আমাদের শৈশব কেটেছে একান্নবর্তী আবহে, সবাইকে নিয়ে। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো পার করেছি তখন। ভাগাভাগি করে জীবন কাটানোর যে মহত্ত্ব, তা শুধু প্রাচুর্য দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়। সংসারে অভাব ছিল, দৈন্য ছিল, কিন্তু সেই কষ্টের মোক্ষম ওষুধ ছিলেন মা। জীবনের বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মা আমাদের সেই অভাব-অনটন থেকে সযত্নে বের করে এনেছেন। স্কুল শিক্ষক বাবা মো. মিল্লাত হোসেন ভূঁইয়া একরকম ক্লিশে জীবনের মধ্য দিয়ে সংসার টেনে নিয়ে গেছেন। তারপর একসময় বাবার চলে যাওয়া আমাদের জীবন আরো কঠিন করে তোলে। সংসারের সেই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে হাল ধরলেন আমার মা আইরীন পারভিন নাঈমা। ব্র্যাক ও প্রশিকার মতো বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি করে তিনি সংসার চালিয়েছেন। এমনকি জমিজমা বিক্রি করে আমাদের ভাই-বোনদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করেছেন। অনেকটা কণ্টকাকীর্ণ পথ তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে। নিজের হাড়ভাঙা খাটুনি আর অসীম ত্যাগের বিনিময়ে তিনি আজ আমাকে প্রকৌশলী করেছেন; ছোট বোনকে শিক্ষক করেছেন। মা আমাদের জীবনের সেই ক্লান্ত রণতরি, যিনি ঝড়ের মুখেও আমাদের আগলে রেখেছেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো।
সিয়ামুল হায়াত সৈকত
সহকারী প্রকৌশলী, চায়না নর্থ ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, মৌলভীবাজার





