প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা’। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী। এটি নির্মাণ করেছেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ মো. সোহরাব জাহান। তাঁর সহযোগী ছিলেন মুজাহিদুর রহমান মূসা ও জয়াশীষ আচার্য। ভাস্কর্য উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, ‘অনেকদিন ধরে বিভিন্ন মহলের দাবি ছিল ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ করা। আমাদেরও একটা দায়িত্ব ছিল ওই ভাস্কর্য নির্মাণের। অবশেষে সাবেক কিছু শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় এটি নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।’ নামকরণ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের সময় সবচেয়ে পবিত্রতম স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’। তাই এর নামকরণ হয়েছে ‘জয়বাংলা’।’’ উদ্বোধনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন। ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে। ভাস্কর্য নির্মাণ কমিটির সমন্বয়ক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী ও সদস্য সচিব চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক শায়লা শারমিন। জানা গেছে, ভাস্কর্যে দুটি স্তর রয়েছে। এর মধ্যে উপরের অংশে আছে তিনজন সরাসরি মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব। যাঁর মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। এর মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নারী ও পুরুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বোঝানো হয়েছে। নিচের অংশে আছে বর্তমান প্রজম্মের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করার বহিঃপ্রকাশ। এতে দুজন পাহাড়ি-বাঙালির অবয়ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও বাঙালিদের অংশগ্রহণ তুলে ধরা হয়েছে। নির্মাতা সোহরাব জাহান কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ভাস্কর্যটির নিচের অংশ নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘লাইফ কাস্টিং মেথড’ অনুসরণ করা হয়েছে। আর উপরের অংশ সমসাময়িক ‘মেথড’ অনুসরণ করা হয়েছে। ভাস্কর্যটির উচ্চতা বেদি থেকে প্রায় ১৮ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট। এর মধ্যে উপরের স্তরে দুই মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট এবং নিচের স্তরে প্রতিটি মানব অবয়বের উচ্চতা ‘লাইফ সাইজ’ ফুট। প্রথম দিকে ১০ লাখ টাকা বাজেট ছিল। কিন্তু নির্মাণে সর্বশেষ পর্যন্ত খরচ বেড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা হয়েছে। ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে সোহরাব জাহান বলেন, ‘দেশ-বিদেশে অনেক কাজ করলেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ এটাই আমার প্রথম কাজ।’ অন্য ভাস্কর্যের চেয়ে এটির আলাদা বৈশিষ্ট্য কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশে নির্মিত অন্যান্য ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ পরোক্ষভাবে বোঝানো হয়েছে। তবে এ ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মাণে অনুভূতি জানিয়ে সোহরাব জাহান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার জম্ম হয়নি বলে অংশ নিতে পারিনি। একজন ভাস্কর হিসেবে আমি এটির নির্মাণকাজ মুক্তিযুদ্ধের সমান সময় ৯ মাস ধরে চালিয়েছি। উদ্দেশ্য মহান মুক্তিযুদ্ধের কিছুটা স্বাদ নেওয়া।’ ভাস্কর্য নির্মাণ কমিটি জানায়, ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য প্রথম দিকে ৫ জন ভাস্কর নকশা জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্য থেকে মূল্যায়ন কমিটি সোহরাবের নকশা অনুমোদন দেয়।