৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডারে ২০১ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট এক হাজার ৫২১ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই বিসিএসে মোট ক্যাডার পদ ছিল তিন হাজার ৪৮৭টি। যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় অবশিষ্ট দুই হাজার ১৬৭টি পদে কাউকে সুপারিশ করা হয়নি। ক্যাডার পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন।
ক্যাডার পদে মনোনয়নের শর্ত
* প্রার্থীর আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত সনদ, তথ্য, ডকুমেন্টস ইত্যাদি ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং আবেদনপত্রে প্রার্থীর অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কমিশন কর্তৃক প্রার্থীকে এই শর্তে সাময়িকভাবে মনোনয়ন প্রদান করা হলো যে নিয়োগের পূর্বে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রার্থীর সংযুক্ত সনদ, ডকুমেন্টস বা কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেবে।
* সাময়িকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে কোনো প্রার্থী আবেদনপত্রে জ্ঞাতসারে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন বা টেম্পারিং বা কোনো জাল সার্টিফিকেট জমা বা বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত সার্টিফিকেটের কোনো অংশ বা প্রবেশপত্র টেম্পারিং বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করলে বা কোনো গুরুতর অসম্পূর্ণতা (Substantive incompletion) ধরা পড়লে বিজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে। তা ছাড়া বর্ণিত অপরাধে জড়িত প্রার্থীকে ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করা হতে পারে। এমনকি প্রার্থীকে চাকরিতে নিয়োগের পরও এমন কোনো তথ্য প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা ছাড়াও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
* বিসিএস ক্যাডার পদে মনোনীত প্রার্থীদের ‘বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪’ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ঘোষণা ও যথাযথ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্ত যাচাইয়ের পর সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হবে। নন-ক্যাডার পদে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক সম্পন্ন করতে হবে।
* লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেও ক্যাডারের শূন্য পদের স্বল্পতার কারণে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁদের মধ্য থেকে মেধা ও সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগ যোগ্যতা, সরকারের সর্বশেষ কোটা পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক ‘নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩’-এর বিধান অনুসারে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অধিযাচন বা চাহিদা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক নবম, দশম ও ১২তম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
* প্রার্থীর আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রদত্ত তথ্য, ডকুমেন্টস, সনদ ইত্যাদি এবং আবেদনপত্রে প্রার্থীর প্রদত্ত অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে প্রার্থীদের মনোনীত করবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। নিয়োগের আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অন্যান্য ডকুমেন্টসের সত্যতা যাচাই, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রার্থীর উচ্চতা, বুকের মাপ ও ওজন সম্পর্কিত তথ্য এবং প্রাক-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্ত যথাযথ এজেন্সি কর্তৃক যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হয়ে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রদান করা হবে।
* প্রকাশিত মনোনয়নে কোনো ভুল-ত্রুটি পাওয়া গেলে তা পরিবর্তন বা সংশোধন করা হবে।
তথ্যসূত্র : সরকারি কর্ম কমিশন




