হামে আক্রান্ত শিশু কোলে মা। গতকাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ
বিশ্বকাপ উন্মাদনা
চেক প্রজাতন্ত্র কেন চেকিয়া?
মার কোলে হামে আক্রান্ত শিশু

ডা. দিপ্রার ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলছেন সহপাঠীরা
সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এফসিপিএসে অধ্যয়নরত নাফিসা তাবাসসুম দিপ্রার ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন দিপ্রার সহপাঠী, সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।
গত ৪ জুন শ্বশুরবাড়িতে ডা. দিপ্রার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করান। ওই দিন সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জানা গেছে, এই হাসপাতালেই চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন ডা. দিপ্রার শ্বশুর ডা. এম এ রশিদ।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডা. দিপ্রার শ্বশুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন, ডা. দিপ্রার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তবে ডা. দিপ্রার শ্বশুরের এই দাবি অস্বীকার করেছেন দিপ্রার সহপাঠী ও স্বজনরা। তাঁরা বলছেন, শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে দিপ্রার স্বামী ডা. সিয়াম দিপ্রাকে মৃত্যুর আগের তিন দিন ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপর ডা. সিয়াম দিপ্রার বাবা-মাকে ডাকলে দিপ্রার মা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। শশুরবাড়িতে গেলে দিপ্রা ভাত খেতে চান। ওই সময় অভুক্ত দিপ্রা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। অসুস্থ দিপ্রাকে তখন রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসার কাছের কোনো হাসপাতালে না নিয়ে শ্বশুরের কর্মস্থল শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি করার পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, একাধিক সহপাঠী ও বোনকে মৃত্যুর আগে মারধরের আঘাতের চিহ্নসহ ছবি পাঠিয়েছিলেন ডা. দিপ্রা। তাঁর আমেরিকাপ্রবাসী বান্ধবী ডা. ফাবিহা তানজিমকে বলেছিলেন, দিপ্রার শাশুড়ি ও দুই ননদ মিলে মানসিক নিপীড়ন করছেন এবং স্বামী ডা. সিয়াম তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করছেন।
সহকর্মীদের দাবি, দিপ্রা শ্বশুরবাড়িতে নিয়ত নির্যাতনের শিকার হতেন। সন্তান প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শে মানসিক চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যায়ে শশুরবাড়ির লোকজন টাকা না দেওয়ায় চিকিৎসার পর্ব শেষ করতে পারেননি। এসংক্রান্ত মারধরের ছবি ও মানসিক নির্যাতনের তথ্য কালের কণ্ঠের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ বিষয়ে ডা. দিপ্রার বাবা আলাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার মেয়েজামাই ফোন করে জানায়, দিপ্রা কয়েক দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া করছে না। এ জন্য আমাদের তাদের বাসায় যেতে বলে, আমার কাজ থাকায় যেতে পারিনি। দিপ্রার মা গেলে মায়ের কাছে দিপ্রা খেতে চায়। ওই সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তার। পরে হাসপাতালে সে মারা যায়।’
এ ঘটনায় মামলা করেননি কেন—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার নাতির বয়স দুই বছর, এর মধ্যে ওর মা মারা গেল। এখন মামলা করলে সেটা কোনদিকে যাবে, তাকে লালন-পালনের বিষয় আছে, কী করব এখন, সব মিলিয়ে আমরা কিছু করছি না।’
এদিকে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের সামনে ডা. দিপ্রার মরদেহের ময়নাতদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন দিপ্রার সাবেক সহপাঠী ও পরিবারের একাধিক সদস্য।
মানববন্ধনে উপস্থিত ডা. দিপ্রার বোন নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডা. দিপ্রার মা অসুস্থ হওয়ায় এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতাশালী হওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে ভয় পাচ্ছেন।’
আরেক সহকর্মী সাফিয়া বিনতে আহমেদ অভিযোগ করেন, দিপ্রার মৃত্যুর পর তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য বিভিন্ন তথ্য ও যোগাযোগের রেকর্ড হারিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দিপ্রার মরদেহ দ্রুত দাফন করা হয় এবং পরিবারের সবাইকে শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখতে দেওয়া হয়নি।
সাফিয়া দাবি করেন, দিপ্রাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর শ্বশুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্য বিষয় নিয়ে পোস্ট করেছিলেন। পরে দিপ্রার মৃত্যুর পর দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে ডা. এম এ রশিদ দিপ্রাকে নিজের ‘তৃতীয় কন্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক থেকে উধাও ডা. দিপ্রার পোস্ট : নিজের ও শিশু সন্তানের প্রতি অবহেলা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন নিয়ে ফেসবুকের ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ পেজে নিজের নাম উহ্য রেখে পোস্ট দিয়েছিলেন ডা. দিপ্রা। দিপ্রার মৃত্যুর পর ফেসবুক পোস্টটি যে তাঁরই ছিল সেটা অ্যাডমিন প্যানেল থেকে স্ক্রিনশর্ট দিয়ে নিশ্চিত করা হয়।
কিন্তু ফেসবুক থেকে পোস্টটি পরে সরিয়ে দিলে অভিযোগ ওঠে—ডা. দিপ্রার ননদ শাবনাজ রশিদ দিয়া প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছেন। শাবনাজ রশিদ দিয়া ফেসবুকের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রধান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে জানতে শাবনাজ রশিদকে কালের কণ্ঠ থেকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।
মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও ডা. দিপ্রার শ্বশুর ডা. এম এ রশিদের কাছ থেকে সাড়া মেলেনি। তাঁর কর্মস্থল ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও যশোরের ‘আমাদের বাড়ি’ নামের চিকিৎসাকেন্দ্রেও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
‘আমাদের বাড়ি’ চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর সহকারীকে ফোন দিলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ছেলের বউয়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি ছুটিতে আছেন, কারো সঙ্গে কথা বলছেন না।
ডা. দিপ্রা ২০১১-১২ সেশনে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে এমবিবিএস পাস করেন। পরে ২০১৮ সাল থেকে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন। ২০২০ সালে তিনি তাঁর সহপাঠী রহমত রশিদ সিয়ামকে বিয়ে করেন। ২০২৪ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে এফসিপিএসে ভর্তি হয়ে প্রথম পার্ট পাস করে দ্বিতীয় পার্টের পরীক্ষার অপেক্ষায় ছিলেন।
বেনাপোল দিয়ে এলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
একই আকাশ, একই বাতাস, একই জলতরঙ্গ মিলেমিশে কাজ করব

‘একই আকাশ, একই বাতাস, একই জলতরঙ্গ—আমরা মিলেমিশে কাজ করব। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, আমাদের অভিন্ন স্বপ্নও আছে।’ বাংলাদেশে পা রেখে এভাবেই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদের বার্তা দিলেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
গতকাল শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী মৃণাল (মিনাল) ত্রিবেদী। বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। পরে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয় নবনিযুক্ত এই কূটনীতিককে।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিলে আমরা ১৬০ কোটির একটি বৃহৎ পরিবার। আমি এখানে আলাদা কিছু ভাবতে আসিনি; আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। ভিসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা ও সমাধানের পথ খুঁজে বের করব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, অনেক চ্যালেঞ্জও এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করা। আমরা সবাই ভাই-বোন। দুই দেশের মানুষের কল্যাণ, পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ বৃদ্ধিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। পারস্পরিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হলে তা আঞ্চলিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন গতি যোগ করবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় রয়েছে। এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দুই দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরো সহজ হয়।
হাইকমিশনারকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঁধে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল আরিফ মাহমুদ, সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।
ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল কার্যক্রম শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
ব্যাগ টানতেই রিকশা থেকে পড়ে যান, বাঁচানো গেল না সোহেলিকে

রাজধানীতে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া করার সময় চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত সোহেলি ইসলাম (৪২) শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। গত রবিবার ভোরে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আহত হন তিনি। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোহেলির মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভোরে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বাস থেকে নেমে রিকশায় চড়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ধানমণ্ডির বাসায় ফিরছিলেন সোহেলি। পাশ
দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে দুই ছিনতাইকারী যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি সোহেলির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে সোহেলির ডান হাত ভেঙে যায়। এ ছাড়া মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান তিনি। এক পর্যায়ে কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়ে।
সোহেলির মামা সারওয়ার পারভেজ বলেন, কয়েক দিন আগে পার্বতীপুরে পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়েসহ এসেছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার রাত ৯টার বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শেরেবাংলানগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে আমরা ঘটনা জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। এখনো তারা থানায় এসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি। আমরা ঘটনাটা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি।’
