ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি, ধর্মকে ব্যবহার করে ভণ্ডামি—এ পথ থেকে আমাদের ফিরতে হবে, যে যেখানেই থাকি না কেন।
মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি, ধর্মকে ব্যবহার করে ভণ্ডামি—এ পথ থেকে আমাদের ফিরতে হবে, যে যেখানেই থাকি না কেন।
মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

‘আসাদ গেট থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যেতে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নিয়ে থাকে। কিন্তু এখন কোনো চালক ৫০০ টাকার নিচে রাজি হচ্ছে না!’
আক্ষেপ করে কালের কণ্ঠকে এসব কথা বলেন অর্পিতা ইসলাম নামের এক যাত্রী। গতকাল শনিবার রাজধানীর আসাদ গেট মোড়ে হন্যে হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজছিলেন তিনি। আরো কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে ৪২০ টাকা ভাড়ায় একজন অটোরিকশাচালককে রাজি করাতে পারলেন।
শুধু এই অর্পিতাই নন, গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যাত্রীদের দুর্ভোগের একই চিত্র দেখা যায়। গ্যাসসংকট থাকায় ছোট-বড় সব ধরনের যাত্রী পরিবহন যান কম ছিল। একই সঙ্গে ভাড়াও ছিল বেশি।
রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের জন্য পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করায় চালকদের একটি বড় অংশ দিনের স্বাভাবিক সময় রাস্তায় থাকতে পারছে না। ফলে গাড়ির সংখ্যা কমে অ্যাপভিত্তিক ভাড়াও বাড়ছে।
গতকাল রাজধানীর খিলক্ষেত, নদ্দা, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর রোড, মহাখালী, তেজগাঁও ও প্রগতি সরণির বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও স্টেশন একেবারেই বন্ধ, কোথাও আবার গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে কয়েকটি গাড়িতে গ্যাস দেওয়ার পর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে বেশির ভাগ চালককে দিনের যাত্রী পরিবহনের বদলে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দিতে হয়েছে।
শাহাদাৎ হোসেন নামের একজন চালক বলেন, আগে একটি গাড়ি দিনে একাধিকবার পাম্পে গেছে গ্যাস নিতে, কিন্তু সময় লাগেনি। এখন একবার গ্যাস নিতেই কয়েক ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। এতে গাড়ির ব্যবহার কমে যাচ্ছে, চালকের আয় কমছে এবং যাত্রীদেরও বিড়ম্বনা বাড়ছে।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বেশির ভাগ পাম্পে ‘গ্যাস নেই’ লেখা ঝুলছে। যেসব স্টেশনে গ্যাস মিলছে, সেখানে স্বল্প চাপের কারণে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাম্পে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা : মিরপুর রোডের দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও চাপ কম থাকায় সেখানে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও আশানুরূপ গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেন চালকরা।
তেজগাঁও, বাড্ডা ও প্রগতি সরণির কয়েকটি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কর্মীরা অলস বসে আছেন। কোথাও পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ, আবার কোথাও সামান্য গ্যাস এলেও দীর্ঘ লাইনের কয়েকটি গাড়িতে সরবরাহ দেওয়ার পরই তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
উবারের চালক শাহেদ হোসেন কুড়িলের প্রগতি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। গতকাল সকালে লাইনে দাঁড়ানোর পর দুপুর পর্যন্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিন-চার দিন ধরে একই অবস্থা। আগে সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় থাকত। এখন গাড়ি চালিয়ে খরচের টাকাও উঠছে না। গাড়ির মাসিক ভাড়া ৪০ হাজার টাকা হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল।
বাস কম, যাত্রীদের হুড়াহুড়ি : গতকাল অন্যান্য দিনের তুলনায় ঢাকায় বাস চলাচল ছিল বেশ কম। মিরপুর, পল্লবী, বিমানবন্দর রোড ঘুরে যাত্রী পরিবহনকারী বাস কম দেখা গেছে। মিরপুর-১০ গোলচত্বরে সব সময় একাধিক কম্পানির প্রজাপতি পরিবহন, পরিস্থান পরিবহন, আলিফ, রাজধানী পরিবহনের বাস যাত্রীর অপেক্ষায় থাকে। গতকাল যাত্রীরাই বাসের অপেক্ষায় ছিল। একটি বাস এলেই কে কার আগে উঠবে—এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে হুড়াহুড়ি দেখা গেছে।
সদরঘাট, গুলিস্তান, পল্টন, কাকরাইল, রামপুরা সড়ককেও বাস তেমন দেখা যায়নি। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়ায় অটোরিকশা, রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক ব্যবহার করে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
বাসসংকট হঠাৎ বাড়ার কারণ হিসেবে রমজান পরিবহনের চালক শহিদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পায়নি অনেক বাস। আমার রিজার্ভে গ্যাস থাকায় আমি চালাতে পারছি। আজকে যদি গ্যাস না পাই, কাল আমিও বাস নামতে পারব না।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্যাসেরসংকট চলছে, গাড়ি তো কম থাকবেই। সংকট কেটে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জুবায়ের আহমেদ, ছালেহ আতিফ ও অনির্বাণ বিশ্বাস]

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ঘুরিয়ে নিইনি।’ তবে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আন্দোলন সাফল্যের ‘কেবল শুরু’ বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর আসার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘এটি কেবল প্রথম উইকেটের পতন হলো। আমরা এখানেই থেমে যাব না। এটি তো কেবল শুরু। গত ৩৬ দিন ধরে যাঁরা এখানে অবস্থান করছেন, সেই সব শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে আমি সালাম জানাই।’ এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরের প্রবেশদ্বারে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা গেছে। তীব্র ভিড় ঠেলে সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আন্দোলনস্থলের ভেতরে অবিরত স্লোগান চলছে। অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের একাংশ স্লোগান দেয়, সংগ্রাম এখনো জারি আছে, এবার লক্ষ্য ই-২০। এদিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর শনিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে যন্তর মন্তর আন্দোলনস্থল থেকে সংসদ মার্গমুখী সড়কে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠি এক্সে পোস্ট করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে তাদের সময় ব্যয় করতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনা করে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ঘিরে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করে আসছেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানান।
গত শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। সিজেপি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
গত শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেগুলো হলো—বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সিজেপির নেতারা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে বিজেপির কয়েকটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সরকার কোনোভাবেই মানবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রীর পদে আসা ধর্মেন্দ্র প্রধানের নিজের রাজনৈতিক জীবনের যাত্রাও শুরু হয়েছিল আশির দশকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বিবিসি, দ্য হিন্দু

আগামী দুই মাসের মধ্যেই বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন তা নির্ধারিত হয়ে যাবে। সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। নির্বাচন কমিশনও আজ রবিবার এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সাক্ষাতের বিধান রয়েছে। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সংসদের বৈঠক নিশ্চিত করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ আইনের ৫ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগের নির্বাচনগুলোতে স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ পর্ব শেষ হওয়ার পর দু-এক দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
গতবার ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিন ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটগ্রহণের তারিখ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান ছিল ২৫ দিন। তবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রয়োজন হয় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হলেই একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তার আগে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করলেই জানা হয়ে যায় কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।
এবার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন পড়ছে না। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ওই নির্বাচন সামনে রেখে সংসদ ভবন, বঙ্গভবন ও রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের অধিবেশন ঘিরেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ৭ জুন শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশন ১৫ জুলাই শেষ হয়েছে। ফলে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই অধিবেশনেই নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশা করি।’
এদিকে আজ জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর তাঁর বঙ্গভবনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গভবনে অফিস ও সংসদ ভবনে স্পিকারের বাসায় থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজই বঙ্গভবনের সরকারি বাসভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় ফিরতে পারেন বলে জানা গেছে।
কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি : দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, বিএনপিদলীয় নাকি বাইরের কেউ, তা দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিএনপি সভা করবে, স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং হবে; আমাদের তো এখনো কোনো মিটিংই হয়নি। বৈঠকের পর বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।’ আপনি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।’ বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আট নির্বাচনে মাত্র একবার ভোট : ১৯৯১ সালে সংবিধানের ১২তম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা এবং পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একবার রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়। আর ওই সময় বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছিল বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। ওই নির্বাচনে আব্দুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন।
আইনমন্ত্রী যা বলেছেন : পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পর্যাপ্ত সময় আছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল শনিবার বলেছেন, ‘সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা, আশা করি সেই অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।’ রাজধানী ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা : গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, খুব দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। রবিবার (আজ) এ বিষয়ে কমিশন আলোচনায় বসবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। তিনি ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ ৯০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই ‘নির্বাচনী কর্তা’র দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। সে অনুযায়ী ইসি ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মতোই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।