• ই-পেপার

পদ্মা রেলপথে যন্ত্রাংশ চুরি, অচল স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

কানাডাকে বিদায় করে শেষ আটে মরক্কো

ক্রীড়া প্রতিবেদক
কানাডাকে বিদায় করে শেষ আটে মরক্কো
আজেদিন উনাহির জোড়া গোলে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে ওঠার উল্লাস মরক্কোর। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে এবার স্বপ্নের মতোই যাত্রা ছিল কানাডার। প্রথমবার নক আউটে উঠে শেষ বত্রিশেও হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে; কিন্তু তাদের থামিয়ে দিয়েছে মরক্কো। হিউস্টনে গতকাল শনিবার শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে কানাডার মুখোমুখি হয় তারা। আজেদিন উনাহির জোড়া গোলে ৩-০ গোলের জয়ে প্রথম দল হিসেবে মরক্কানরা জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ বত্রিশে আরেক আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলে জিতলেও শেষ ষোলোয় হিউস্টনে এসে বিদায় ঘটেছে কানাডার। আর গত বিশ্বকাপে সময় যত গড়িয়েছে, ক্রমেই ভয়ংকর দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে মরক্কো। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনাল খেলে আফ্রিকার দলটি। সাফল্যটা যে কোনো চমক ছিল না, সেটি এবার তারা প্রমাণ করেছে টানা দুটি নক আউট ম্যাচ জিতে। শেষ বত্রিশে নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে টাইব্রেকারে হারিয়ে দেয় অ্যাটলাস লায়নস। তাতে যেন গত আসরের ধারাবাহিকতার পথই ধরে তারা। তা অব্যাহতই রাখল মরক্কানরা।

আগে দুই বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলে কোনো জয় পায়নি কানাডা, কিন্তু এবার বিশ্বকাপের আয়োজন করা দলটি নিজেদের সেরা সাফল্য পায় নক আউটে উঠে। গ্রুপ পর্বে কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলের জয় এবং বসনিয়ার সঙ্গে ড্র করে এই ইতিহাস গড়ে তারা, কিন্তু শেষ বত্রিশে তাদের নামতে হয় দেশের বাইরে। সেখানেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করে দলটি। হিউস্টনে অবশ্য আফ্রিকার অন্যতম শক্তিধর মরক্কোর বিপক্ষে তেজের সঙ্গেই লড়াই করে কানাডা। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই একটা আগ্রাসি মনোভাব দেখা যায়। এমনকি মরক্কান অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ও কানাডার ডিফেন্ডার রিচি লারিয়ার মধ্যে গোলমাল বাধে। রেফারি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যদিও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল মরক্কোই, তবে সাফল্য পাওয়ার মতো কোনো গোছালো আক্রমণ করতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম থেকেই মরক্কানরা বেশ গুছিয়ে ওঠে। এর ফলও আসে দ্রুত। ৫০ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে হাকিমির বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে টোকা দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন মিডফিল্ডার উনাহি (১-০)। এরপর কানাডাকে আরো চেপে ধরে তারা এবং একের পর এক অক্রমণ চালাতে থাকে। ৮২ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের কাছ থেকে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন উনাহি। ৮৪ মিনিটে আরেকটি গোল হজম থেকে বেঁচে যায় কানাডা, মরক্কানদের আক্রমণ থেকে নেওয়া হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে যোগ করা সময়ের শেষ ভাগে (৯৮ মিনিট) বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি গোল করলে বড় জয়ই পায় মরক্কো। গত বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে কানাডা তীব্র লড়াই করে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়। এবার আয়োজক হয়ে কোনো লড়াই করতে না পেরে কান্নার বিদায় ঘটল তাদের।

আজকের খেলা

আজকের খেলা

জন আরিয়াসের গোল উদযাপন

জন আরিয়াসের গোল উদযাপন
জন আরিয়াসের গোল উদযাপন। তাঁর ওই গোলেই ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া। ছবি : রয়টার্স

৩ মিনিটে ৮৬ বার ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল কৃষি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
৩ মিনিটে ৮৬ বার ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল কৃষি কর্মকর্তা

সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অধস্তনদের স্যার সম্বোধন করা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশের কোনো আইন বা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার কোথাও সুনির্দিষ্টভাবে স্যার বা ম্যাডাম বলা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এটি মূলত পেশাগত সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অংশ। তবে কখনো কখনো এই সৌজন্য বা শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে সিলেটে।

গত শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে তিন মিনিটের বক্তব্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে ৮৬ বার স্যার সম্বোধন করেছেন সিলেট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল। ওই দিন বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে সরকারি অনুদান, পুরস্কার ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দিতে পোডিয়ামে দাঁড়ান কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল। তিনি তিন মিনিট বক্তব্য দেন। এ সময় প্রায় প্রতিটি বাক্যের আগে কিংবা পরে তিনি অনর্গল স্যার সম্বোধন করতে থাকেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই বাক্যে দুইবারও স্যার সম্বোধন করেছেন। পরে ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটিকে অতিরিক্ত তোষামোদ বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে বিষয়টিকে নিজের দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল। তিনি বলেন, তিন মিনিটের বক্তব্যে বারবার স্যার শব্দটি ব্যবহার উদ্দেশ্যমূলক নয়। এটি আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ। আমি সব সময় সিনিয়র ও অগ্রজদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এভাবে সম্বোধন করি।