মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সূচনালগ্নে যে সাহসিকতা, উদ্দীপ্ত ও চৌকস মনোভাব এবং পেশাদারির পরিচয় দিয়েছিল, তা অহংকার করার মতো। ‘চির উন্নত মম শির’, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে তাঁর ব্যক্তিত্বের মর্যাদাকে সাহসী, অকুতোভয় এবং নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য যেকোনো প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী একজন গর্বিত সৈনিক হিসেবে তৈরি করা হয়। এভাবেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য হয়ে ওঠেন সংস্থার সম্পদ, যা পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর পেশাদারি হয়ে ওঠে অন্যতম চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা, যা এই বাহিনীকে অন্য যেকোনো বাহিনী থেকে নিঃসন্দেহে আলাদা করে রেখেছে। এই বাহিনী বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য তার প্রতিটি সদস্যকে যেমন গড়ে তুলছে এবং প্রতিনিয়ত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তেমনি শান্তিকালে তাঁদের সর্বোচ্চ নিয়োগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সেনাবাহিনী দেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতি, অবকাঠামো, যোগাযোগ, দক্ষ জনশক্তি ইত্যাদি উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, যার অনুধাবন আমাদের প্রত্যেককে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আজকের এই অবস্থানে আনার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে, তা হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশাল অংশের খেতাব প্রাপ্যতা প্রমাণ করে দেশের প্রতি তার দেশপ্রেম ও অবদানের কথা, যা সব সময় আমাদের উৎসাহিত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু ইতিহাস নয়, তা এই বাহিনীর জন্য একটি নৈতিক দৃষ্টিকোণ। ১৯৭১-এ অস্ত্র প্রশিক্ষণের অসমতা সত্ত্বেও মানুষ-জনতা-যোদ্ধার অসামান্য ঐক্য যে বিজয় এনেছিল, তার শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো বাহিনী দীর্ঘস্থায়ী গৌরব পায় না। জাতি গঠনে সেনাবাহিনীর বর্তমান ভূমিকা বারবার ১৯৭১-এর অঙ্গীকারকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রত্যেকের পাশে সর্বপ্রথম অবস্থান নেওয়া, দেশে ও বিদেশে শান্তি রক্ষায় মানবিক আচরণ বজায় রাখা এবং মর্যাদা রক্ষায় সংযম দেখানোর ধারাবাহিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নেতৃত্বের রয়েছে এক অনবদ্য চেষ্টা এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রত্যেককে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিটি সদস্য দেশের সম্পদ এবং পেশাদারির সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ও উন্নয়নই মূল লক্ষ্য। মূলধারার দুটি প্রশিক্ষণ হচ্ছে শান্তিকালীন এবং বিপৎকালীন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রতিটি সদস্যকেই সব সময় প্রস্তুত ও পুরো বছর ধরে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য এবং সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়। এর বিকল্প নেই। এ ছাড়া শান্তিকালের জন্য প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেন আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের ভাগ্যোন্নয়নে, অর্থনীতির গতিশীলতা আনয়ন, প্রগতিশীল চিন্তা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও স্বাবলম্বীকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবভিত্তিক ভূমিকা পালন করতে পারেন। নিচের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে আমাদের দেশের উন্নয়নে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং সক্ষমতার প্রয়োগে সবার আস্থা অর্জনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে।
শিক্ষা : জাতির উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে একটি জাতির অগ্রগতি ও সার্বিক কল্যাণের ভিত্তিমূল ধরা হয়। শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণের বিকাশ ঘটায় এবং একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। একটি দেশের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার জনগণের শিক্ষার মান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের ওপর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই জাতিকে সুশিক্ষিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ, সুসংগঠিত ও নীতিতে অটল প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলে দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বাহিনী ক্যাডেট কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং কলেজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বিগত তিন বছরে ক্যাডেট কলেজের শতভাগ সফলতা অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বাউস্ট) ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সামরিক সদস্যদের সন্তানাদি ছাড়াও সর্বোচ্চসংখ্যক বেসামরিক সন্তানের জন্য সুযোগ-সুবিধা থাকায় প্রতিবছর ভালো ও ঈর্ষণীয় ফল অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সর্বোপরি স্বায়ত্তশাসিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এরই মধ্যে তার শিক্ষার মান ও সাফল্য বিবেচনায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
চিকিৎসা : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় শুধু সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সেবায় এই বাহিনীর ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি সেনানিবাসে অবস্থিত সামরিক হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে নতুনভাবে সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থাপিত ও পরিচালিত মেডিক্যাল কলেজগুলো যেমন নতুন ও পেশাদার ডাক্তার তৈরি করছে, তেমনি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশিক্ষণের মান ও যন্ত্রপাতি অত্যাধুনিক হওয়ায় এখন অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা সামরিক হাসপাতালগুলো করতে সক্ষম, যা একজন রোগীর আর্থিক সাশ্রয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিছু ক্ষেত্রে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ তাদের রোগের ধরন অনুযায়ী সামরিক হাসপাতালগুলো থেকে অত্যন্ত উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছে, যা দেশের প্রতি সেনাবাহিনীর অকৃত্রিম শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। এ ছাড়া সেনাবাহিনী দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জরুরি মেডিক্যাল টিম গঠন, মোবাইল ইউনিট ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেনাবাহিনীর প্রতিটি ডিভিশন কর্তৃক প্রতিবছরের বিভিন্ন সময়ের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন আয়োজন করে উন্নত চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল কার্যক্রম গ্রহণ করার মাধ্যমে এরই মধ্যে চিকিৎসাসেবায় ‘মানবিক সেনাবাহিনী’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রতিটি সদস্য সব সময় প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রাখা প্রতিটি সদস্য তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পালন করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি অন্যান্য বাহিনী, প্রশাসন এবং সংস্থার আস্থা ও বিশ্বাস। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর প্রতিটি স্তরের নেতৃত্ব কর্তৃক নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা, বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগণকে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন এবং নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট প্রদানে প্রত্যেককে উৎসাহ ও সাহসী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রয়েছে এক গর্বিত অর্জন। বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে এই বাহিনী কিভাবে নিঃস্বার্থভাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছে এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা হয়ে উঠেছে প্রশ্নাতীত গর্ব ও অহংকার করার মতো।
বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা : জাতিসংঘে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা, অবদান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেনাসংখ্যা মোতায়েনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকবার প্রথম স্থান অর্জন নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো, যা একটি বাহিনীর অনেক উঁচু মানের পেশাদারির বহিঃপ্রকাশ। আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে নিজেদের প্রমাণ করেছি আমরাই সেরা। আমরা যেমন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছি, তেমনি মানবসেবায় সেনাবাহিনী তৈরি করেছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, জনশক্তি ও স্বাবলম্বীকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা, যা আমাদের করেছে সেই দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু এবং আস্থা অর্জনে সৃষ্টি করেছি মাইলফলক। সিয়েরা লিওনের মতো দেশের দ্বিতীয় ভাষা হচ্ছে বাংলা, যা সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় অর্জিত সম্মান অহংকার করার মতো। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সমস্যা সমাধান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকে অনুরোধ করা বলে দেয় বিশ্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারি ও গ্রহণযোগ্যতা। এ ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক রাজস্ব আনার ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতির অন্যতম সঞ্চালক হিসেবে সেনাবাহিনী নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের অংশ হিসেবে প্রমাণ করেছে।
যোগাযোগ : বিশ্বব্যাংকের মতে, ‘সড়ক/যোগাযোগব্যবস্থা হলো সেই ধমনি, যার মাধ্যমে অর্থনীতি স্পন্দিত হয়।’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার যোগ্যতা, পেশাদারি ও সরঞ্জামাদি দিয়ে এ দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নীতকরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত খাড়া ও দুর্গম ভূখণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত টেকসই সড়ক নির্মাণ করছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে পর্যটনশিল্প একটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। এ ছাড়া যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী কর্তৃক উৎপাদিত ফল, সবজি ও কৃষিজ সামগ্রী খুব সহজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে, যা জীবিকার মানোন্নয়নে অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি ব্রিজ, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ সেনাবাহিনীর সক্ষমতাকে বারবার প্রমাণ করে, তারাই সেরা। এই সেরাটা প্রমাণ করে সেনাবাহিনীর ওপর দেশের জনগণের আস্থা। চৌকস নেতৃত্ব এবং সুকৌশল পরিকল্পনায় সেনাবাহিনী দেশের যোগাযোগব্যবস্থাকে করেছে উন্নত থেকে উন্নততর এবং দেশের প্রত্যেকেই তার সুফল উপভোগ করছে। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা আমাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে করেছে আরো সুসংহত ও অপ্রতিরোধ্য।
সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন : মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের দেশের বৈদেশিক নীতিকে ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’ শ্রদ্ধা রেখে নিজেকে স্বাবলম্বী এবং যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করার ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার এবং নেতৃত্ব এই বাহিনীকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে রূপান্তর করার ব্যাপারে এরই মধ্যে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সব সময় সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সেনাবাহিনী তার নিজস্ব প্রযুক্তি ও জনশক্তি ব্যবহার করে ক্ষুদ্রাস্ত্রের গুলি, রাইফেল, ভারী অস্ত্রের গোলা, গ্রেনেড, মর্টার গোলা, শেল, ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার অংশ তৈরিতে/প্রস্তুত করতে সাফল্য অর্জন করেছে ও তা চলমান। এই সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সেনাবাহিনীর চৌকস সদস্যরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করে নতুন নতুন সামরিক সরঞ্জাম তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। এই সফলতা আমাদের কারো সঙ্গে যুদ্ধে বা ক্ষতি করতে কখনো উৎসাহিত করবে না, বরং এই সক্ষমতা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত সুবিধা হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে।
রাষ্ট্র ও জাতি গঠনের প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে আসছে। স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গঠিত এই বাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। সেনাবাহিনীর দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, সততা ও কর্মদক্ষতা সবার কাছে এক আস্থার নাম। শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর কার্যক্রম একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। বৈশ্বিক শান্তি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং দেশে ও বিদেশে তার কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হচ্ছে আমাদের আস্থা ও অহংকারের প্রতীক।
লেখক : সেনা কর্মকর্তা



এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের (৫ জুন ২০২৬) প্রতিপাদ্য করা হয়েছে 

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রধান নির্দেশক হচ্ছে দেশজ আয়ের প্রবৃদ্ধির হার। প্রতিটি বাজেটেই এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। চলতি অর্থবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল ৫.৫ শতাংশ। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস হচ্ছে অনেক কম। বিশ্বব্যাংক যে পূর্বাভাস দিচ্ছে, তাতে এ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৩.১ শতাংশ। আইএমএফের পূর্বাভাস হলো ৪.৭ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলছে, প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৪.০ শতাংশ। এবার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম অনুমিত হওয়ার কারণ হলো নির্বাচন-পূর্বের রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ হ্রাস, জ্বালানি খাতের সমস্যা, বৈশ্বিক ঘটনাবলির নেতিবাচক প্রভাব এবং উৎপাদনে স্থবিরতা। অর্থবছরের শেষ প্রান্তে হাওরে ভয়াবহ বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা ছাড়া সার্বিকভাবে কর্মসংস্থান হ্রাস পায়। মানুষের আয় কমে যায়। আগামী বছর প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রধান নিয়ামক হবে সুস্থির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ।