২টি (কুচি করা)

দই আধা কাপ

আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ

কাঁচা মরিচ ৪-৫টি

গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ

ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ

জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ

লাল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ (স্বাদমতো)

ঘি বা তেল ৫ টেবিল চামচ

লবণ স্বাদমতো

কাচা ধনেপাতা (সাজানোর জন্য)

 

পূজার আহারে বাহারি খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

*    মাটনে দই, আদা-রসুন বাটা, লবণ ও হলুদ মেখে ১ ঘণ্টা মেরিনেট করুন। কড়াইয়ে ঘি বা তেল গরম করে পেঁয়াজ সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে তুলুন।

*    একই তেলে কাঁচা মরিচ, ধনে গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, লাল মরিচ ও টমেটো দিয়ে কষান। মেরিনেট করা মাটন যোগ করে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট ভাজুন।

*   পানি সামান্য দিয়ে ঢেকে কম আঁচে ৪০-৫০ মিনিট বা মাটন নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। গরম মসলা ছিটিয়ে ঢেকে আরো ৫ মিনিট রাখুন। কাঁচা ধনেপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

 

 

সবজি পোলাও

উপকরণ

 

চিনিগুঁড়া চাল ২ কাপ

মিক্সড সবজি ১ কাপ

(গাজর, মটর, ফ্লাওয়ার, ফ্রেন্ড বিন

ইত্যাদি ছোট কিউব করে)

আদা বাটা ১ চা চামচ

গরম মসলা ১ চা চামচ

দারচিনি ১ ইঞ্চি

এলাচ ৪-৫টি

লবঙ্গ ৩-৪টি

তেজপাতা ১টি

ঘি বা তেল ৩ টেবিল চামচ

লবণ স্বাদমতো

পানি ৪ কাপ

কাঁচা ধনে বা পুদিনাপাতা (সাজানোর জন্য)

পূজার আহারে বাহারি খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

*    চাল ধুয়ে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। কড়াইয়ে ঘি বা তেল গরম করে দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা ভেজে সুগন্ধ বের করুন। আদা বাটা মেশান।

*    মিক্সড সবজি যোগ করে ২-৩ মিনিট নেড়ে কষান। ধোয়া চাল মিশিয়ে গরম মসলা ও লবণ দিয়ে ২ মিনিট নেড়ে নিন।

*    পানি ঢেলে ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট, তারপর কম আঁচে ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রান্না করুন, যতক্ষণ না চাল পুরোপুরি সিদ্ধ হয়। ঢাকনা খুলে হালকা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

 

 

ভাপা সন্দেশ

 

উপকরণ

ছানা ২৫০ গ্রাম (ফ্রেশ বা বাড়িতে তৈরি)

চিনি ৩-৪ টেবিল চামচ (স্বাদমতো

কম-বেশি করা যায়)

এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ

কেশর কয়েক সুতা (ঐচ্ছিক, রং ও স্বাদের জন্য)

দুধ ২ টেবিল চামচ (ছানা মসৃণ করতে)

সাজানোর জন্য পেস্তা বা বাদাম কুচি

 

উৎসব

যেভাবে তৈরি করবেন

*    ছানা ভালোভাবে চেপে পানি ঝরিয়ে নিন। যদি কিছুটা শুকনা লাগে তাহলে ২ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে নরম মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।

*    ছানার সঙ্গে চিনি, এলাচ গুঁড়া ও কেশর ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণকে ছোট সিলিকন বা ধাতব কাপ বা মোল্ডে ঢালুন।

*   সিদ্ধ পানির ওপর রেখে ঢাকনা দিয়ে ১০-১২ মিনিট ধাপে ধাপে ভাপে রান্না করুন। ভাপে দেওয়া হলে সন্দেশ নরম ও মসৃণ হয়। ভাপা সন্দেশ ঠাণ্ডা হলে মোল্ড থেকে বের করুন। ওপর থেকে কাটা বাদাম বা পেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

 

 

সাবেকি পায়েস

উপকরণ

 

চিনিগুঁড়া চাল আধা কাপ

দুধ ১ লিটার

চিনি পৌনে ১ কাপ

(স্বাদমতো কম-বেশি করা যায়)

এলাচ ৪-৫টি (পিস করে বা গুঁড়া)

কেশর ৫-৬ সুতা (ঐচ্ছিক)

কিশমিশ ২ টেবিল চামচ

বাদাম (কাজু, পেস্তা) ২ টেবিল চামচ কাটা

ঘি ১ টেবিল চামচ

 

সাবেকি পায়েস

 

যেভাবে তৈরি করবেন

*   চাল ধুয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। কড়াইয়ে দুধ ফুটিয়ে নিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন, যাতে তলার দিকে পুড়ে না যায়।

*   ফুটন্ত দুধে ধোয়া চাল ঢেলে ১৫-২০ মিনিট কম আঁচে নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। চিনি মিশিয়ে চিনি গলে যাওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।

*   এলাচ গুঁড়া ও কেশর যোগ করুন। কিশমিশ, কাটা বাদাম ও সামান্য ঘি ওপরে ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

 

 

 

নারকেলি মুরগি

উপকরণ

মুরগির মাংস ১ কেজি (হাড়সহ টুকরা)

নারকেলের দুধ ১ কাপ

পেঁয়াজ ২টি (বাটার মতো পেস্ট করা)

আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ

কাঁচা মরিচ ৪-৫টি (ঐচ্ছিক)

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ

লাল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ

ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ

জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ

তেল বা ঘি ৪ টেবিল চামচ

লবণ স্বাদমতো

গরম মসলা ১ চা চামচ

কাঁচা ধনেপাতা (সাজানোর জন্য)

পূজার আহারে বাহারি খাবার

 

যেভাবে তৈরি করবেন

 

*    মুরগির মাংস সামান্য লবণ ও হলুদ দিয়ে ১০ মিনিট মেরিনেট করুন। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ বাটা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।

*   আদা-রসুন বাটা, ধনে গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও লাল মরিচ যোগ করে ২ মিনিট কষান। নারকেলের দুধ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ৫ মিনিট ফোটান।

*   মেরিনেট করা মুরগি যোগ করে ঢেকে ২০-২৫ মিনিট কম আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ মুরগি পুরোপুরি সিদ্ধ হয়। কাঁচা মরিচ ও গরম মসলা যোগ করে ২ মিনিট ঢেকে রাখুন। নামানোর আগে কাঁচা ধনেপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

 

পদ্মলুচির পায়েস

উপকরণ

 

দুধ ১ লিটার

কাজুবাদাম বাটা আধা কাপ

খেজুরের গুড় ২ চা চামচ

ময়দা ১ কাপ

চিনি ১ চা চামচ

তেল ১ চা চামচ

লবণ স্বাদমতো

পুরের জন্য

নারকেল কুচি আধা কাপ

ড্রাই ফ্রুটস ২ টেবিল চামচ

তেল পরিমাণমতো

ঘি আধা কাপ

 

পূজার আহারে বাহারি খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

 

*    প্রথমে একটা বাটিতে ময়দা এবং ময়ানের জন্য তেল ও চিনি আর একচিমটি লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ওর মধ্যে অল্প অল্প করে পানি দিয়ে একটা ডো তৈরি করে নিন। ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন।

*    এবার কড়াইতে দুধ দিয়ে জ্বাল দিন।

*    দুধ ঘন হয়ে এলে বাদাম বাটা দিয়ে মিশিয়ে নিন। এরপর কালার ও সুগন্ধের জন্য খেজুরের গুড় দিয়ে মিশিয়ে নামিয়ে নিন।

*    ১০ মিনিট পর ডো থেকে বড় বড় লেচি কেটে বেলে নিন, আর একটা কুকিজ কাটার দিয়ে গোল করে কেটে নিন। তারপর নারকেল কোরা ও ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে নিন।

*   এবার কেটে রাখা রুটি একটা করে রেখে তার ওপর নারকেল ও ড্রাই ফ্রুটসের পুর দিয়ে দিয়ে পাশ থেকে আস্তে আস্তে পেঁচিয়ে ডিজাইন বানিয়ে নিন। সবগুলো একইভাবে তৈরি করে নিতে হবে।

*    এরপর কড়াইয়ে তেল ও ঘি দিন। গরম হলে মিডিয়াম আঁচে পদ্মলুচিগুলো ভেজে তুলে নিন। এবার তৈরি ক্ষীরের মধ্যে পদ্মলুচিগুলো দিয়ে দিন।

 

 

সপ্তপদী খিচুড়ি

 

উপকরণ

 

চিনিগুঁড়া চাল ৩ কাপ

মুগ ডাল ১ কাপ

বিভিন্ন রকম সবজি ২ কাপ (গাজর, ফ্লাওয়ার, মটর, আলু, কুমড়া, বাঁধাকপি, শিম)

আদা বাটা ১ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ

জিরা ১ চা চামচ

তেজপাতা ১টি

তেল বা ঘি ৩ টেবিল চামচ

লবণ স্বাদমতো

কাঁচা ধনেপাতা (সাজানোর জন্য)

পানি ৪ কাপ

পূজার আহারে বাহারি খাবার

 

যেভাবে তৈরি করবেন

 

*    চাল ও ডাল ধুয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। কড়াইয়ে তেল বা ঘি গরম করুন। জিরা ও তেজপাতা ভেজে সুগন্ধ বের করুন।

*    আদা বাটা যোগ করে ২ মিনিট কষান। সবজি যোগ করুন। হলুদ গুঁড়া ও লবণ মেশান।

*    ধোয়া চাল ও ডাল কড়াইয়ে ঢেলে ১-২ মিনিট নেড়ে নিন। পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১৫-২০ মিনিট রান্না করুন।

*    সবজি ও চাল পুরোপুরি নরম হলে নামিয়ে নিন। ওপরে কাঁচা ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

সয়াবড়ি কষা

উপকরণ

 

সয়াবড়ি ১ কাপ

আলু ২টি (মাঝারি, কিউব করে কাটা)

আদা বাটা ১ টেবিল চামচ

টমেটো কুচি ১টি

গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ

লাল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ (রুচিমতো)

ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ

জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ

তেজপাতা ১টি

দারচিনি ১ টুকরা

লবঙ্গ ২টি

এলাচ ২টি

লবণ স্বাদমতো

তেল ৪ টেবিল চামচ

কাঁচা মরিচ ২-৩টি

ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ

 

পূজার আহারে বাহারি খাবার

 

যেভাবে তৈরি করবেন

 

*   গরম পানিতে একচিমটি লবণ দিয়ে সয়াবড়ি ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর চেপে পানি ঝরিয়ে নিন।

*    কিউব করে কাটা আলুতে সামান্য লবণ মেখে হালকা সোনালি করে ভেজে তুলুন। কড়াইয়ে তেল গরম করে তেজপাতা, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ দিয়ে ফোড়ন দিন।

*   পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি করে ভাজুন। আদা  বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ দূর হওয়া পর্যন্ত নেড়ে দিন। হলুদ, লাল মরিচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া দিয়ে সামান্য পানি ছিটিয়ে ভাজুন।

*    টমেটো কুচি দিয়ে ঢেকে নরম করে নিন। তেল ছেড়ে এলে সয়াবড়ি ও ভাজা আলু দিয়ে ভালোভাবে কষান। ২ কাপ গরম পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে ১০-১২ মিনিট রান্না করুন। ঝোল ঘন হলে গরম মসলা গুঁড়া, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা ছড়িয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।

 

 

 

 

খাবার

নিরামিষের খোঁজে

তারিকুর রহমান খান

নিরামিষের খোঁজে
উৎসবের দিনগুলোতে নিরামিষ পাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই।ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

নিরামিষভোজন মতবাদের মূল খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন ভারতের সনাতন ধর্মে। এর অনুসারী এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের কিছু জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাসে ছিল নিরামিষ। নিরামিষভোজন হচ্ছে স্বেচ্ছায় কোনো ধরনের মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, প্রাণীর মাংস, সামুদ্রিক প্রাণী না খাওয়ার তত্ত্ব, অভ্যাস ও অনুশীলন। তবে নিরামিষ এখন আর নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উত্সবের দিনগুলোতে সবাই নিরামিষ পাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই পূজার দিনগুলোতে বাড়িতে নিরামিষের নানা পদ তৈরি করে থাকেন। পরিবারের জন্য কিংবা অতিথি আপ্যায়নে নিরামিষ জনপ্রিয় একটি খাদ্য উপকরণ। তবে যাঁরা বাসায় নিরামিষ রান্না করে উঠতে পারেন না, তাঁরা কি নিরামিষ খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন? নিশ্চয়ই না। পুরান ঢাকার অলিগলিতে এখনো রয়েছে এমন কিছু ভোজনালয়, যেখানে গেলেই পেট ও মন ভরে খাওয়া যাবে নিরামিষের নানা পদ।

এই নিরামিষ ভোজনালয়গুলো ধরে রেখেছে পুরান ঢাকার এক অনন্য ঐতিহ্য। একটু ভিন্ন ও ঘরোয়া স্বাদ নিতে চাইলে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার নিরামিষ হোটেলগুলোতে। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাঁরা পূজা দেখতে যাবেন, মন্দিরের ঠিক পাশেই পাবেন নিরামিষের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।

এ ছাড়া গ্রিন রোডেও রয়েছে একটি বিখ্যাত ভোজনালয়। পূজার এই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পূজামণ্ডপে প্রতিমা দেখার উত্সবে যাঁরা নিরামিষের স্বাদ নিতে চান, তাঁদের জন্য ঢাকার সেরা নিরামিষ ভোজনালয়ের খোঁজ

জগন্নাথ ভোজনালয়

ঢাকায় সনাতন ধর্মের বেশি মানুষের বাস তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজার এলাকায়। দুর্গাপূজার সময় এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মণ্ডপ স্থাপন করা হয়। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মানুষ পূজা দেখতে আসে। পূজা দেখা এবং নিরামিষ খাবার খাওয়া যদি একই সঙ্গে হয়, তাহলে তো উত্সব-আনন্দ আরো জমে ওঠে। পুরান ঢাকায় নিরামিষভোজীদের ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি নিরামিষ হোটেল। এর মধ্যে অন্যতম জগন্নাথ ভোজনালয়। ২০০৫ সালে নিতাই পাল শুরু করেন ভোজনালয়টি। এখানে ভর্তা, ডাল, ছানা, বড়া, সয়াবিন, রসা, ধোকা, পুষ্পান্ন, খিচুড়ি, সাগুদানা ভুনা, ছানার রসা, ফুলকপির রসা ও পাঁচমিশালি সবজি পাওয়া যায়। এ ছাড়া রসা, লাবড়া, শুক্তো, ধোকাসহ ভর্তা পাওয়া যায় ৮-১০ রকমের। ডাল পাওয়া যায় তিন-চার রকমের। শাকও পাবেন পাঁচ রকমের। শেষপাতে শ্যামাদানার পায়েস আর চাটনি তো রয়েছেই। সব তরকারির দাম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকার মধ্যে। ভাত প্রতি প্লেট ১৫ টাকা। মূলত নিরামিষ আহারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কথা চিন্তা করে হোটেলটি প্রতিষ্ঠা করা হলেও সব ধর্মের মানুষের জন্যই এটি উন্মুক্ত। রয়েছে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও।

জগন্নাথ ভোজনালয়ের অবস্থান ১১০ নম্বর তাঁতীবাজারে একটি ভবনের দোতলায়। নিচতলায় আছে পুষ্প নামের একটি জুয়েলারি দোকান। তাঁতীবাজার শিবমন্দিরের কাছ থেকে সহজেই যাওয়া যায়। একই নামে স্বামীবাগেও রয়েছে আরেকটি নিরামিষ খাবারের দোকান।

নিরামিষের খোঁজে
পূজায় দিন-রাত ঘোরাঘুরিতে খাবার খেতে যেতে পারেন ঢাকার নিরামিষ খাবারের দোকানগুলোতে।ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়

পুরান ঢাকার বিখ্যাত হোটেল অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়। ইসকনভক্ত দ্বারা পরিচালিত হোটেলটির নিরামিষ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের জন্য সুখ্যাতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাজ ঘোষ জানান, প্রতিমা দেখার পাশাপাশি অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়ে নিরামিষের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুর্গাপূজার সময় ১৫ থেকে ২০ পদের খাবার পাওয়া যায়। প্রতিটি আইটেমের দাম ১৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। ২৫টির বেশি যেকোনো আইটেম দিয়ে পছন্দের সেট মেন্যু তৈরি করতে পারবেন নিরামিষপ্রিয়রা। খাবার বাসায় নিয়ে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। রয়েছে অনলাইলে অর্ডার করার সুযোগ। অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়ে ঘি, সয়াবিন, সূর্যমুখী তেল, সাগুদানাসহ বিভিন্ন ধননের সুস্বাদু প্যাকেটজাত ভাজা খাবার পাওয়া যায়।

পূজা উপলক্ষে ৪ নম্বর তাঁতীবাজারে অবস্থিত ভোজনালয়টি সারা রাত খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন রাজ ঘোষ।

 

আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্ট

তাঁতীবাজারেই অবস্থিত আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্ট। হরেক রকমের সবজি দিয়ে তৈরি নানা পদের মুখরোচক নিরামিষ পাওয়া যায় এখানে। আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টটিও পরিচালনা করছেন ইসকন অনুসারীরা। পূজার সময় ১৫-২০ পদের নিরামিষ পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টটিতে পাওয়া যায় কাশ্মীরি পনির, বাদাম পনির, ছানার ধোকা, সয়াবিন সবজি, ডালের বড়ার রসা, লালশাক, পুঁইশাক, পাঁচমিশালি সবজি, আলু, পটোল ও মৌসুমের সময় ফুলকপি, বাঁধাকপি।

নিরামিষের খোঁজে

এ ছাড়া নিয়মিত পাওয়া যায় কচুশাক, ছানারসা তরকারি, পটোল ভাপা, মুগ ডাল, বুট ডাল, টক ডাল, লাউয়ের ডগা, জলপাইয়ের চাটনি, বেগুনি, সাম্বার, ম্যাকারনি, শিমের বিচি, ডালের বড়া, সয়াবিন সবজি, পাতলা ডাল, কচুর লতি, করলা ভাজা, ভর্তা, লাউ ভাজি, পুঁইশাক, লালশাক, কলমিশাকসহ বিভিন্ন ভর্তা। পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সব খাবারের দাম ১৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে।

পূজার সময় আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় গুড়ের সন্দেশ, চিনির সন্দেশ, রসগোল্লা, লালমোহন, রসমালাই, টক-মিষ্টি দইসহ নানা স্বাদের মিষ্টি। তাঁতীবাজার এলাকার শিবমন্দির থেকে ডান দিকে একটু এগোলোই ডান পাশে পড়বে আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টটি। রয়েছে পার্সেল সুবিধাও।

 

ক্যাফে জগন্নাথ

তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের বাইরেও সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়। তেমনই একটি লালবাগের ক্যাফে জগন্নাথ। পূজার সময় যাঁরা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা দেখতে যাবেন, তাঁরা ক্যাফে জগন্নাথের নিরামিষ চেখে দেখতে পারেন। হোটেলে বসতেই আপনার সামনে হাজির হবে সুস্বাদু সব নিরামিষ আইটেম। কাঁচকলার রসা, মটর ডাল, সাগুদানা ভুনা, পাঁচ তরকারি, লাউ তরকারি, ছানার রসা, কাশ্মীরি পনির, আলু-পটোলের রসা, মুগ ডাল, বুটের ডাল, বিভিন্ন শাক ভর্তা, সয়াবিন সবজি, কলার মোচার তরকারি, পটোল-সরিষা ভুনা, ডালের বড়ার রসা এবং মৌসুমি সবজির তরকারিসবই পাবেন। এ ছাড়া খেতে পারেন পায়েস এবং জলাপাইয়ের চাটনি। রয়েছে হোম ডেলিভারির সুযোগও। বিভিন্ন পদের খাবারের দাম ১০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

 

বৃন্দাস কিচেন

বাহারি নিরামিষের গন্ধে মুখরিত শাঁখারীবাজার কিংবা তাঁতীবাজারকেই নিরামিষ খাবারের পীঠস্থান ধরা হয়। এর বাইরে গ্রিন রোডের বৃন্দাস কিচেন নিরামিষ খাবারের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এখানে নিরামিষ খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে খাঁটি সরিষার তেল এবং খাঁটি ঘি দিয়ে খাবার রান্না করা হয়। লুচি, পুরি, ছোলা ও বুটের ডাল, ধোকা ও কাশ্মীরি বিরিয়ানি, স্পেশাল বেগুনি, আলু সাম্বার রসা, মিক্সড সবজি, পনির আলু রসা, ধোকা আলু রসা, সয়াবিন আলু রসা, টমেটো দিয়ে মুগ ডাল, চাটনি ও পায়েস পাবেন।

বিভিন্ন ফলের জুসও পাওয়া যায় এখানে। গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ ভবনের নিচতলায় বৃন্দাস কিচেন। গ্রিন রোড, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, এলিফ্যান্ট রোডের আশপাশের এলাকায় হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকে বৃন্দাস কিচেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ফ্যাশন

ছোট্ট সোনা পরবে কী

পূজার শপিং শুরুই হয় সোনামণিদের পোশাক দিয়ে। বাড়ির খুদে সদস্যরা খুশি মানেই বড়দের খুশি। ব্র্যান্ডগুলো এবার উজ্জ্বল রং, নয়া প্যাটার্ন আর পূজার থিমকে প্রাধান্য দিয়ে সাজিয়েছে ছোটদের পোশাকের সংগ্রহ। সোনামণিদের পোশাকের খোঁজ নিয়েছেন আতিফ আতাউর

ছোট্ট সোনা পরবে কী
ফ্রিলের কাজে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ছোটদের কো-অর্ড সেটে। পোশাক : এমব্রেলা

আর মাত্র কয়েকটা দিন, তার পরই কানে আসবে ঢাকের বাদ্য। রঙিন জামা পরে রঙিন প্রজাপতির মতোই চোখের সামনে দৌড়ে বেড়াবে কচি-কাঁচার দল। তা দেখে চোখ জুড়াবেন বড়রা। তাইতো এখন শপিং মল জুড়ে ছোটদের নিয়ে বড়দের ছোটাছুটি। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে মেয়ের জন্য নতুন পোশাক কিনতে এসেছিলেন ধানমণ্ডির স্বপ্না রানী। কয়েক দোকান ঘুরে সাত বছর বয়সী মেয়ের জন্য লাল রঙের লম্বা ঝুলওয়ালা জামা কিনলেন তিনি। বললেন, ‘মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চাওয়া-পাওয়াও বেড়ে যাচ্ছে। ওর পছন্দ ছাড়া কিছু কিনতে চায় না। এ জন্য সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। পূজায় একটু ভারী কাজ করা পোশাক আমার পছন্দ। মেয়ে যেটা পছন্দ করেছে, সেটা আমারও ভালো লেগেছে।’

ছোট্ট সোনা পরবে কী
প্রিন্টের নকশার পাঞ্জাবিতে আনা হয়েছে নতুনত্ব।পোশাক : ক্লাব হাউস

ছোটদের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে প্রায় একই কথা বললেন নিউমার্কেটে শপিংয়ে আসা সৌরভ সরকার। বললেন, আমাদের ছোটবেলায় মা-বাবা যেটা কিনে দিতেন সেটাই পরতাম। এখন আর সে যুগ নেই। এখন ছোটদের পছন্দকেই প্রাধান্য দিতে হয়। পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সুবীরের জন্য হালকা হলুদ রঙের বুকে ও হাতায় কাজ করা পাঞ্জাবি কিনেছেন। আরো কিনেছেন বুকে প্রতিমা আঁকা দুটি টি-শার্ট। ছোটরা পোশাক পছন্দ করলেও তার ম্যাটেরিয়ালে অবশ্য ছাড় দিচ্ছেন না বড়রা। কেননা পূজায় স্টাইলের সঙ্গে আদরের সোনার আরামটাও তো দেখতে হবে।

ছোট্ট সোনা পরবে কী
লম্বা স্কার্টে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারে আনা হয়েছে উত্সবের আমেজ।পোশাক : শৈশব

পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরই নতুন নকশার পোশাক আনে ছোট-বড় ব্র্যান্ডগুলো। তাতে পূজার নানা থিমকেই প্রাধান্য দেন ডিজাইনাররা। উত্সবকে রাঙিয়ে দিতে পোশাকে থাকে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার।

কাটছাঁট ও প্যাটার্নেও বদল ঘটানোর প্রয়াস চালান। এবারও দেখা গেছে সেই ধারা। বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা, ঢাকঢোলসহ পূজার নানা অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছোটদের পোশাকের জমিনে। বইয়ের পাতার মজার মজার চরিত্রও উঠে এসেছে ছোটদের পোশাকে। বাঘ মামা, ভোঁদড়, টিয়া পাখি, হাট্টিমাটিমটিমসহ বিভিন্ন কমিকসের কার্টুন দেখা যাচ্ছে পোশাকের  নকশায়। ছোটদের মজার ছড়াই বা বাদ যাবে কেন। এসব ছড়া,

ছোট্ট সোনা পরবে কী
খাটো কাটের এই স্কার্ট গরমে আরাম দেবে।   পোশাক : ইয়েলো

কবিতার লাইন দিয়েও সাজানো হয়েছে পোশাক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও কয়েক বছর ধরে কো-অর্ড সেট জনপ্রিয়। এ বছরও একই রকম রমরমা। আরো রঙিন ও নতুন কায়দার কাটিংয়ে ফিরেছে কো-অর্ড সেট। ছোট্ট মেয়েদের পাফ হাতা ফ্রক বরাবরই জনপ্রিয়। এ বছর ফিটিং হাতা জামাও রয়েছে পূজার কেনাকাটায় এগিয়ে। বার্বি ডলের সঙ্গে পরিচিত প্রায় সব শিশুই। ছোটদের ফ্যাশনেও গোলাপি, উজ্জ্বল হলুদ ও নীল রঙের জামা বেশ এগিয়ে। পূজার পরই ঘটবে শীতের আগমন। তাই একটু উজ্জ্বল রং বেশি ব্যবহার করেছেন ডিজাইনাররা। আরামের জন্য সুতি ও লিনেনের মতো ম্যাটেরিয়ালই পোশাকে প্রাধান্য দিয়েছে ব্র্যান্ডগুলো। পোশাকে সুতি, পুঁতি, জরি, চুমকির কাজ করে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। মেয়েদের জামার হাতার প্যাটার্নে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উত্সবের আবহ। পোশাকে আলাদা ফ্রিলের ব্যবহারেও নতুনত্ব এসেছে। সব ব্র্যান্ডেই পাবেন শিশুদের পোশাক। তবে শুধু শিশুদের জন্যই আছে বেশ কিছু ব্র্যান্ডশৈশব, জেন্টল পার্কের পাপপা, ইয়েলো কিডস, বেবি শপসহ বেশি কিছু দোকান।

শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, জিন্স, গ্যাবার্ডিন, ফতুয়া, ফ্রক, স্কার্ট, কামিজ, টপস, গাউন, লেহেঙ্গাসহ প্রায় সবই আছে ছোটদের জন্য। যারা ছোট্ট

সোনার সঙ্গে মিলিয়ে একই নকশার পোশাক পরতে চান, তাঁদের জন্য

রয়েছে ম্যাচিং ড্রেস। আবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে আদরের খোকা-খুকুকে দেখতে চাইলে সাজাতে পারেন শাড়ি, ধুতি-পাঞ্জাবিতেও।

ছোটদের জন্য রেডিমেড শাড়ি, ব্লাউজ, ধুতি, পাঞ্জাবির সংগ্রহও পাবেন দোকানে। ছোট থেকেই বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হবে ওরা। অনেক সময় ছোটরা বড়দের মতো করে সাজার বায়না ধরে। সেটা পূরণ করতে গিয়ে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে ওদের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাঘাত ঘটে। জমকালো কাজ করা পোশাক রাতের জন্য তুলে রাখুন। দিনে বেছে নিন হালকা পোশাক। দিনে বা রাতে যে পোশাকই পরান না কেন, সেটা যেন ফুলহাতার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

শিশুদের জন্য এমন পোশাক বেছে নিন, যেটা সহজে সামলাতে পারবে, আবার আনন্দেও বিঘ্ন ঘটবে না। শিশুরা এমনিতেই সুন্দর। সোনামণির জন্য এমন কিছু কিনবেন না, যেটাতে ওর স্বাভাবিক সৌন্দর্য আড়ালে পড়ে যায়।