মন্দার মধ্যেও বিশ্বজুড়ে এক শ্রেণির মানুষের সম্পদ বাড়ছে, আর অন্য শ্রেণির কমছে। এতে আয়বৈষম্য আরো বিস্তৃত ও গভীর হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএসের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’ বা বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদ ১০.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা অন্তত গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে প্রায় ১০ লাখ নতুন মিলিয়নেয়ার তৈরি হয়েছে।
ইউবিএস বিশ্বের ৫৬টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এসব দেশ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট সম্পদের আনুমানিক ৯২ শতাংশ বা তারও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ১.৫ শতাংশ বেড়েছে। গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ৬৮০ জন নতুন মার্কিন ডলার মিলিয়নেয়ার তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে চার লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি নতুন মিলিয়নেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের, অর্থাৎ দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ জনের বেশি নতুন মিলিয়নেয়ার হচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন মিলিয়নেয়ার বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের।
ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রধান ইকবাল খান এই প্রবৃদ্ধির পেছনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বিভিন্ন বাজারে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।
অবশ্য বৈশ্বিক সম্পদের এই প্রবৃদ্ধির মধ্যেও বেশির ভাগ দেশে কমেছে মধ্যক সম্পদ বা ‘মিডিয়ান ওয়েলথ’-এর পরিমাণ। ইউবিএস জানিয়েছে, অতি ধনী বা উচ্চ আয়ের মানুষের আয়ের প্রভাব এই হিসাবে কম থাকে বলে একেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ‘সবচেয়ে নির্ভুল চিত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গড় মধ্যক সম্পদের (মিডিয়ান ওয়েলথ) দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের পরই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে জনপ্রতি মধ্যক সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থনীতিবিদ সল এসলেক বলেন, মধ্যবিত্ত ও ধনীদের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। তবে অন্য দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের বণ্টন কিছুটা বেশি সুষম বলে মনে করেন তিনি। সল এসলেক বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলা যায়। সেখানে গড় পারিবারিক সম্পদ মধ্যক (মিডিয়ান) পারিবারিক সম্পদের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি। তাই এটা স্পষ্ট যে অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ বণ্টনে অসংগতি বা বৈষম্য রয়েছে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সমমানের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম।’
এই প্রতিবেদনে কাউকে ধনকুবের বা মিলিয়নেয়ার হিসেবে চিহ্নিত করার মানে এই নয়, ব্যাংকে তাদের লাখ লাখ টাকা বা ডলার জমা রয়েছে। ইউবিএস তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছে, এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত বেশির ভাগ সাধারণ ধনীর ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের বসবাসের জন্য কেনা বাড়ি বা সম্পত্তিই (ওনার-অকুপাইড প্রপার্টি) ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সহজ কথায়, সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মানুষই এ তালিকায় ঢুকে পড়েছে। তবে এর ফলে তাদের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় (ডিসপোজেবল ইনকাম) কিন্তু বিন্দুমাত্র বাড়েনি।’




