কানাডার জালে বল জড়িয়ে বাঁধনহারা উল্লাস জোভো লুকিচের। ২১ মিনিটে লুকিচের লক্ষ্যভেদে ১-০-তে এগিয়ে গিয়ে মাঝবিরতিতে গিয়েছিল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। ছবি : রয়টার্স

কানাডার জালে বল জড়িয়ে বাঁধনহারা উল্লাস জোভো লুকিচের। ২১ মিনিটে লুকিচের লক্ষ্যভেদে ১-০-তে এগিয়ে গিয়ে মাঝবিরতিতে গিয়েছিল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে (সকাল ৭টা)
সুইজারল্যান্ড-কাতার (রাত ১টা)
ব্রাজিল-মরক্কো (রাত ৪টা)
স্কটল্যান্ড-হাইতি (কাল সকাল ৭টা)

আমরা সবাই চাই যেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফাইনালে খেলে। তাহলে বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমাদের যে আমেজ ও উৎসাহ রয়েছে, শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারব।
মো. আমিনুল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ মানেই যেন হারের হতাশা সঙ্গী হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। টানা চারটি বিশ্বকাপে এটা অলিখিত নিয়মই হয়ে গিয়েছিল। তবে এবারের বিশ্বকাপে সেই খরা কাটিয়েছে দলটি। প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে গতকাল সকালে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা মনে রাখার মতো করেছে তারা।
অবশ্য ম্যাচজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ারই আধিপত্য ছিল। তবু তারা পিছিয়ে পড়েছিল গোল করতে না পারার ব্যর্থতায়। তবে হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত বদলি খেলোয়াড় ও হ্যন-গিউ’র জয়সূচক গোলে চেকিয়ার বিপক্ষে তাদের জয় ২-১ ব্যবধানে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচের নায়ক অবশ্য হোয়াং ইন-বম। দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে তাঁর উত্থান সহজ ছিল না। দেশের ঘরোয়া ফুটবল থেকে শুরু করে বিদেশের বিভিন্ন লিগে নিজেকে প্রমাণ করার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। প্রতিটি ক্লাবে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমত্তার জন্য। আলোচনায় কম এলেও কোচদের কাছে হোয়াং ইন-বম নির্ভরতার প্রতীক।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে সেই নির্ভরযোগ্য সৈনিকই দক্ষিণ কোরিয়ার ভরসা হয়েছেন। ম্যাচের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে কেন্দ্র করে একের পর এক আক্রমণ শানায় তারা। প্রথমার্ধে দলের আটটি শটের মধ্যে পাঁচটিই আসে সনের পা থেকে। তবে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভার। তবে চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভারের দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হতে হয় কোরিয়ানদের।
খেলার ধারার বিপরীতে ৫৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। ভ্লাদিমির কুফালের লম্বা থ্রো থেকে উড়ে এসে হেডে বল জালে পাঠান অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি। সেটিই ছিল ম্যাচে চেকদের প্রথম অন-টার্গেট শট, আর তাতেই আসে গোল। গোল হজমের পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। এর ফলও মেলে দ্রুত। ৬৭তম মিনিটে লি কাং-ইনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান হোয়াং ইন-বম। বক্সের ভেতরে গোলরক্ষককে ধোঁকা দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন তিনি। দ্বিতীয় গোলটির অগ্রভাগেও ছিলেন হোয়াং ইন-বম। তাঁর দারুণ ক্রস থেকে সহজ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা ও হ্যন-গিউ। ৮০ মিনিটের সেই গোলেই ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে শেষ মুহূর্তগুলোতে চেক প্রজাতন্ত্র সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায়। সে সময় দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। ৮২ মিনিটে অ্যাডাম হ্লোজেকের কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান তিনি। যোগ করা সময়েও গোলবারের নিচে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত দারুণ এক জয়ই সঙ্গী হয়েছে।