• ই-পেপার

তীব্র যানজট

চিফ প্রসিকিউটর

নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ায় জড়িতদের বিচার হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ায় জড়িতদের বিচার হবে
মো. আমিনুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত অনেকের লাশ পাশের একটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষসহ জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। গতকাল রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসংলগ্ন জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শনের পর তিনি এ কথা বলেন।

নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যেসব লাশের তথ্য পাওয়া গেছে, সেসব লাশের পরিচয়ও শনাক্তের চেষ্টা চলছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা এই গণকবর পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জন জুলাই শহীদের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ১৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ১৭২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম নিয়ে এক শিশুর এবং উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৯২ শিশু। হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭২ শিশুর।

গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের গত ১৫ মার্চে প্রথম হাম শনাক্তের তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ১৬৪-তে। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৯০৭।

এই সময়ে সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ শিশুর। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৭৬ শিশু প্রাণ হারায়। মোট মৃত্যু ৭৭১ শিশুর। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৯৫ শিশু মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ৯৩ শিশু। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৮৯, চট্টগ্রামে ৫৪, বরিশালে ৪৩, ময়মনসিংহে ৬৪, খুলনায় ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ৯ শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯২০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৮৫১ শিশু। এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৯৬ হাজার ৮৭৮-এ।

২ জেলায় ২ মরদেহ উদ্ধার

ঢাকায় ছুরি মেরে নারীকে হত্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ঢাকায় ছুরি মেরে নারীকে হত্যা

রাজধানীতে সাবেক স্বামীর এলোপাতাড়ি কোপে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে নেত্রকোনা ও পঞ্চগড়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে ঝুমুর আক্তার (৩৮) নামের নারী খুন হয়েছেন। অভিযুক্ত স্বামী মো. রেজাউলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে মধ্য বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ১৪ নম্বর রোডে ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঝুমুরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।

নিহতের স্বজনদের সূত্র জানায়, ঝুমুরের প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি হোটেল কর্মচারী রেজাউলকে বিয়ে করেন। সংসার করেন দুই থেকে তিন বছর। এরপর তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হওয়ায়, বছরখানেক আগে রেজাউলকে তালাক দিয়ে ঝুমুর গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখানে থাকার কিছুদিন পর এক প্রবাসীকে বিয়ে করেন ঝুমুর।

ঝুমুরের আত্মীয় মনিকা আক্তার জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় মনিকাদের বাসার গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় রেজাউল পেছন থেকে এসে অতর্কিতে ঝুমুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

কেন্দুয়া : নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ২৪ ঘণ্টা পর মো. জুনাইদ আহমেদ (১৩) নামে এক নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ভাসমান মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামের জুনাইদের নিজ বাড়ির পাশে পুকুর থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জুনাইদ আহমেদ ওই গ্রামের মো. দিলোয়ার হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে বুধবার মানিক হোসেন (১৬) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মানিক পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার রইস উদ্দিনের ছেলে। মরদেহের হাতে মিলেছে একটি চিরকুট। সেখানে কয়েকজনের নাম লিখে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে মহারাজার দিঘিতে ওই তরুণের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা ওই মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানিকের পরিবারের লোকজন মরদেহটি শনাক্ত করে।

জাবির গবেষণা

বায়ুদূষণে দেশে বছরে ৮৮ হাজার মানুষের মৃত্যু

অর্থনৈতিক ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বায়ুদূষণে দেশে বছরে ৮৮ হাজার মানুষের মৃত্যু

বাংলাদেশে বায়ুদূষণ ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের কারণে দেশের ছয়টি প্রধান শহরে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। একই সঙ্গে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় দুই লাখ ৮২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের ছয়টি প্রধান শহরঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালে পরিবেশের বায়ুদূষণের কারণে মানবস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চড়ষষঁঃরড়হ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে বছরে হৃদরোগে মারা গেছেন ৩৭ হাজার ৫১৯ জন, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে আট হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জন। শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, যেখানে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২ জন), রাজশাহী (দুই হাজার ৮২৭ জন), খুলনা (দুই হাজার ৬২৫ জন), সিলেট (এক হাজার ৪৮৮ জন) এবং বরিশাল (এক হাজার ৩৯৫ জন)।

গবেষণায় আরো উঠে এসেছে ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে ঢাকা শহরে, যেখানে পিএম ২.৫-জনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার ৪৮৪ জন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণের ফলে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু ও ৫ শতাংশ জিডিপির সমান অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের গবেষণার ফলাফল দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা।