‘বৈশাখে আম পাকে, আরো পাকে জাম, মৌ মৌ ঘ্রাণ ছোটে সবাই খাব আম।’ গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন সেজে ওঠে আমের রঙে ও সুবাসে। ফলের দোকান থেকে শুরু করে পথের ধারের অস্থায়ী বাজার—সবখানেই আমের প্রাচুর্য চোখে পড়ে। এ সময় প্রতিটি ঘরে থাকে আমের উপস্থিতি। কেউ পাকা আমের স্বাদ নেয় সরাসরি, কেউ তৈরি করে শরবত, জুস, আচার কিংবা মুখরোচক মিষ্টান্ন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের কাছেই সমান জনপ্রিয় এই ফল।
আমের মৌসুম ক্ষণস্থায়ী হলেও এর স্বাদ ও মাধুর্য দীর্ঘদিন মনে গেঁথে থাকে। মৌসুম ফুরিয়ে গেলেও প্রিয় এই ফলের স্বাদ ধরে রাখতে অনেকেই বেছে নেয় সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায়। ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। ফলে ঋতু পেরিয়ে গেলেও বছরের বিভিন্ন সময়ে ফ্রিজে রাখা আমে ফিরে পাওয়া যায় গ্রীষ্মের সোনালি দিনের স্মৃতি, আর জিভে লেগে থাকে বাংলার প্রিয় ফলের চিরচেনা মিষ্টি স্বাদ।
আমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অটুট রাখতে সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন সচেতনতা। পুষ্টিবিদদের মতে, পাকা আম দীর্ঘদিন ফ্রিজে সংরক্ষণ না করাই উত্তম। অতিরিক্ত সময় ধরে সংরক্ষণের ফলে ধীরে ধীরে এর স্বাভাবিক পুষ্টিমান কমে যায়। তাই মৌসুমি এই ফলের প্রকৃত স্বাদ ও গুণাগুণ উপভোগ করতে যথাসম্ভব তাজা অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সংরক্ষণ করা যেতে পারে প্রয়োজনের তাগিদে, তবে তা যেন স্বাদ ও পুষ্টির সঙ্গে আপস না করে সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
সারা বছর পাকা আমের স্বাদ ধরে রাখার উপায়
* সংরক্ষণের জন্য ভালো মানের, সম্পূর্ণ পাকা ও তাজা আম বেছে নিন। এরপর আমগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। খোসা ছাড়ানোর পর আমের আঁটি আলাদা করে শুধু আমের শাঁস সংগ্রহ করুন।
* সংগ্রহ করা আমের শাঁস ফুড গ্রেড মানের বায়ুরোধী পাত্রে ভরে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। ছোট ছোট পাত্র ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনক। প্রতিটি পাত্রে এমন পরিমাণ আম রাখা উচিত, যা একবার বের করে সহজেই খাওয়া বা ব্যবহার করা যায়। এতে বারবার গলানো ও পুনরায় সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না এবং আমের গুণগত মানও ভালো থাকে।
* প্রয়োজনের সময় ফ্রিজ থেকে আম বের করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে তৈরি করা যায় সুস্বাদু জুস, মিল্কশেক কিংবা নানা ধরনের ডেজার্ট। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে আমের স্বাদ, ঘ্রাণ ও রসালত্ব অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে।
* আমের টুকরা, পিউরি [রস] বা আস্ত আম ভালোভাবে জিপলক ব্যাগ বা এয়ারটাইট বক্সে ভরে ডিপ ফ্রিজে রেখে ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত রেখে খাওয়া যায়। স্বাদ ও গন্ধও ঠিক থাকে।
* ফ্রিজে একসঙ্গে অনেক আম না রেখে ছোট ছোট আলাদা ব্যাগে রাখুন।
* পাকা আম সামান্য জ্বাল দিয়ে ঘন পাল্প বা জ্যামের মতো বানিয়ে কাঁচের বয়ামে নরমাল ফ্রিজে কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যায়।
* আস্ত আম সংরক্ষণ করতে চাইলে প্রথমে কাগজের ব্যাগে আমগুলো রাখুন। ব্যাগটি একটি কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। এবার আরেকটি পলিথিনের ব্যাগে তুলে রাখুন। এরপর ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। অনেক দিন পর্যন্ত এভাবে আম ভালো থাকবে।












