দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথ ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই বিধান চায় নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কমিশন এ বিষয়ে আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, আইনগত এই ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রয়োজন বোধে কার্যকরভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া যাবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন দরকার এবং কী কারণে কারা এটি চায় না, তা বুঝতে ২০১৫ সালে ঢাকার দুই সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনটি স্মরণ করা যেতে পারে। সে সময় স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ রাখা হয়েছিল। তার পরও নির্বাচন কমিশন বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়, ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরো আশ্বস্ত করার জন্য সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক মুভমেন্ট ও জরুরিভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরীর ভেতরেই ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট ও পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্ট এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর ভেতর হালিশহর, দামপাড়া ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশ পাওয়া মাত্র সেনাবাহিনী সঙ্গে সঙ্গে অকুস্থলে গমন করে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সেনা সদস্যদের সঙ্গে ১৬ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু তাতেও আপত্তি। ক্ষমতাসীনরা মনে করলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকলে তাঁদের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ নির্বাচনী মাঠে সেনা সদস্যরা কে কতটা প্রভাবশালী, কে কোন দলের তা দেখেন না। চাপ সৃষ্টি হলো নির্বাচন কমিশনের ওপর। কমিশন সেই চাপে নতি স্বীকার করে জানাল, সেনাবাহিনী মূলত সেনানিবাসের অভ্যন্তরে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে অবস্থান করবে এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্র দখলের মহোৎসব চললেও রিটার্নিং অফিসাররা এ ধরনের কোনো অনুরোধ করেননি বা সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হয়নি। জানা যায়, সে সময় সেনানিবাসের অভ্যন্তরেও ‘রিজার্ভ ফোর্স’ অপেক্ষায় রাখার ঘটনা ঘটেনি।
তার আগে ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন আইনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ওই বছরের ১৬ অক্টোবর চার কম্পানি সেনা চেয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দেয় কমিশন। কিন্তু কমিশনের ওই চাহিদা পূরণ হয়নি। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের অসহযোগিতা ও অমনোযোগিতাকে দায়ী করেন। সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনেরও অভিযোগ ওঠে। কারণ সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য হইবে।’ কিন্তু তৎকালীন সরকার এই বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে।
২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১২টি পৌরসভা এবং জাতীয় সংসদের হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের উপনির্বাচনেও একই ঘটনা ঘটে। ওই নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েও ড. হুদা কমিশন তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সে সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে এ বিষয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়েও জবাব পায়নি নির্বাচন কমিশন। এতে কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের ধারণা, নির্বাচনে কার্যকরভাবে সেনা মোতায়েন থাক তা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার চায়নি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বা সংসদ নির্বাচনের আইন সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আরপিওর ৮৭ অনুচ্ছেদে এই বিধান যুক্ত করা হয় যে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা না হয়েও নির্বাচনী অপরাধের জন্য কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবে।
এর আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হতো ১৮৯৮ সালের প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায়।
আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের দলগুলো ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকায় সন্তুষ্ট ছিল না। দলগুলো ওই সময় থেকে নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত না রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ব্যবস্থার যে সংস্কার প্রস্তাব রেখেছিল তাতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ সৃষ্ট সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নির্বাচনী আইন সংস্কার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা সম্পর্কে তাদের বিরোধিতা থেকে সরে আসে। এ সময় র্যাবকেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ফলে ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী ২০০১ সালের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে; যদিও ওই নির্বাচন তৎকালীন বিতর্কিত সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদের দুরভিসন্ধি থেকে মুক্ত হতে পারেনি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নয়, অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগুলোতেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ‘মহাজোট’ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হলে ওই সংসদে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও স্থানীয় সরকার আইনগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ড ও র্যাব সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচনী অপরাধের জন্য কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকলেও সশস্ত্র বাহিনী বা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের তা থাকে না।
এ অবস্থায় ২০১১ সালে ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আইন সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপের আয়োজন করে তাতে বেশির ভাগ দলের জোর দাবি ছিল নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় আবারও সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার।
বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই সংলাপে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ২০০১ সালে সেনা সদস্যদের পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো ক্ষমতা দেওয়ায় আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের অন্য দলগুলোর সঙ্গে আমরাও সেনাবাহিনীকে এ ক্ষমতা দেওয়ার বিপক্ষে।
সার্বিক এ অবস্থায় পরের তিন নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেনি বা নিতে চায়নি। এ অবস্থায় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও তা কার্যকর ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা এই মত প্রকাশ করেন যে নির্বাচনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩০ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েনে কোনো কাজ হবে না। সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে তা যদি ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে তাদের দায়িত্ব পালন নির্বিঘ্ন হবে না। আগের মতো আরপিওতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ওই সংলাপ নিয়ে কে এম নুরুল হুদার নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘নির্বাচনী সংলাপ -২০১৭’ নামে যে গ্রন্থ প্রকাশ করে তাতে সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের এই মতামত স্থান পায়। কিন্তু সে সময় ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার বিপরীতে নির্বাচন কমিশন এই মতামত গ্রহণ করতে পারেনি।
বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। সে সময় নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও জনদাবি অনুসারে সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে এবং তা বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে এই ব্যবস্থা এখনো ফিরে আসেনি।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় সরকারের মধ্যে সিটি করপোরেশনগুলো আয়তন, জনসংখ্যা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও জাতীয় সংসদের কোনো একটি আসনের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে জাতীয় সংসদের আসন রয়েছে ১৫টি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও সম্পূর্ণ ও আংশিক আটটি সংসদীয় আসন রয়েছে। সে কারণে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় আরো বেশি প্রয়োজন। পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আবার কারো কারো ধারণা, নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে না। কিন্তু সেই প্রকৃত প্রধান প্রতিষ্ঠান পুলিশ বাহিনী সঠিকভাবে গড়ে ওঠার প্রধান বাধাগুলো এখনো বহাল। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের ধাক্কা সামলিয়ে এখনো পুরোপুরি সুস্থির হতে পারেনি এ বাহিনী। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেরও আর দেরি নেই। আগামী বছরের প্রথম থেকে এই নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। একটি শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একই পরিবেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এই চ্যলেঞ্জ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের জন্যও। সে কারণে স্থানীয় নির্বাচনেও সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকর দায়িত্ব পালনের পক্ষে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জরুরি। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী বহাল থাকা দরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে গড়ে ওঠা পর্যন্ত।
লেখক : কালের কণ্ঠের উপসম্পাদক ও
নির্বাচনব্যবস্থা বিশ্লেষক





বিশ্ব-মাতানো উৎসব শেষ। ফুটবলের মালা ছিঁড়ে খসে পড়েছে আনন্দ, বেদনা, দুঃখ, আফসোস, পক্ষপাতিত্ব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অখেলোয়াড়সুলভ মনোভাব, সুবিধা দেওয়া এবং অসুবিধা সৃষ্টি, সর্বোপরি বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রভাব ইত্যাদি। ফুটবলের জাদুর সেই টান টান উত্তেজনা এখন আর নেই। এখন চলছে স্মৃতি রোমন্থনের পালা। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব মেলানো। চার বছর পর পর বিশ্বকাপ আসে
স্বচ্ছ সোলার গ্লাসের কার্যপদ্ধতি প্রচলিত সৌর প্যানেলের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হলেও মূলনীতি একই। সাধারণ সোলার প্যানেলে দৃশ্যমান সূর্যালোক সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু ট্রান্সপারেন্ট সোলার উইন্ডোতে এমন বিশেষ উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান আলোর বেশির ভাগ অংশ কাচের মধ্য দিয়ে যেতে দেয় এবং একই সঙ্গে অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জানালার চারপাশে স্থাপিত সূক্ষ্ম পরিবাহী স্তরের মাধ্যমে ভবনের বিদ্যুত্ব্যবস্থায় যুক্ত হয়। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা বা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডেও সরবরাহ করা সম্ভব। ভবনের বাইরের দেয়াল বা কাচের সম্মুখভাগ যদি পুরোপুরি এই প্রযুক্তিতে তৈরি হয়, তাহলে একটি বহুতল ভবন প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একই সঙ্গে এই কাচ সূর্যের অতিরিক্ত তাপ প্রবেশ কমিয়ে ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। ফলে এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। বর্তমানে গবেষকরা এই প্রযুক্তির দক্ষতা বা রূপান্তর হার আরো বাড়ানোর জন্য নতুন উপাদান, বিশেষ করে পেরোভস্কাইট এবং উন্নত স্বচ্ছ ফটোভোল্টাইক উপকরণ নিয়ে গবেষণা করছেন। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, অর্থনৈতিক এবং ব্যবহারবান্ধব। প্রচলিত সোলার প্যানেল বসানোর জন্য আলাদা ছাদ বা খোলা জায়গা দরকার হয়, কিন্তু স্বচ্ছ সোলার গ্লাসে সেই সমস্যা নেই। উপরন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধোঁয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইড বা শব্দদূষণ সৃষ্টি হয় না। ফলে পরিবেশ রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।