১৯৯৬ সাল থেকে প্রায় প্রতি ঈদেই নতুন অ্যালবাম এনেছেন প্রিন্স মাহমুদ। সরব ছিলেন অন্যান্য উপলক্ষেও। এবার ঈদে আসছে তাঁর পঞ্চাশতম অ্যালবাম ‘প্রিন্স মাহমুদ মিক্সড’। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ “১৯৯৬ সালটা আমার জীবনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার। সে বছর মা-বাবাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ি। কষ্টের দিনগুলোতে আমার সঙ্গী হয়ে ওঠে গান। সে বছর ঈদ উপলক্ষে প্রকাশ পায় ‘ক্ষমা’। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় প্রতি ঈদেই নতুন অ্যালবাম করেছি। বলতে গেলে এটা এখন আমার ভালো লাগার অভ্যেসে পরিণত হয়েছে”—বলছিলেন প্রিন্স মাহমুদ। এ পর্যন্ত যতগুলো অ্যালবাম করেছেন সবই শ্রোতারা গ্রহণ করেছে। ‘ক্ষমা’য় খালিদের গাওয়া ‘আবার দেখা হবে’, মাকসুদের ‘কেন মন নিয়ে এত দাও যন্ত্রণা’ এবং টিপুর (অবসকিওর) ‘চাঁদ জাগা এ রাতে’ দিয়ে হিটের তকমা পেতে শুরু করেন এই গীতিকার-সুরকার, যা চলছে আজও। অবশ্য ঈদের অ্যালবাম হিসেবে ‘ক্ষমা’ প্রথম হলেও এর আগে ‘যন্ত্রণা’, ‘রকস্টার’, ‘শক্তি’ দিয়ে শ্রোতাদের নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। এবার ঈদে জি-সিরিজের ব্যানারে আসছে প্রিন্স মাহমুদের পঞ্চাশতম অ্যালবাম ‘প্রিন্স মাহমুদ মিক্সড’। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফাহমিদা নবী, বাপ্পা মজুমদার, তাহসান, কনা, তপু, এলিটা ও কোনাল। সময় মিলে গেলে কুমার বিশ্বজিেক দিয়েও একটি গান গাওয়াতে চান। কী থাকছে এবারের অ্যালবামে? প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘আমি আমার মতো কাজ করে যাই। কিছু জেনে বা বুঝে গান বানাই না। কোনো হিট গানকে টার্গেট করি না যে এমন একটা গান করতে হবে। নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলো কথা-সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করি। সেটাই হয়তো নতুন হয়ে ধরা দেয় শ্রোতাদের কাছে।’ এর মধ্যে ‘ঘোর’ শিরোনামের একটি দ্বৈত গান থাকছে, যাতে কণ্ঠ দিয়েছেন তপু ও কনা। এবারই প্রথম একসঙ্গে গাইলেন এ দুই শিল্পী। যখন শুরু করেছিলেন তখন এক ধরনের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এখন ভিন্ন। গান প্রকাশ থেকে শুরু করে প্রযুক্তিতেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। নিজেকে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয় না? প্রিন্স মাহমুদ বললেন, ‘না। আমি সব সময়ই আপডেট থাকার চেষ্টা করেছি। কাজের প্রতি ভালোবাসাটা কখনো একবিন্দুও কমেনি। সময়ের সঙ্গে সব সময় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে গেছি।’ প্রায় দুই যুগ ধরে একই গতিতে কাজ করছেন। এবার অ্যালবামসংখ্যায় অর্ধশতকের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। কেমন লাগছে? ‘ভালো লাগছে। এখনো কাজ করে যাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা, কাজের জন্য আমাকে কারো কাছে যেতে হয়নি। এখনো আমার গান মানুষ ঠিক আগের মতোই শুনছে, সম্মান করছে। এগুলো আমার জন্য বড় অর্জন।’ ক্যারিয়ারে অনেক স্মরণীয় স্মৃতিই জমা হয়েছে প্রিন্স মাহমুদের। অনেক ভেবেচিন্তে সেখান থেকে একটি শেয়ার করলেন, “বেশ কয়েক বছর আগে একবার ঈদে আমার জন্মদিন পড়েছিল। সেবার ‘হারজিত’ অ্যালবামটি প্রকাশ পায়। খুলনায় বেড়াতে যাচ্ছিলাম। শহরে ঢুকতেই দেখি আমার বড় বড় ছবি আর অ্যালবামটির নাম দিয়ে পোস্টার টাঙানো। তাতে লেখা, এই ঈদে জন্মদিন উপলক্ষে প্রিন্স মাহমুদের অ্যালবাম। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বুঝেছিলাম শ্রোতারা আমাকে কতটা মনে রাখে, কতটা ভালোবাসে।” ২০১৬ সালে ‘খেয়ালপোকা’ অ্যালবামের পরও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন প্রিন্স। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রিন্সের ছবি দিয়ে বিলবোর্ড টাঙিয়ে দেয় রবি। নিজে না চাইলেও রবির এই কার্যক্রম আনন্দ দিয়েছে প্রিন্সকে। তবে মানুষের ভালোবাসাকেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন এই গীতিকার-সুরকার। কথার শেষ ভাগে জানালেন, সেই শুরুর সময়টার মতো এখনো গান নিয়ে সমান সিরিয়াস তিনি। এই সিরিয়াসনেস এবং ভালোবাসাই তাঁকে নতুন নতুন সৃষ্টিতে শক্তি জোগায়।