বেশ কয়েক বছর ধরেই ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে ঢাকাই সিনেমা। এবারের দুই ঈদেও মিলল তার প্রমাণ। দেশের সিঙ্গল স্ক্রিন ক্রমেই কমছে, গুটিকয়েক যা টিকে আছে তার বেশির ভাগেরই পরিবেশ ভালো নয়। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বেশ কিছু মাল্টিপ্লেক্স। এগুলোর ওপর ভরসা করেই কোরবানির ঈদে মুক্তি পেয়েছে আটটি ছবি—আজমান রুশোর ‘রকস্টার’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘বনলতা সেন’, সাইফ চন্দনের ‘মালিক’, সৈকত নাসিরের ‘মাসুদ রানা’, জাহিদ জুয়েলের ‘পিনিক’ এবং বদিউল আলম খোকনের ‘তছনছ’ ও ‘অফিসার’।
ঈদে আটটি ছবি মুক্তির সিদ্ধান্ত যে ভালো ছিল না, তার সত্যতা পাওয়া যায় সিনেমা হলে দর্শকের কম উপস্থিতিতে। গত কয়েক বছরের ঈদে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের সমাগম দেখা গেলেও এবার চিত্রটা ভিন্ন। দর্শকের উপস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। ছবির মান, গল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অনেক দর্শক। এই প্রসঙ্গে সিনেপ্লেক্সের প্রধান মিডিয়া কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঈদে স্টার সিনেপ্লেক্সে দর্শকের কাছ থেকে যেমন সাড়া পাওয়ার আশা আমরা করেছিলাম, বাস্তব চিত্রটি ঠিক তেমন হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা আরো বেশি ছিল।’
প্রতিবারের মতো এবারেও ঈদের প্রধান আকর্ষণ শাকিব খান অভিনীত ছবি। আজমান রুশো তাঁর ‘রকস্টার’-এ এক রকস্টারের জীবনী তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। মূল চরিত্রে শাকিব খানের সঙ্গে আছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা। আগে থেকেই এই ছবি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ-উন্মাদনা শাকিব ভক্তদের। তবে ছবি দেখার পর পাওয়া গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, যার প্রভাব পড়েছে শোগুলোতে। এই প্রসঙ্গে সিনেপ্লেক্সের প্রধান মিডিয়া কর্মকর্তা বলেন, ‘শাকিব খান আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টার এবং তাঁর ছবির প্রতি দর্শকের প্রত্যাশা সব সময়ই আকাশচুম্বী থাকে। এই ছবিতে তিনি একদম ভিন্ন লুকে এবং একটি এক্সপেরিমেন্টাল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মেগাস্টারের যেকোনো নতুন কিছু করার চেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। শাকিব খানের নিজস্ব একটি বিশাল দর্শকশ্রেণি আছে, যারা নিয়মিত হলে আসছে। হয়তো ঈদের অন্য মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির তুলনায় এর দর্শক কিছুটা নির্দিষ্ট, তবে মাল্টিপ্লেক্সের দর্শক হিসেবে আমরা এই বৈচিত্র্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’ ‘রকস্টার’ নিয়ে যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসের বিপণন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মাহবুব বলেন, “গত ঈদে ডিসিপি সমস্যা থাকার পরেও আমরা ‘প্রিন্স’ চালিয়েছি, ভালো সাড়াও পেয়েছি। তবে এবার আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাইনি। সম্ভবত শাকিব খানের যারা ভক্ত আছে, তারা এই চরিত্রে শাকিবকে দেখে পছন্দ করতে পারেনি।” যমুনা ব্লকবাস্টার কাঙ্ক্ষিত দর্শক না পেলেও ‘রকস্টার’ দেখতে দর্শক বেশ ভিড় জমিয়েছে লায়ন সিনেমাসে, এমনটাই জানিয়েছেন তাদের কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ আব্দুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ছুটির দিনগুলোতে শো হাউসফুল গেলেও এখন দর্শক কিছুটা কমেছে।

‘মালিক’-এর পোস্টারে শুভ ও মিম
‘রকস্টার’-এর পরেই সাইফ চন্দনের ‘মালিক’। ‘তারকাঁটা’, ‘সাপলুডু’র প্রায় সাত বছর পর এই ছবিতে জুটি বেঁধে পর্দায় ফিরেছেন আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম। ব্লকবাস্টারসের বিপণন কর্মকর্তা বলেন, “রকস্টারের পর ‘মালিক’ ছবিতে আমরা বেশি সাড়া পাচ্ছি, দিন যত গড়াচ্ছে ‘মালিক’-এর দর্শক বাড়ছে।”
পারিবারিক টানাপোড়েন ও অ্যাকশন দৃশ্য থাকায় ছবিটি পছন্দ করছে অনেক দর্শক।

‘রইদ’-এর দৃশ্য
‘আর্ট হাউস’ ঘরানার ছবি মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ এবং মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘বনলতা সেন’, দুটি ছবিই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানছে, যা আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছে হল কর্তৃপক্ষ। ‘রইদ’-এ নাজিফা তুষি ও মুস্তাফিজুর নূর ইমরানের অভিনয় ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছে। পাশাপাশি এই ছবির গল্প, সমাপ্তি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অন্যদিকে সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘বনলতা সেন’-এর নির্মাণশৈলী চোখ জুড়িয়েছে বহু দর্শকের। এ ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা, খায়রুল বাসার, সোহেল মণ্ডল, মায়মুনা মম, প্রিয়ন্তী উর্বী প্রমুখ।
ডিসিপি সমস্যার কারণে সৈকত নাসিরের ‘মাসুদ রানা’ নিয়ে শুরুতে বিপাকে পড়েছিল ব্লকবাস্টারস সিনেমাস। পরে সেই সমস্যা কেটে গেছে। এই ছবি দেখতেও ভিড় জমাচ্ছে দর্শক। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এই ছবিতে মাসুদ রানার ভূমিকায় রাসেল রানাকে পছন্দ করছে দর্শক। জাহিদ জুয়েলের ‘পিনিক’ও শুরুতে আশানুরূপ সাড়া পায়নি। তবে আদর আজাদ ও শবনম বুবলী জুটি অভিনীত ছবিটিও এখন দেখতে আসছে দর্শক।
ঈদের বাকি দুই ছবি বদিউল আলম খোকনের ‘অফিসার’ ও ‘তছনছ’ সেভাবে এখনো সাড়া ফেলতে পারেনি।




