শিশু চরিত্র দিয়ে শুরু করে লাবণ্য চৌধুরী এখন মূল চরিত্রের অভিনেত্রী। প্রশংসিত হচ্ছে তাঁর চরিত্রগুলো। মুক্তির অপেক্ষায় আছে একাধিক চলচ্চিত্র। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু। শিশুশিল্পী চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। মেয়েকে অডিশন দিতে নিয়ে যান লাবণ্যর বাবা। মেয়েও নিরাশ করেনি। চাষী নজরুল ইসলামের ‘আমার বাংলাদেশ’ ছবির জন্য অডিশন দিয়ে নির্বাচিত হন। কিন্তু হঠাৎ পরিচালক অসুস্থ হয়ে পড়লে ছবিটি আর তৈরি হয়নি। তখন লাবণ্য ক্লাস ওয়ানে পড়েন। পরিচয় হয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা গাজী শুভ্রর সঙ্গে। টেলিভিশনে প্রচার হওয়া লাবণ্যর প্রথম বিজ্ঞাপন ‘মার্কস অলরাউন্ডার’। গাজী শুভ্রর পরিচালনায় পরপর বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনের মডেল হন লাবণ্য। পরিচিতি বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত শতাধিক বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। লাবণ্য বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে গাজী শ্রভ্র আংকেলের অনেক সাহায্য পেয়েছি। উনি আমাকে ধরে ধরে শিখিয়েছেন কিভাবে ক্যামেরার সামনে সাবলীল হওয়া যায়। তখন তো অনেক ভুলও করতাম। তবে উনি কখনো বুঝতে দেননি এটা খুব কঠিন কাজ। হয়তো এ জন্য এখন ক্যামেরা দেখলে অতটা ভয় লাগে না। এরপর তো বাংলাদেশের সেরা সব পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করেছি।’ ২০১৪ সালে ডাক পান ‘কৃষ্ণপক্ষ’ চলচ্চিত্রের জন্য। হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে মেহের আফরোজ শাওন ছবিটি বানিয়েছিলেন। শিশুশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেন লাবণ্য। লাবণ্যর করা প্রিয়দর্শিনী চরিত্রটি বেশ প্রশংসিত হয়। ২০১৭ সালে জয়া আহসান প্রযোজিত অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসে। জয়া আহসানের ছোটবেলা, ছোট রানুর চরিত্রে। লাবণ্য বলেন, ‘ছবিটি মুক্তির আগে প্রেস কনফারেন্সে জয়া আপুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রশংসা করেছেন।’ আকরাম খানের ‘নকশি কাঁথার জমিন’ চলচ্চিত্রেও জয়া আহসানের শৈশবের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লাবণ্য। ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে পারে ছবিটি। এ বছরই মুক্তি পাবে লাবণ্য অভিনীত প্রসূন রহমানের চলচ্চিত্র ‘প্রিয় সত্যজিৎ’। এরই মধ্যে দেশের বাইরে বিভিন্ন উৎসবে গেছে ছবিটি। মুক্তির অপেক্ষায় আরো আছে অরণ্য আনোয়ারের ‘মা’, দীপক চৌধুরীর ‘একাত্তরের শিরিন’। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৌতম কৈরী বানিয়েছেন ‘বঙ্গমাতা’। ছবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন লাবণ্য। বর্তমানে লাবণ্য ব্যস্ত অরণ্য আনোয়ারের ‘বকুল’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে। শুটিং চলছে নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে। বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করা হয়। টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আলতারাঙা’, ‘মেঘবালিকা’, ‘সুধাংশু ফিরে আসবে’, ‘শেষ পর্যন্ত’, ‘হারাধনের একটি বাগান’, ‘দুবাইওয়ালা’, ‘ফ্রেন্ডবুক’ লাবণ্য অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক। লাবণ্য অভিনীত একমাত্র ওয়েব ফিল্ম অরণ্য আনোয়ার পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’।