পূজায় পাতে তোলার জন্য ভিন্ন রকমের আরো চার পদের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী বীথি শাহনাজ
বাসন্তী পোলাও
উপকরণ
সুগন্ধি পোলাওয়ের চাল ১ কাপ
জাফরান ১ টেবিল চামচ
ঘি ৩ টেবিল চামচ
চিনি আধা কাপ
ছোট এলাচ ৫-৬টি
দারচিনি ১ টুকরা
তেজপাতা ৪-৫টি
কিশমিশ ১ টেবিল চামচ
কাজু/পেস্তা বাদাম ১ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদমতো
গোলাপ জল ১ টেবিল চামচ
পানি ২ কাপ
যেভাবে তৈরি করবেন
* চাল ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। লবণ, চিনি আর জাফরান গুঁড়া করে নিন। এবার চালের সঙ্গে গুঁড়া করা জাফরান, লবণ, চিনি আর অর্ধেকটা ঘি ভালো করে মেখে ৫ মিনিট রাখুন। চুলায় প্যান দিয়ে ঘি গরম করে তাতে কাজুবাদাম, কিশমিশ হালকা করে ভেজে নিয়ে উঠিয়ে রাখুন। এবার এলাচ, দারচিনি আর তেজপাতা দিয়ে চালটা কিছুক্ষণ ভেজে নিন। ভাজা হলে পানি দিয়ে দমে রেখে দিন। এরপর ঢাকনা খুলে ভেজে রাখা কাজুবাদাম, কিশমিশ, গোলাপ জল দিয়ে আবারও কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে দিন। এবার নেড়ে সব মিশিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।
রাধাবল্লভী
উপকরণ
ময়দা ১ কাপ
মাষকলাই ডাল বাটা ১.৫ কাপ
আদা বাটা ২ চা চামচ
কাঁচা মরিচ বাটা ২ চা চামচ
মৌরি গুঁড়া ২ চা চামচ
তেল পরিমাণমতো
লবণ স্বাদমতো
যেভাবে তৈরি করবেন
* মাখার জন্য একটা পাত্রে ময়দা নিন। এবার দু-তিন চা চামচ ডাল বাটা, ১ চা চামচ আদা বাটা, ১ চা চামচ কাঁচা মরিচ বাটা, আধা চা চামচ মৌরি গুঁড়া, স্বাদমতো লবণ আর সামান্য তেল দিয়ে ময়দা মেখে একটা ডো বানিয়ে নিন।
* পুরের জন্য একটি কড়াইয়ে সামান্য তেল দিয়ে তাতে বাকি ডাল বাটা, আদা বাটা, কাঁচা মরিচ বাটা, মৌরি গুঁড়া, সামান্য লবণ দিয়ে চুলায় বসান। চুলার আঁচ মিডিয়াম টু লো রেখে ডালটা নেড়ে নেড়ে ভাজুন। ডালের পানি শুকিয়ে গেলে তুলে একটা পাত্রে রাখুন।
* এবার ময়দার ডো কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিন। এক ভাগ নিয়ে গোল করে তাতে কিছুটা তালের পুর ভরে লুচির মতো বেলে নিন। এভাবে সব কটি রেডি হলে চুলায় তেল গরম করতে দিন। এবার একটা করে রাধাবল্লভী ডুবো তেলে ভেজে তুলে নিন। সবগুলো ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।
বাসন্তী পায়েস
উপকরণ
সুগন্ধি পোলাওয়ের চাল আধা কাপ
চিনি দেড় কাপ বা পছন্দ অনুযায়ী
ঘন দুধ ৪ কাপ বা ক্রিম ২ কাপ
ঘি ১ টেবিল চামচ
ছোট এলাচ ৫-৬টি
দারচিনি ছোট একটুকরা
তেজপাতা ১টি
জাফরান ২ টেবিল চামচ
গোলাপ জল ১ টেবিল চামচ
যেভাবে তৈরি করবেন
* চাল ভালো করে ধুয়ে এলাচ, দারচিনি, তেজপাতা দিয়ে ঘিতে সামান্য ভেজে নিন। এবার দুধের সঙ্গে সিদ্ধ করে নিন। জাফরান আর চিনি গুঁড়া করে নিন। এবার চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে চিনি আর গুঁড়া করা জাফরান দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন, যেন তলায় লেগে না যায়। পায়েস ঘন হয়ে এলে কাজুবাদাম, কিশমিশ আর গোলাপ জল দিয়ে নামিয়ে নিন।
* মাছগুলো লবণ ও হলুদ মেখে খানিকক্ষণ রেখে সরিষার তেলে হালকা করে ভেজে উঠিয়ে রাখুন। ওই তেলে পেঁয়াজ লালচে করে ভেজে আদা-রসুন বাটা, মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এরপর টক দই দিয়ে আরো ২ মিনিট নাড়াচাড়া করে পরিমাণমতো পানি দিন। ফুটে উঠলে মাছ দিয়ে ৫-৭ মিনিট এপিঠ-ওপিঠ উল্টে মাঝারি আঁচে রেখে নামিয়ে নিন।
* আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা দেরাদুন চালের ভাত রেঁধে মাড় ঝরিয়ে নিন। একটি বড় কড়াইয়ে কয়েক পিস ইলিশ মাছ দিয়ে তার ওপর কিছুটা ভাত ছড়িয়ে বিরিয়ানি মসলা, গোলাপ জল, কেওড়া জল ও দুধে মেশানো কেশর ছড়িয়ে তার ওপর আবার ইলিশ দিয়ে একইভাবে বাকি উপকরণ দিয়ে ঢেকে ১৫ মিনিট দমে রাখুন। এরপর নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
লুচি রেসিপি
উপকরণ
ময়দা ২ কাপ
লবণ আধা চা চামচ
ঘি ২ টেবিল চামচ
তেল ভাজার জন্য
যেভাবে তৈরি করবেন
* ময়দার সঙ্গে লবণ ও ঘি মিশিয়ে নিন। ধীরে ধীরে গরম পানি দিয়ে মাখুন, যাতে মসৃণ ও শক্ত আটা হয়।
* ভেজা কাপড়ে ঢেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। আটা থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে গোল করে বেলে নিন।
* কড়াইয়ে তেল গরম করে লুচি এক এক করে ভেজে নিন। ফুলে উঠলে উল্টে দিন।
* হালকা সোনালি হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
কাশ্মীরি পোলাও
উপকরণ
বাসমতী চাল ২ কাপ
জাফরান একচিমটি
কিশমিশ ১০-১২টি
কাজুবাদাম ৮-১০টি
পনির ১০০ গ্রাম
এলাচ ২টি
ঘি ২ চা চামচ
সাদা তেল ২ চা চামচ
লবঙ্গ ৬-৭টি
এলাচ ৩-৪টি
জয়ত্রি সিকি চা চামচ
দারচিনি ২ টুকরা
স্টার অ্যানিস ২টি
তেজপাতা ২টি
আদা গুঁড়া ১ চা চামচ
মৌরি গুঁড়া ২চা চামচ
যেভাবে তৈরি করবেন
* বাসমতী চাল ধুয়ে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। ২ চা চামচ ঘি, ২ চা চামচ তেলে কাজুবাদাম, কিশমিশ ভেজে নিন।
* এবার ওই তেলে তেজপাতা, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ দিয়ে চালগুলো ভেজে নিন। এরপর ২ কাপ গরম পানি, ১ কাপ জাফরান গোলা দুধ, আরো ১ কাপ দুধ দিন। ফুটে উঠলে লো করে গ্যাসে ১০ মিনিট ঢাকনা বন্ধ করে রাখুন।
* এরপর ঢাকনা খুলে চালগুলো একটু নেড়ে দিয়ে ভেজে রাখা কাজুবাদাম, কিশমিশ, শুকনা খোলায় ভাজা মৌরি গুঁড়া দিয়ে ঢেকে রাখুন ১০ মিনিট।
উৎসবের দিনগুলোতে নিরামিষ পাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই।ছবি : মোহাম্মদ আসাদ
নিরামিষভোজন মতবাদের মূল খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন ভারতের সনাতন ধর্মে। এর অনুসারী এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের কিছু জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাসে ছিল নিরামিষ। নিরামিষভোজন হচ্ছে স্বেচ্ছায় কোনো ধরনের মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, প্রাণীর মাংস, সামুদ্রিক প্রাণী না খাওয়ার তত্ত্ব, অভ্যাস ও অনুশীলন। তবে নিরামিষ এখন আর নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উত্সবের দিনগুলোতে সবাই নিরামিষ পাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই পূজার দিনগুলোতে বাড়িতে নিরামিষের নানা পদ তৈরি করে থাকেন। পরিবারের জন্য কিংবা অতিথি আপ্যায়নে নিরামিষ জনপ্রিয় একটি খাদ্য উপকরণ। তবে যাঁরা বাসায় নিরামিষ রান্না করে উঠতে পারেন না, তাঁরা কি নিরামিষ খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন? নিশ্চয়ই না। পুরান ঢাকার অলিগলিতে এখনো রয়েছে এমন কিছু ভোজনালয়, যেখানে গেলেই পেট ও মন ভরে খাওয়া যাবে নিরামিষের নানা পদ।
এই নিরামিষ ভোজনালয়গুলো ধরে রেখেছে পুরান ঢাকার এক অনন্য ঐতিহ্য। একটু ভিন্ন ও ঘরোয়া স্বাদ নিতে চাইলে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার নিরামিষ হোটেলগুলোতে। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাঁরা পূজা দেখতে যাবেন, মন্দিরের ঠিক পাশেই পাবেন নিরামিষের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।
এ ছাড়া গ্রিন রোডেও রয়েছে একটি বিখ্যাত ভোজনালয়। পূজার এই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পূজামণ্ডপে প্রতিমা দেখার উত্সবে যাঁরা নিরামিষের স্বাদ নিতে চান, তাঁদের জন্য ঢাকার সেরা নিরামিষ ভোজনালয়ের খোঁজ—
জগন্নাথ ভোজনালয়
ঢাকায় সনাতন ধর্মের বেশি মানুষের বাস তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজার এলাকায়। দুর্গাপূজার সময় এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মণ্ডপ স্থাপন করা হয়। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মানুষ পূজা দেখতে আসে। পূজা দেখা এবং নিরামিষ খাবার খাওয়া যদি একই সঙ্গে হয়, তাহলে তো উত্সব-আনন্দ আরো জমে ওঠে। পুরান ঢাকায় নিরামিষভোজীদের ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি নিরামিষ হোটেল। এর মধ্যে অন্যতম জগন্নাথ ভোজনালয়। ২০০৫ সালে নিতাই পাল শুরু করেন ভোজনালয়টি। এখানে ভর্তা, ডাল, ছানা, বড়া, সয়াবিন, রসা, ধোকা, পুষ্পান্ন, খিচুড়ি, সাগুদানা ভুনা, ছানার রসা, ফুলকপির রসা ও পাঁচমিশালি সবজি পাওয়া যায়। এ ছাড়া রসা, লাবড়া, শুক্তো, ধোকাসহ ভর্তা পাওয়া যায় ৮-১০ রকমের। ডাল পাওয়া যায় তিন-চার রকমের। শাকও পাবেন পাঁচ রকমের। শেষপাতে শ্যামাদানার পায়েস আর চাটনি তো রয়েছেই। সব তরকারির দাম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকার মধ্যে। ভাত প্রতি প্লেট ১৫ টাকা। মূলত নিরামিষ আহারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কথা চিন্তা করে হোটেলটি প্রতিষ্ঠা করা হলেও সব ধর্মের মানুষের জন্যই এটি উন্মুক্ত। রয়েছে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও।
জগন্নাথ ভোজনালয়ের অবস্থান ১১০ নম্বর তাঁতীবাজারে একটি ভবনের দোতলায়। নিচতলায় আছে পুষ্প নামের একটি জুয়েলারি দোকান। তাঁতীবাজার শিবমন্দিরের কাছ থেকে সহজেই যাওয়া যায়। একই নামে স্বামীবাগেও রয়েছে আরেকটি নিরামিষ খাবারের দোকান।
পূজায় দিন-রাত ঘোরাঘুরিতে খাবার খেতে যেতে পারেন ঢাকার নিরামিষ খাবারের দোকানগুলোতে।ছবি : মোহাম্মদ আসাদ
অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়
পুরান ঢাকার বিখ্যাত হোটেল অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়। ইসকনভক্ত দ্বারা পরিচালিত হোটেলটির নিরামিষ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের জন্য সুখ্যাতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাজ ঘোষ জানান, প্রতিমা দেখার পাশাপাশি অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়ে নিরামিষের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুর্গাপূজার সময় ১৫ থেকে ২০ পদের খাবার পাওয়া যায়। প্রতিটি আইটেমের দাম ১৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। ২৫টির বেশি যেকোনো আইটেম দিয়ে পছন্দের সেট মেন্যু তৈরি করতে পারবেন নিরামিষপ্রিয়রা। খাবার বাসায় নিয়ে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। রয়েছে অনলাইলে অর্ডার করার সুযোগ। অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়ে ঘি, সয়াবিন, সূর্যমুখী তেল, সাগুদানাসহ বিভিন্ন ধননের সুস্বাদু প্যাকেটজাত ভাজা খাবার পাওয়া যায়।
পূজা উপলক্ষে ৪ নম্বর তাঁতীবাজারে অবস্থিত ভোজনালয়টি সারা রাত খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন রাজ ঘোষ।
আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্ট
তাঁতীবাজারেই অবস্থিত আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্ট। হরেক রকমের সবজি দিয়ে তৈরি নানা পদের মুখরোচক নিরামিষ পাওয়া যায় এখানে। আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টটিও পরিচালনা করছেন ইসকন অনুসারীরা। পূজার সময় ১৫-২০ পদের নিরামিষ পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টটিতে পাওয়া যায় কাশ্মীরি পনির, বাদাম পনির, ছানার ধোকা, সয়াবিন সবজি, ডালের বড়ার রসা, লালশাক, পুঁইশাক, পাঁচমিশালি সবজি, আলু, পটোল ও মৌসুমের সময় ফুলকপি, বাঁধাকপি।
এ ছাড়া নিয়মিত পাওয়া যায় কচুশাক, ছানারসা তরকারি, পটোল ভাপা, মুগ ডাল, বুট ডাল, টক ডাল, লাউয়ের ডগা, জলপাইয়ের চাটনি, বেগুনি, সাম্বার, ম্যাকারনি, শিমের বিচি, ডালের বড়া, সয়াবিন সবজি, পাতলা ডাল, কচুর লতি, করলা ভাজা, ভর্তা, লাউ ভাজি, পুঁইশাক, লালশাক, কলমিশাকসহ বিভিন্ন ভর্তা। পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সব খাবারের দাম ১৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে।
পূজার সময় আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় গুড়ের সন্দেশ, চিনির সন্দেশ, রসগোল্লা, লালমোহন, রসমালাই, টক-মিষ্টি দইসহ নানা স্বাদের মিষ্টি। তাঁতীবাজার এলাকার শিবমন্দির থেকে ডান দিকে একটু এগোলোই ডান পাশে পড়বে আদি গোবিন্দ রেস্টুরেন্টটি। রয়েছে পার্সেল সুবিধাও।
ক্যাফে জগন্নাথ
তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের বাইরেও সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়। তেমনই একটি লালবাগের ক্যাফে জগন্নাথ। পূজার সময় যাঁরা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা দেখতে যাবেন, তাঁরা ক্যাফে জগন্নাথের নিরামিষ চেখে দেখতে পারেন। হোটেলে বসতেই আপনার সামনে হাজির হবে সুস্বাদু সব নিরামিষ আইটেম। কাঁচকলার রসা, মটর ডাল, সাগুদানা ভুনা, পাঁচ তরকারি, লাউ তরকারি, ছানার রসা, কাশ্মীরি পনির, আলু-পটোলের রসা, মুগ ডাল, বুটের ডাল, বিভিন্ন শাক ভর্তা, সয়াবিন সবজি, কলার মোচার তরকারি, পটোল-সরিষা ভুনা, ডালের বড়ার রসা এবং মৌসুমি সবজির তরকারি—সবই পাবেন। এ ছাড়া খেতে পারেন পায়েস এবং জলাপাইয়ের চাটনি। রয়েছে হোম ডেলিভারির সুযোগও। বিভিন্ন পদের খাবারের দাম ১০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।
বৃন্দা’স কিচেন
বাহারি নিরামিষের গন্ধে মুখরিত শাঁখারীবাজার কিংবা তাঁতীবাজারকেই নিরামিষ খাবারের পীঠস্থান ধরা হয়। এর বাইরে গ্রিন রোডের বৃন্দা’স কিচেন নিরামিষ খাবারের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এখানে নিরামিষ খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে খাঁটি সরিষার তেল এবং খাঁটি ঘি দিয়ে খাবার রান্না করা হয়। লুচি, পুরি, ছোলা ও বুটের ডাল, ধোকা ও কাশ্মীরি বিরিয়ানি, স্পেশাল বেগুনি, আলু সাম্বার রসা, মিক্সড সবজি, পনির আলু রসা, ধোকা আলু রসা, সয়াবিন আলু রসা, টমেটো দিয়ে মুগ ডাল, চাটনি ও পায়েস পাবেন।
আর মাত্র কয়েকটা দিন, তার পরই কানে আসবে ঢাকের বাদ্য। রঙিন জামা পরে রঙিন প্রজাপতির মতোই চোখের সামনে দৌড়ে বেড়াবে কচি-কাঁচার দল। তা দেখে চোখ জুড়াবেন বড়রা। তাইতো এখন শপিং মল জুড়ে ছোটদের নিয়ে বড়দের ছোটাছুটি। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে মেয়ের জন্য নতুন পোশাক কিনতে এসেছিলেন ধানমণ্ডির স্বপ্না রানী। কয়েক দোকান ঘুরে সাত বছর বয়সী মেয়ের জন্য লাল রঙের লম্বা ঝুলওয়ালা জামা কিনলেন তিনি। বললেন, ‘মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চাওয়া-পাওয়াও বেড়ে যাচ্ছে। ওর পছন্দ ছাড়া কিছু কিনতে চায় না। এ জন্য সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। পূজায় একটু ভারী কাজ করা পোশাক আমার পছন্দ। মেয়ে যেটা পছন্দ করেছে, সেটা আমারও ভালো লেগেছে।’
প্রিন্টের নকশার পাঞ্জাবিতে আনা হয়েছে নতুনত্ব।পোশাক : ক্লাব হাউস
ছোটদের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে প্রায় একই কথা বললেন নিউমার্কেটে শপিংয়ে আসা সৌরভ সরকার। বললেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় মা-বাবা যেটা কিনে দিতেন সেটাই পরতাম। এখন আর সে যুগ নেই। এখন ছোটদের পছন্দকেই প্রাধান্য দিতে হয়।’ পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সুবীরের জন্য হালকা হলুদ রঙের বুকে ও হাতায় কাজ করা পাঞ্জাবি কিনেছেন। আরো কিনেছেন বুকে প্রতিমা আঁকা দুটি টি-শার্ট। ছোটরা পোশাক পছন্দ করলেও তার ম্যাটেরিয়ালে অবশ্য ছাড় দিচ্ছেন না বড়রা। কেননা পূজায় স্টাইলের সঙ্গে আদরের সোনার আরামটাও তো দেখতে হবে।
পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরই নতুন নকশার পোশাক আনে ছোট-বড় ব্র্যান্ডগুলো। তাতে পূজার নানা থিমকেই প্রাধান্য দেন ডিজাইনাররা। উত্সবকে রাঙিয়ে দিতে পোশাকে থাকে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার।
কাটছাঁট ও প্যাটার্নেও বদল ঘটানোর প্রয়াস চালান। এবারও দেখা গেছে সেই ধারা। বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা, ঢাকঢোলসহ পূজার নানা অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছোটদের পোশাকের জমিনে। বইয়ের পাতার মজার মজার চরিত্রও উঠে এসেছে ছোটদের পোশাকে। বাঘ মামা, ভোঁদড়, টিয়া পাখি, হাট্টিমাটিমটিমসহ বিভিন্ন কমিকসের কার্টুন দেখা যাচ্ছে পোশাকের নকশায়। ছোটদের মজার ছড়াই বা বাদ যাবে কেন। এসব ছড়া,
খাটো কাটের এই স্কার্ট গরমে আরাম দেবে। পোশাক : ইয়েলো
কবিতার লাইন দিয়েও সাজানো হয়েছে পোশাক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও কয়েক বছর ধরে কো-অর্ড সেট জনপ্রিয়। এ বছরও একই রকম রমরমা। আরো রঙিন ও নতুন কায়দার কাটিংয়ে ফিরেছে কো-অর্ড সেট। ছোট্ট মেয়েদের পাফ হাতা ফ্রক বরাবরই জনপ্রিয়। এ বছর ফিটিং হাতা জামাও রয়েছে পূজার কেনাকাটায় এগিয়ে। বার্বি ডলের সঙ্গে পরিচিত প্রায় সব শিশুই। ছোটদের ফ্যাশনেও গোলাপি, উজ্জ্বল হলুদ ও নীল রঙের জামা বেশ এগিয়ে। পূজার পরই ঘটবে শীতের আগমন। তাই একটু উজ্জ্বল রং বেশি ব্যবহার করেছেন ডিজাইনাররা। আরামের জন্য সুতি ও লিনেনের মতো ম্যাটেরিয়ালই পোশাকে প্রাধান্য দিয়েছে ব্র্যান্ডগুলো। পোশাকে সুতি, পুঁতি, জরি, চুমকির কাজ করে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। মেয়েদের জামার হাতার প্যাটার্নে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উত্সবের আবহ। পোশাকে আলাদা ফ্রিলের ব্যবহারেও নতুনত্ব এসেছে। সব ব্র্যান্ডেই পাবেন শিশুদের পোশাক। তবে শুধু শিশুদের জন্যই আছে বেশ কিছু ব্র্যান্ড—শৈশব, জেন্টল পার্কের পাপপা, ইয়েলো কিডস, বেবি শপসহ বেশি কিছু দোকান।
শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, জিন্স, গ্যাবার্ডিন, ফতুয়া, ফ্রক, স্কার্ট, কামিজ, টপস, গাউন, লেহেঙ্গাসহ প্রায় সবই আছে ছোটদের জন্য। যারা ছোট্ট
সোনার সঙ্গে মিলিয়ে একই নকশার পোশাক পরতে চান, তাঁদের জন্য
রয়েছে ম্যাচিং ড্রেস। আবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে আদরের খোকা-খুকুকে দেখতে চাইলে সাজাতে পারেন শাড়ি, ধুতি-পাঞ্জাবিতেও।
ছোটদের জন্য রেডিমেড শাড়ি, ব্লাউজ, ধুতি, পাঞ্জাবির সংগ্রহও পাবেন দোকানে। ছোট থেকেই বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হবে ওরা। অনেক সময় ছোটরা বড়দের মতো করে সাজার বায়না ধরে। সেটা পূরণ করতে গিয়ে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে ওদের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাঘাত ঘটে। জমকালো কাজ করা পোশাক রাতের জন্য তুলে রাখুন। দিনে বেছে নিন হালকা পোশাক। দিনে বা রাতে যে পোশাকই পরান না কেন, সেটা যেন ফুলহাতার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
শিশুদের জন্য এমন পোশাক বেছে নিন, যেটা সহজে সামলাতে পারবে, আবার আনন্দেও বিঘ্ন ঘটবে না। শিশুরা এমনিতেই সুন্দর। সোনামণির জন্য এমন কিছু কিনবেন না, যেটাতে ওর স্বাভাবিক সৌন্দর্য আড়ালে পড়ে যায়।