দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিলম্ব না করে সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত সাত জেলায় কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছে, যা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আকস্মিক ও প্রলম্বিত বন্যায় চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধান ও শাক-সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। অনেক বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায় সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।
কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ২৪ কোটি ৬১ লাখ ৩৩ হাজার টাকার কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুমোদন করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এসব জেলার ৬৩ হাজার ৯৭৩ জন কৃষক বিনামূল্যে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, সরকারি জমিতে উৎপাদিত চারা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সহায়তা পাবেন। জানা গেছে, প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমির জন্য পাঁচ কেজি মানসম্মত উফশী বীজ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ও সরকারি বরাদ্দ থেকে বহন করা হবে।
দেশের কৃষকসমাজের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাষাবাদ করেও কৃষকের প্রায় কিছুই থাকে না। তার পরও তাঁরা ধারদেনা করে, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফসল ফলান। এর মধ্যে বন্যার মতো দুর্যোগে কৃষকরা সহায়-সম্বল, আশা-ভরসা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এবার বন্যায় বহু কৃষকের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি থাকার ঘরও ভেসে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি পুনবার্সন কর্মসূচি অত্যন্ত অপরিহার্য ছিল।
এই সাত জেলার বাইরেও বিভিন্ন স্থানে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৬ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় ৪৩ জেলায় ২৪ হাজার ১৩৮.৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৭২ মেট্রিক টন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই লাখ ৪৩ হাজার ৬৬০ জন কৃষক। কাজেই ক্ষতির বিবেচনায় পুনর্বাসন কর্মসূচির পরিধি আরো বাড়াতে হবে।
আমরা মনে করি, ঘোষণা অনুযায়ী পুনর্বাসন কর্মসূচির শতভাগ সুফল যেন মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হাতে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন এই সহায়তা থেকে বাদ না পড়েন।

