• ই-পেপার

বিশেষ লেখা

খামেনির পর ইরান কোন পথে যাবে সেটাই বড় প্রশ্ন

  • পারভেজ করিম আব্বাসী

রাখাইনে বিমান হামলায় কাঁপছে টেকনাফ

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে দখলদার আরাকান আর্মির (এএ) ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনী। আর তার পাল্টা জবাব দিচ্ছে আরাকান আর্মি সদস্যরাও।  হামলা ও পাল্টা হামলায় হতাহত বাড়ছে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বেসামরিক লোকজন। এ অবস্থায় রাখাইন রাজ্যের বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ওপারে বিকট শব্দের বিস্ফোরণে এখানকার সীমান্তবর্তী মানুষজনের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। সেই সঙ্গে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কাও করছে কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার টেকনাফে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদ ও স্থল সীমানায় বিজিবি-কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টানা ১১ মাস যুদ্ধের পর ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্য থেকে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুচিডং, রাচিডং টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা দখলে নেয় আরাকান আর্মি। বাকি আছে রাজ্যের রাজধানী  সিথুয়ে। এখন সিথুয়ে থেকে উড়ে এসে বিমানে হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। মংডু থেকে সিথুয়ের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। দখলকৃত রাখাইন রাজ্যের বিপরীতে টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পড়েছে। জানা গেছে, মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনীর উপর্যুপরি বিমান হামলায় কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা। দীর্ঘ প্রায় সাত মাস পর বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা চালাল দেশটির সেনাবাহিনী। গত তিন দিনের উপর্যুপরি হামলায় রাখাইনের সাহেববাজার, ভুচিডং ও বলিবাজার এলাকায় বহু লোকজন হতাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জান্তা বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলিবাজারের আরাকান আর্মির বড় ক্যাম্প। গত বুধবার থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিন আরাকান আর্মির ক্যাম্পগুলো লক্ষ্য করে জান্তা সরকারের বিমান হামলা চলেছে। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিমান হামলার ঘটনা কমেছে বলে জানা গেছে।

টেকনাফে গতকাল জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় অপহরণ, মাদক-অস্ত্র চোরাচালান ও সমুদ্রপথে মানবপাচার বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ, আশ্রয়শিবিরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা অনলাইন জুয়া বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে সকাল ১১টা থেকে এই বিশেষ সভা বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।

সভায় মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং নাফ নদ সংলগ্ন টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরেন কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। সভায় জানানো হয়, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নাফ নদ অতিক্রম করে কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও টহল বাড়াতে হবে। সভা শেষে এমপি শাহজাহান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া বহুমাত্রিক অপরাধের ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী এবং বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশসহ মাদক ও পণ্য পাচার রোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের রামু বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার অধিনায়ক লে. কর্নেল নিয়ানুল হালিম খান, উখিয়া ৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার প্রমুখ।

এদিকে মায়ানমার বাহিনী এবং রাখাইনের বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের মধ্যেও টেকনাফের স্থলবন্দর যথারীতি চালু রয়েছে। স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জসিম উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাখাইনে সংঘাত অব্যাহত থাকলেও মাছ বোঝাই তিনটি কার্গো নৌকা গত বৃৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের জেটিতে এসে ভিড়েছে। অন্যদিকে গতকালও রপ্তানির পণ্য নিয়ে দুটি কার্গো বোট গেছে মায়ানমারে।

উক্তি

উক্তি

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বদলি নয়, চাকরিচ্যুত করা হবে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাউল-ফকির ও মাজারে হামলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাউল-ফকির ও মাজারে হামলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

দেশের বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী ও মাজার-খানকাসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুন এসংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। গত ১ জুলাই লিখিত আদেশটি প্রকাশ করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, লিখিত আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে।

এ ছাড়া বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাঁদের হামলা-নিপীড়ন থেকে রক্ষা করা এবং হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী ও মাজার-খানকাসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও মো. জাহিদুল ইসলাম জনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের হামলার শিকার হয় মাজার, দরগাহ, খানকাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা।

এসব ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন পারভীন হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আমেনা মহসিন, সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর হাসান শাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভোগের শিক্ষক গীতিআরা নাসরিন, লেখক-গবেষক আলতাফ পারভেজ, কণ্ঠশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানসহ ৩০ জন নাগরিক হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২১ জুন হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দলটির রাজনৈতিক মৃত্যু ও দিল্লিতে দাফন হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই ২৪ শহীদ পরিবারআমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেয়। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ে গণহত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার পরও শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বরং আন্দোলনকারীদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। বিদেশে বসে আওয়ামী লীগের নেতারা এখনো উসকানি দিচ্ছেন।

জুলাইয়ের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তিনি বিদেশে নির্বাসিত ছিলেন। তবে তাঁরা নির্বাসনে না থাকলে হয়তো আন্দোলন সফল হতো না। কারণ তাঁরা শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনের নেপথ্যে সহযোগিতা করেছেন এবং রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবসা বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার সুযোগ নেই। এ নিয়ে ব্যবসা কাম্য নয়। কারণ অতীতে কোনো চেতনার ব্যবসাই ভালো কিছু বয়ে আনেনি। তাই এই চেতনাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। জুলাইয়ের স্বপ্ন ও চেতনাকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই চেতনার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবে।

আওয়ামী লীগের বিচারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এরই মধ্যে চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

আন্দোলনের নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপ্লবের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আমি বিদেশে নির্বাসিত ছিলাম। কিন্তু আমরা এক মুহূর্তের জন্যও স্থির থাকিনি। অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সফল করতে পর্দার অন্তরালে থেকে আমরা রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেছি। তারেক রহমানের সঠিক দিকনির্দেশনা ও নির্ঘুম প্রচেষ্টার কারণেই এই স্বৈরাচারের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার এবং তাদের দোসররা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তবে সরকার এসব অপতৎপরতা সম্পর্কে পুরোপুরি সতর্ক। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার তার পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের অদম্য চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে। এই চেতনা বাস্তবায়নে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।