মহান আল্লাহ পৃথিবীতে বিশেষ কিছু লক্ষ্য অর্জন ও উদ্দেশ্য পূরণে নবী-রাসুুুলদের পাঠিয়েছেন, যার অন্যতম দ্বিন ও শরিয়তের পক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠা করা এবং বিপক্ষের দলিলগুলো খণ্ডন করা। আল্লামা জামালুদ্দিন গজনভি (রহ.) বলেন, রাসুল প্রেরণের একটি উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর বিধানের পক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠা করা এবং বিপক্ষের দলিল খণ্ডন করা, আল্লাহর অঙ্গীকারকৃত জান্নাত ও জাহান্নাম প্রমাণ করা। কেননা তাঁরা যদি প্রেরিত না হতেন, তবে অবিশ্বাসীরা ঈমান প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে অজুহাত খুঁজে পেত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী রাসুল প্রেরণ করেছি, যাতে রাসুল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে।’
(সুরা : নিসা, আয়াত : ১৬৫; উসুলুদ্দিন, পৃষ্ঠা-১২০)
মোল্লা আলী কারি (রহ.) বলেন, নিশ্চয়ই যখন আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য জান্নাত এবং অবাধ্যদের জন্য জাহান্নাম সৃষ্টি করেন, তখন আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ছাড়া মানুষের পক্ষে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও করণীয় কাজগুলো সম্পর্কে জানা সম্ভব ছিল না। তখনো মাটির সৃষ্টি মানুষ ও মহান আল্লাহর মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল না। আল্লাহর প্রজ্ঞার দাবি ছিল তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী মানুষ প্রেরণ করবেন। যেন তাঁরা পথগুলোর ভালো-মন্দ প্রমাণ করতে পারেন। (দাউয়ুল মাআলি, পৃষ্ঠা-৭০)
শায়খ আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহ.) বলেন, নবী-রাসুলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা এবং অজুহাত দূর করা। যেন মানুষ বলতে না পারে, আমাদের কাছে কোনো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী প্রেরিত হননি। আল্লাহ তাঁর রাসুলদের প্রেরণ করেছেন দলিল প্রতিষ্ঠা করতে, অজুহাত দূর করতে, মানুষকে সুপথ দেখাতে, সত্য প্রকাশ করতে, মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে, ধ্বংসের কারণ সম্পর্কে সতর্ক করতে। তাঁরা শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম ও কল্যাণকামী মানুষ।
(মাজমুউ ফাতাওয়া : ৩/১০৬)
মুগিরা (রা.) থেকে বর্ণিত, সাআদ ইবনু ওবাদা (রা.) বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোনো পুরুষকে যদি দেখি, তাকে সরাসরি তরবারি দিয়ে হত্যা করব। এ কথা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, ‘তোমরা কি সাআদের আত্মমর্যাদা দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আল্লাহর শপথ! আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আর আল্লাহ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ আত্মমর্যাদাবোধের কারণে প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা হারাম করেছেন। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চেয়ে অধিক পছন্দ করেন এমন কেউ নেই। আর এ জন্য তিনি ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদের পাঠিয়েছেন। আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে অধিক কারো কাছে প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪১৬)
ইমাম নববী (রহ.) হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, হাদিসে অক্ষমতা প্রকাশ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষকে অক্ষম করে দেওয়া এবং অজুহাতের সুযোগ না দেওয়া। (শরহু মুসলিম : ১০/১৩২)
অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর দরবারে তাওবা করা, অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসা এবং অক্ষমতা পেশ করা পছন্দ করেন। এ জন্য তিনি নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন, যেন মানুষ আল্লাহর পরিচয় জানতে পারে এবং তাঁর অভিমুখী হয়। আর তারা অজুহাত পেশ না করে। নবী-রাসুল প্রেরণ করার পরও তিনি তাওবা করা পছন্দ করেন বলে মানুষকে ক্ষমা করে দেবেন।