• ই-পেপার

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

কানাডাকে বিদায় করে শেষ আটে মরক্কো

আজকের খেলা

আজকের খেলা

জন আরিয়াসের গোল উদযাপন

জন আরিয়াসের গোল উদযাপন
জন আরিয়াসের গোল উদযাপন। তাঁর ওই গোলেই ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া। ছবি : রয়টার্স

পদ্মা রেলপথে যন্ত্রাংশ চুরি, অচল স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল

এস এম দেলোয়ার হোসাইন, মাদারীপুর
পদ্মা রেলপথে যন্ত্রাংশ চুরি, অচল স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল

মাদারীপুরের শিবচর অংশে পদ্মা রেলপথের সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথ ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হয়। প্রায় ৩৮ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ চালুর পর রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের  যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই পথে যাতায়াত করছে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে ব্যয়বহুল এই অবকাঠামো এখন সংঘবদ্ধ চোরচক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনের উত্তর প্রান্তে থাকা ১৩টি ট্র্যাক পটের মধ্যে এরই মধ্যে ৯টি চুরি হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে একটি ট্র্যাক পট চুরি হয়। এর আগে গত ১৯ জুন রাতে পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্ট থেকে কয়েকটি ট্র্যাক পট খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সব ট্র্যাক পট চুরি হয়। এরও আগে ১৮ মার্চ একই ধরনের ঘটনায় স্টেশনটির সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ট্র্যাক পট, ট্র্যাক ট্রান্সফরমার, সিগন্যাল কেবল, গার্ড রেলের স্ক্রু স্পাইক, অ্যাক্সেল কাউন্টার, পয়েন্ট মেশিন, স্টিল গ্রেটিং, হ্যান্ডরেল, বৈদ্যুতিক কেবল, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, ফিশ বোল্ট, ফিশ প্লেট, ইলাস্টিক রেল ক্লিপ, গেজ প্লেটসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ। এসব যন্ত্রাংশ চুরির কারণে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বারবার অচল হয়ে পড়ছে।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. কামরুজ্জামান বলেন, সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে লুক স্টিক ব্যবহার করে পেপার লাইন ক্লিয়ার পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়। ট্রেনগুলোকে হোম সিগন্যালের কাছে এসে ম্যানুয়াল সিগন্যালের অপেক্ষা করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে এবং রেলকর্মীদের রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগে এ ধরনের চুরির ঘটনা খুব একটা ছিল না। কিন্তু এখন ট্র্যাক পটসহ সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বারবার চুরি হচ্ছে। নতুন যন্ত্রাংশ বসানোর কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো আবার চুরি হয়ে যায়। এতে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আগের মতো নিয়মিত পুলিশ টহলও নেই। তাই স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা জরুরি।

পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, সিগন্যালিং ব্যবস্থার ট্র্যাক পটসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিটি ঘটনার পর ট্রেন পরিচালনায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেলওয়ের কয়েকজন কর্মী জানান, ২০২৪ সালেও স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় গভীর রাতে আড্ডা বা সন্দেহজনক চলাচল কম ছিল। বর্তমানে স্টেশনের আশপাশে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আড্ডা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং মাদকসেবীদের উপস্থিতি বেড়েছে। রেলকর্মীরা তাদের সরিয়ে দিতে বা সতর্ক করতে গেলে অনেকেই সহযোগিতা করে না, বরং অসদাচরণ করে। তাঁদের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও এলাকাবাসী সমন্বিত উদ্যোগ নিলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি ও নাশকতা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শিবচরের বন্দরখোলা এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রেললাইনের আশপাশে গভীর রাত পর্যন্ত অনেকের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যায়। এসব নিয়ন্ত্রণে না আনলে যন্ত্রাংশ চুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। রেলপথ এলাকায় নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক শাহজালাল বলেন, যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় নিয়মিত টহলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে চুরি প্রতিরোধে টহল আরো জোরদার করা হবে।

৩ মিনিটে ৮৬ বার ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল কৃষি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
৩ মিনিটে ৮৬ বার ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল কৃষি কর্মকর্তা

সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অধস্তনদের স্যার সম্বোধন করা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশের কোনো আইন বা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার কোথাও সুনির্দিষ্টভাবে স্যার বা ম্যাডাম বলা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এটি মূলত পেশাগত সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অংশ। তবে কখনো কখনো এই সৌজন্য বা শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে সিলেটে।

গত শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে তিন মিনিটের বক্তব্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে ৮৬ বার স্যার সম্বোধন করেছেন সিলেট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল। ওই দিন বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে সরকারি অনুদান, পুরস্কার ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দিতে পোডিয়ামে দাঁড়ান কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল। তিনি তিন মিনিট বক্তব্য দেন। এ সময় প্রায় প্রতিটি বাক্যের আগে কিংবা পরে তিনি অনর্গল স্যার সম্বোধন করতে থাকেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই বাক্যে দুইবারও স্যার সম্বোধন করেছেন। পরে ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটিকে অতিরিক্ত তোষামোদ বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে বিষয়টিকে নিজের দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল। তিনি বলেন, তিন মিনিটের বক্তব্যে বারবার স্যার শব্দটি ব্যবহার উদ্দেশ্যমূলক নয়। এটি আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ। আমি সব সময় সিনিয়র ও অগ্রজদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এভাবে সম্বোধন করি।