• ই-পেপার

মেডিক্যাল সেন্টার দ্রুত চালুর দাবি

চা-শিল্পে নজর দিন

চা-শিল্পে নজর দিন

চা এমন এক পানীয়, যার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই চাহিদা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশে পরিণত হয়েছে, তবে পুরোপুরি লাভজনক হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৯-১০ কোটি টাকার চা উৎপাদিত হয়। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, বিদ্যুতের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক বাগান লোকসানে রয়েছে। বিদেশের বাজারেও বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে চা রপ্তানি করা হচ্ছে, অথচ যাঁদের পরিশ্রমের ফসল, তাঁরা পাচ্ছেন না ন্যায্য পারিশ্রমিক। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চা-শ্রমিকের পারিশ্রমিক ২৫৫ থেকে ৩৩০ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা, কেনিয়ায় ৪৮৩ টাকা, অথচ বাংলাদেশে ১৭৮ টাকা ধরা হলেও শ্রমিকরা নির্ধারিত মূল্য থেকে কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। চা আমরা শুধু পানি হিসেবে গ্রহণ করলেও চা-কেন্দ্রিক জীবন যাপন করায় শ্রমিকরা চা-পাতাকে দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছেন। বিশ্ববাজারে চায়ের চাহিদা ও চা-শ্রমিকের জীবন পর্যালোচনা করে চা-শ্রমিকের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হলে দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন সাধিত হবে।

ঈশিতা হক

শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

টিকটক আসক্তি যেন একটি ব্যাধি

টিকটক আসক্তি যেন একটি ব্যাধি

বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত টিকটক বা এ ধরনের শর্ট ভিডিও সত্যি এক ধরনের মানসিক ও সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। লক্ষ করলে দেখা যায় যে দেশের ছোট-বড়, বৃদ্ধ সবাই ঝুঁকে পড়ছে ভিডিও বানাতে। এই আসক্তির কারণে তরুণ প্রজন্মের মহামূল্যবান সময় অপচয় হচ্ছে, যা তাদের লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার গঠনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

লাইক, কমেন্ট ও ভিউ পাওয়ার অন্ধ দৌড়ে মানুষ আজ শালীনতার সীমানা লঙ্ঘন করে যেকোনো কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন কনটেন্ট তৈরি করতে দ্বিধা বোধ করছে না। এর ফলস্বরূপ সমাজে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং পরশ্রীকাতরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে দিন দিন নষ্ট করে দিচ্ছে। ছোট শিশুরা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরিবর্তে সারাক্ষণ মোবাইল স্ক্রিনে চোখ আটকে রাখছে। অনেক সময় ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট বা প্রাংক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, এমনকি অনেক মূল্যবান প্রাণহানিও ঘটছে। এই ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে উত্তরণে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে এবং প্রযুক্তির সঠিক ও পরিমিত ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

রাকিব ইসলাম আকাশ

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন

প্রতিবছর বর্ষা এবং বর্ষার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এ বছরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগ হয়। এই মশার বিশেষত্ব হলো, এরা পরিষ্কার পানিতে বংশ বৃদ্ধি করে। সচরাচর অন্য মশা রাতে কামড়ালেও এই মশা দিনের বেলায় কামড়ায়।

আমরা জানি, বর্ষাকালে এই মশার বিস্তার বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমানে ডেঙ্গু শুধু বর্ষাকালীন রোগ নয়, এখন এটি বারোমাসি রোগে পরিণত হয়েছে। সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত রোগী দেখা যায়। এ কারণে শুধু বর্ষাকাল ঘিরে নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন বছরব্যাপী উদ্যোগ নেওয়া দরকার। দেখা যায়, পরিস্থিতি যখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে যায়, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজেই সরকারের উচিত পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসাধারণের সচেতন ভূমিকা নিতে হবে। বাড়ির পাশে ডোবা, টবের পানি, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি পরিষ্কার নিজেদেরই করতে হবে।

মেরাজুল ইসলাম

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি শৈশব

ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি শৈশব

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও সহজলভ্য হচ্ছে স্মার্টফোন। যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান ও বিনোদনের জন্য এখন সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। কিন্তু এই স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর। বর্তমানে প্রায়ই দেখা যায়, শিশুদের খাওয়ানোর সময় কিংবা ঘুম পাড়ানোর সময় কিংবা শান্ত রাখার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মার্টফোন। ফলে শিশুরা অল্প বয়সেই মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। তারা বাইরে খেলাধুলা, বইপড়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করার পরিবর্তে সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। এতে তাদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং মানসিক দক্ষতা কমে যায়। অনেক সময় ভাষা শেখা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সৃজনশীলতা বিকাশেও বাধা সৃষ্টি হয়। তাই আমাদের উচিত স্মার্টফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়া। শিশুদের হাতে অপ্রয়োজনে মোবাইল না দিয়ে তাদের খেলাধুলা, বইপড়া এবং সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা।

শেখ সুলতানা মীম

ইডেন মহিলা কলেজ