• ই-পেপার

অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন স্টিভ স্মিথ

একজন ছাড়া আমাকে উপদেশ দেওয়ার কেউ নেই: আনচেলত্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
একজন ছাড়া আমাকে উপদেশ দেওয়ার কেউ নেই: আনচেলত্তি
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মহানাটকীয় জয় দিয়ে নকআউটের টিকিট কেটেছে ব্রাজিল। জাপানিদের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ম্যাচের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সেই নান্দনিক গোলে রক্ষা হয় সেলেসাওদের।

আর এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছেন রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি।

তবে ব্রাজিলিয়ানদের সেই প্রশংসায় গলে যাচ্ছেন না সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড়ানো এই ইতালিয়ান সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন কড়া জবাব।

লাতিন সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা ডি এস পাওলো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘ইতালিতে একটা কথা প্রচলিত আছে—সব পুরুষই কোচ হতে চায় আর সব নারী আর্কিটেক্ট। আমি ফুটবল বুঝি কি বুঝি না, তা নিয়ে আমার বিচার করার অধিকার কারও নেই।’

অভিজ্ঞতার ঝুলি মেলে ধরে আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ‘একটা বিষয় নিশ্চিত, আমি কোচ হিসেবে এ পর্যন্ত ১৪০০-র বেশি ম্যাচের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। ফুটবল বোঝার জন্য এটা যথেষ্ট কি না জানি না, তবে অভিজ্ঞতাটা নেহাত কম নয়। পুরো ফুটবল বিশ্বে আমার চেয়ে বেশি ম্যাচ ডাগআউটে পার করেছেন কেবল একজন—স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন (২০০০-এর বেশি ম্যাচ)। আমি সবার উপদেশই শুনি, তবে আমাকে উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি কেউ থেকে থাকেন, তবে তিনি একমাত্র ফার্গুসন। আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আমি কোনো জিনিয়াস নই, তবে একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত যে আমি কোনো বোকাও নই।’

জাপান-বধের মিশন শেষ, ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা। রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের শক্তিশালী দল নরওয়ে।

প্রতিপক্ষকে সমীহ করে ইতালিয়ান এই বস জানান, নরওয়ে শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের রক্ষণভাগ দারুণ সুসংগঠিত। বিশেষ করে সেট-পিস এবং আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারের উপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় হুমকি।

রিয়াল মাদ্রিদ ও নাপোলির কোচ থাকাকালীন হালান্ডকে দুইবার সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে আনচেলত্তির। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনকে আটকানোর জন্য কোনো ম্যান-মার্কিং বা বিশেষ একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না, বরং পুরো বক্স সামলানোর কাজটি হবে ‘যৌথ প্রচেষ্টায়’।

এদিকে ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপে আসা এবং প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন কোচ। আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, নেইমার এখন শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট এবং ম্যাচের প্রয়োজনে পুরো ৯০ মিনিট খেলতেও তার কোনো বাধা নেই।

তবে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় নেইমার যে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন, তাও আড়াল করেননি কোচ, ‘খেলার সময় না পাওয়ায় ও কিছুটা অসন্তুষ্ট, তবে বিষয়টিকে ও ইতিবাচকভাবেই দেখছে এবং অনুশীলনে নিজের সেরাটা দিচ্ছে।’ 

স্বাগতিকদের উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক
স্বাগতিকদের উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো
ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধের ডেডলক ভেঙে দ্বিতীয়ার্ধেই আসল রূপ দেখাল মরক্কো। প্রথম ৪৫ মিনিট কানাডার ইস্পাতকঠিন রক্ষণ আর বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক অ্যাটলাস লায়নদের কিছুটা বাধা দিলেও, বিরতির পর চেনা ছন্দে ফিরল আশরাফ হাকিমিরা। শেষ পর্যন্ত কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দেশ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল আফ্রিকার এই পরাশক্তি।

অথচ নকআউটের প্রথম এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দেয়নি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমলেও প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল গোলশূন্য সমতায়। প্রথম ৪৫ মিনিটের চিত্র বলছিল, বল দখলে মরক্কো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মাঠের আসল ধারটা দেখিয়েছিল কানাডাই। মরক্কোর চার-চারটি শটের বিপরীতে কানাডা শট নিতে পেরেছিল মাত্র একটি, তবে সেটিই ছিল বেশ বিপজ্জনক। কিন্তু দুই দলের গোলরক্ষক আর ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি কেউই।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই যেন ম্যাচের পুরো চিত্রনাট্য বদলে দেয় মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, ম্যাচের ৫০ মিনিটে দেখা গেল দারুণ এক ‘ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস’। ডান প্রান্তে পাওয়া এক ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে আশরাফ হাকিমি আলতো করে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের কাছাকাছি ওত পেতে থাকা আজ্জেদিন উনাহির দিকে। কানাডার রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই উনাহির নেওয়া চমৎকার এক মাটি কামড়ানো শট সরাসরি জড়ায় জালে! আর তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরক্কো।

খেলার শেষ দিকে যখন গোল শোধ করতে মরিয়া কানাডা অলআউট আক্রমণে মেতেছিল, ঠিক তখনই আবার গোল করেন উনাহি। ৮২ মিনিটে দলকে ২-০ তে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের একদম শেষ দিকে স্বাগতিকদের কফিনে অন্তিম পেরেকটি পুঁতে দেন সুফিয়ান রাহিমি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে দারুণ এক ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে কানাডার জাল কাঁপান তিনি।  

শেষ পর্যন্ত ৩ গোলের বিশাল ও দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। প্রথমার্ধের লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে লড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের মরক্কো-ঝড়ে উড়ে গিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কানাডাকে।

ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকান দল’ বললেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকান দল’ বললেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর মহারণে শেষ আটের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে ফিলাডেলফিয়ায় মুখোমুখি হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল প্যারাগুয়ে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, মাঠের বল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়ে গেছে তুমুল বাকযুদ্ধ।

আর সেই বিতর্কের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি গোলরক্ষক হোসে লুই চিলাভার্ট। ফ্রান্সের সাবেক ফুটবলার ক্রিস্টফ ডুগেরির এক মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে চিলাভার্ট এমন এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে বর্ণবাদের বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিলাভার্ট সরাসরি তোপ দেগে লিখেছেন, ‘১৯৯৮ বিশ্বকাপে আমরা ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিলাম, আর এবার প্যারাগুয়ে খেলবে আফ্রিকার একটি দলের বিপক্ষে।’

ফরাসি জাতীয় দলে থাকা বিভিন্ন আফ্রিকান জাতিসত্তার ফুটবলারদের ইঙ্গিত করেই যে চিলাভার্ট এই চরম আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্যটি করেছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আর এতেই ফুটবল দুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।

অবশ্য এই বিতর্কের সূত্রপাতটা করেছিলেন ফ্রান্সের সাবেক তারকা ক্রিস্টফ ডুগেরি নিজেই। রেডিও মন্টে কার্লোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যারাগুয়েকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দেওয়া হবে, অপমান করা হবে। তারা কেবল রক্ষণই করতে চাইবে, কারণ মাঠে ফুটবল খেলে কিছু করার ক্ষমতা তাদের নেই। আমি আবারও বলছি, আক্রমণভাগে তারা ভয়াবহ রকমের দুর্বল।’

ডুগেরির এমন অহংকারী ও অবমাননাকর মন্তব্যের পিঠেই পাল্টা কামড় দিতে চেয়েছিলেন চিলাভার্ট। জবাব দিতে গিয়ে ফরাসিদের মনে করিয়ে দেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের কথা। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ২৩তম মিনিটে লরা ব্লাঁর ঐতিহাসিক ‘গোল্ডেন গোল’-এ কোনোমতে ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টারে উঠেছিল ফ্রান্স, যারা পরে ঘরের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। চিলাভার্ট বোঝাতে চেয়েছেন, সেদিনের সেই ফরাসি দল আর আজকের ফরাসি দলের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাত।

মরক্কো-কানাডা দ্বৈরথে প্রথমার্ধে গোলখরা

ক্রীড়া ডেস্ক
মরক্কো-কানাডা দ্বৈরথে প্রথমার্ধে গোলখরা

মিশন কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি কানাডা ও মরক্কো। তবে মাঠের লড়াইয়ে প্রথম ৪৫ মিনিটে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিল না। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে গেছে দুই দল।

ম্যাচের প্রথমার্ধের চিত্র বলছে, বল পজিশন বা বল দখলে মরক্কো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মাঠের আসল ধারটা দেখিয়েছে কানাডাই। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখে আটলান্টিক পারের দেশটি সুযোগ তৈরিতে মরক্কোর চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল।

প্রথমার্ধে মরক্কোর চার-চারটি শটের বিপরীতে কানাডা শট নিতে পেরেছে মাত্র একটি। তবে মরক্কোর চার শটের মধ্যে মাত্র একটি অন-টার্গেট (লক্ষ্যে) থাকলেও, কানাডার নেওয়া একমাত্র শটটিই ছিল একদম অন-টার্গেট এবং বেশ বিপজ্জনক। কিন্তু দুই দলের গোলরক্ষক আর ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি কেউই।