• ই-পেপার

জয়পুরহাটে শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক সভা

মানিকগঞ্জে আ. লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জে আ. লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মানিকগঞ্জে সাটুরিয়ার তিল্লী ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোরসালিন বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন ) বিকেল ৪টার দিকে এক বিশেষ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। 

মো. মোরসালিন বাবু তিল্লী ইউনিয়নের মৃত আব্দুস সালাম চেয়ারম্যানের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান। 

মানিকগঞ্জ ডিবি অফিসার ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালো জানান, সাটুরিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মোরসালিন বাবু। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রাজশাহীতে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীতে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা
ছবি: কালের কণ্ঠ

সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারের ডুলাহাজারায় মূল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে দুপুরে রাজশাহী মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স চত্বরে নিমগাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

এ উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে রাজশাহীর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ কদম চারা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন জাম চারা, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির কাঁঠাল চারা এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কাঠবাদাম চারা রোপণ করেন।

এছাড়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান আম চারা, বগুড়া সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সুবেদার ইসলাম জলপাই চারা এবং রাজশাহীর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম আমলকী চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। আয়োজকেরা জানান, এই কর্মসূচিতে আগত অতিথিদের প্রত্যেককে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে মে মাসে ৩৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে মে মাসে ৩৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩
প্রতীকী ছবি

সিলেট বিভাগে গত মে মাসে ৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে সারা দেশের বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনার চিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে সিলেট বিভাগের এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে সারা দেশে সড়কপথে ৬১৩টি দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছে। বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও নিহতের হার উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গড় হিসেবে সিলেটে প্রতিটি দুর্ঘটনায় একজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪২ শতাংশের বেশি ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে এবং ৩৬ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক। সংগঠনটি জানিয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত হতাহত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পিরোজপুর

সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

প্রাধান্য পাচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি

ইমাম হোসেন মাসুদ, পিরোজপুর
সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে তোলা হচ্ছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কেনা ধান। সম্প্রতি তোলা। কালের কণ্ঠ

ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন পরিতোষ হালদার। উৎপাদনও হয় ভালো। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার এই কৃষকের। 

পরিতোষের অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে ভেজা বা নিম্নমানের অজুহাত দেখিয়ে তা কেনা হয় না। অথচ সহজেই সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রভাবশালীদের ধান।

শুধু পরিতোষ নয়, উপজেলার অনেক কৃষকের অভিযোগ একই প্রায় রকম। সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা। 

কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক কৃষক। 

কৃষকরা জানান, উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। কখন ধান জমা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভও করেন কৃষকরা।

কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারীর অভিযোগ, তিনি ২৫ মণ ধান নিয়ে গুদামে যান। কিন্তু দীর্ঘ সারির কথা বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তার দাবি, গুদামের সামনে হাজার হাজার বস্তা ধান মজুদ রাখায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এতে সরকারি দামে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের বাইরে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, অন্য চাষিরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো  কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহের অভিযোগও করেন তারা।

এদিকে সম্প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ভালো মানের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরবরাহ করা নিম্নমানের ধান কেনা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ধান নিয়ে এলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তার ভাষ্য, বর্তমানে বস্তার কিছু সংকট থাকায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদামের বাইরে ধান কেনাবেচা বা কারা ধান মজুত করছে, সে বিষয়ে তার কোনো দায়িত্ব নেই বলেও জানান তিনি। কৃষি কার্ডধারী ব্যক্তি ধান নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট এক  হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

কৃষকদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

জয়পুরহাটে শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক সভা | কালের কণ্ঠ