• ই-পেপার

শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • দলটির রাজনৈতিক মৃত্যু ও দিল্লিতে দাফন হয়েছে

রাখাইনে বিমান হামলায় কাঁপছে টেকনাফ

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে দখলদার আরাকান আর্মির (এএ) ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনী। আর তার পাল্টা জবাব দিচ্ছে আরাকান আর্মি সদস্যরাও।  হামলা ও পাল্টা হামলায় হতাহত বাড়ছে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বেসামরিক লোকজন। এ অবস্থায় রাখাইন রাজ্যের বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ওপারে বিকট শব্দের বিস্ফোরণে এখানকার সীমান্তবর্তী মানুষজনের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। সেই সঙ্গে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কাও করছে কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার টেকনাফে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদ ও স্থল সীমানায় বিজিবি-কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টানা ১১ মাস যুদ্ধের পর ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্য থেকে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুচিডং, রাচিডং টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা দখলে নেয় আরাকান আর্মি। বাকি আছে রাজ্যের রাজধানী  সিথুয়ে। এখন সিথুয়ে থেকে উড়ে এসে বিমানে হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। মংডু থেকে সিথুয়ের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। দখলকৃত রাখাইন রাজ্যের বিপরীতে টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পড়েছে। জানা গেছে, মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনীর উপর্যুপরি বিমান হামলায় কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা। দীর্ঘ প্রায় সাত মাস পর বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা চালাল দেশটির সেনাবাহিনী। গত তিন দিনের উপর্যুপরি হামলায় রাখাইনের সাহেববাজার, ভুচিডং ও বলিবাজার এলাকায় বহু লোকজন হতাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জান্তা বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলিবাজারের আরাকান আর্মির বড় ক্যাম্প। গত বুধবার থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিন আরাকান আর্মির ক্যাম্পগুলো লক্ষ্য করে জান্তা সরকারের বিমান হামলা চলেছে। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিমান হামলার ঘটনা কমেছে বলে জানা গেছে।

টেকনাফে গতকাল জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় অপহরণ, মাদক-অস্ত্র চোরাচালান ও সমুদ্রপথে মানবপাচার বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ, আশ্রয়শিবিরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা অনলাইন জুয়া বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে সকাল ১১টা থেকে এই বিশেষ সভা বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।

সভায় মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং নাফ নদ সংলগ্ন টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরেন কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। সভায় জানানো হয়, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নাফ নদ অতিক্রম করে কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও টহল বাড়াতে হবে। সভা শেষে এমপি শাহজাহান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া বহুমাত্রিক অপরাধের ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী এবং বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশসহ মাদক ও পণ্য পাচার রোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের রামু বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার অধিনায়ক লে. কর্নেল নিয়ানুল হালিম খান, উখিয়া ৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার প্রমুখ।

এদিকে মায়ানমার বাহিনী এবং রাখাইনের বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের মধ্যেও টেকনাফের স্থলবন্দর যথারীতি চালু রয়েছে। স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জসিম উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাখাইনে সংঘাত অব্যাহত থাকলেও মাছ বোঝাই তিনটি কার্গো নৌকা গত বৃৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের জেটিতে এসে ভিড়েছে। অন্যদিকে গতকালও রপ্তানির পণ্য নিয়ে দুটি কার্গো বোট গেছে মায়ানমারে।

উক্তি

উক্তি

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বদলি নয়, চাকরিচ্যুত করা হবে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশেষ লেখা

খামেনির পর ইরান কোন পথে যাবে সেটাই বড় প্রশ্ন

পারভেজ করিম আব্বাসী

খামেনির পর ইরান কোন পথে যাবে সেটাই বড় প্রশ্ন

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এ সময় তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বলেছিল, তারা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। কিন্তু খামেনির মৃত্যুর কয়েক মাস পরও দেখা যাচ্ছে, ইরানের সরকার টিকে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি, সামরিক সক্ষমতা এবং জনগণের প্রতিরোধের মাধ্যমে টিকে থাকতে পেরেছে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, আলী খামেনি আসলে কেমন নেতা ছিলেন? তিনি শুধু ৩৭ বছর ইরানের সুপ্রিম লিডার ছিলেন না, ইসলামী বিপ্লবের শুরু থেকেই একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাঁর জন্ম ইরানের মাশহাদ শহরে। তাঁর পরিবার আজারি বংশোদ্ভূত। ছোটবেলায় আর্থিক কষ্টের মধ্যেই বড় হয়েছেন। পরে নাজাফ ও ইরানের কওম (বা কুয়াম) শহরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সরাসরি ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকেই ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে শিক্ষা নেন। বিশেষ করে ভেলায়াতে ফকিহ ধারণা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার ভিত্তি গড়ে দেয়। শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনামলে খামেনিকে ছয়-সাত বার গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হন।

অনেকেই জানেন না, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি খামেনি ফারসি সাহিত্য ও কবিতারও বড় অনুরাগী ছিলেন। তিনি পশ্চিমা সাহিত্যের কিছু রচনাও ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। ফলে তাঁর বক্তব্যে যেমন ধর্মীয় আদর্শের দৃঢ়তা ছিল, তেমনি সাহিত্যিক সৌন্দর্যও ছিল। এ কারণে ইসলামী বিপ্লবের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর তিনি খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে এক বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তাঁর ডান হাত স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর অনেকেই তাঁকে জীবন্ত শহীদ বলেও উল্লেখ করতেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় বড় প্রভাব ফেলে। তিনি উপলব্ধি করেন, সংকটের সময় পশ্চিমা বিশ্ব বা মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশ ইরানকে সহায়তা করবে না। তাই ইরানকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং নিজস্ব সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনিকে ইরানের সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করা হয়। সে সময় ধর্মীয় যোগ্যতার দিক থেকে তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলেম ছিলেন না। অনেকের মতে, আপসের ভিত্তিতেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর পর থেকে তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন। আগে এটি একটি প্যারামিলিটারি বাহিনী হলেও ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।

আলী খামেনির নেতৃত্বে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আরো এগিয়ে যায়। যদিও পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তি শাহ আমলেই তৈরি হয়েছিল, কিন্তু খামেনির সময় এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসরায়েলের তীব্র বিরোধিতা ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ইরান। তবে খামেনি এই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রতিরোধের মাধ্যমেই ইরান তার স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে।

তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার করা। বিশেষ করে শিয়া জনগোষ্ঠী ও ইরানপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, ইরাকের শিয়া গোষ্ঠী, সিরিয়ার সরকার এবং পাকিস্তানের কিছু শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক তাঁর সময়ে আরো শক্তিশালী হয়। এই নীতির মাধ্যমে তিনি একটি আঞ্চলিক প্রতিরোধ বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

আলী খামেনির উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির কথাও বলতে হয়। তাঁর নেতৃত্বে ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাক ও সিরিয়ার ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তবে এই নীতির কারণে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমানসহ কয়েকটি আরব দেশ সময় সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। যদিও এসব দেশের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে আছে এবং দেশটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় রয়েছে। পাকিস্তান, কাতারসহ কয়েকটি দেশ এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইরানের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে? নতুন নেতৃত্ব কি আগের নীতি অনুসরণ করবে, নাকি ভিন্ন পথে হাঁটবে? এটি এখনই বলা কঠিন। অনেকের মতে, আলী খামেনি কঠোর অবস্থানের নেতা হলেও প্রয়োজনের সময় বাস্তববাদী সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। তিনি কখন শক্তি প্রয়োগ করতে হবে এবং কখন আলোচনায় বসতে হবেদুই ধরনের কৌশলই ব্যবহার করেছেন। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব আরো কঠোর হবে, নাকি তুলনামূলক নমনীয় হবে, তা সময়ই বলে দেবে।বাংলাদেশের মতো তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে।

লেখক : সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক

বাউল-ফকির ও মাজারে হামলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাউল-ফকির ও মাজারে হামলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

দেশের বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী ও মাজার-খানকাসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুন এসংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। গত ১ জুলাই লিখিত আদেশটি প্রকাশ করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, লিখিত আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে।

এ ছাড়া বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাঁদের হামলা-নিপীড়ন থেকে রক্ষা করা এবং হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী ও মাজার-খানকাসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও মো. জাহিদুল ইসলাম জনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের হামলার শিকার হয় মাজার, দরগাহ, খানকাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা।

এসব ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন পারভীন হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আমেনা মহসিন, সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর হাসান শাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভোগের শিক্ষক গীতিআরা নাসরিন, লেখক-গবেষক আলতাফ পারভেজ, কণ্ঠশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানসহ ৩০ জন নাগরিক হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২১ জুন হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।