• ই-পেপার

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট লজ্জাবতী বানর উদ্ধার

ছিনতাই করতে গৃহবধূকে হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
ছিনতাই করতে গৃহবধূকে হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গৃহবধূ শাফিয়া বেগমকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুটের মামলায় প্রধান আসামি রুবেল মিয়া ওরফে রুবেল প্রধানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও ডাকাতির অভিযোগে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের
বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল চাঁদপুর জেলার মতলব থানার লিটন মুন্সির ছেলে। ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গীর এলাকায় নিজ বাড়িতে শাফিয়া বেগমকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুট করে রুবেলসহ কয়েকজন।

 

হরতালে অচল ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হরতালে অচল ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফটিকছড়িতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালিত হচ্ছে। গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। হরতালের কারণে খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক, মিরসরাই-ফটিকছড়ি এবং হেঁয়াকো-চট্টগ্রাম সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঢাকা ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে অবরোধ থাকায় সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্যোঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তরটি বর্তমানে যে স্থানে (পশ্চিম ভূজপুর) নির্ধারণ করা হয়েছে, তা উপজেলার বেশির ভাগ মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়। তারা অবিলম্বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানায়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্বাজী তারেক আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

 

বাবার দাফনের পর পেলেন মেয়ের মৃত্যুসংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
বাবার দাফনের পর পেলেন মেয়ের মৃত্যুসংবাদ

ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়ের দাফন সম্পন্ন করতে হলো তুজাম উদ্দিনকে। বাবাকে শেষবিদায় জানিয়ে কবরস্থান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই এলো মেয়ের মৃত্যুসংবাদ। তুজাম উদ্দিনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭২) বার্ধক্যজনিত কারণে গত শুক্রবার বিকেলে মারা যান। পরদিন শনিবার সকালে দাফন শেষে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে তুজামের মেয়ে মুন্নি খাতুন (২৩) আর বেঁচে নেই। এক দিনের ব্যবধানে পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়ায়।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, দৌলতপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শনিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তখনো কবরস্থান থেকে বাড়ি ফিরতে পারেনি। ঠিক সেই সময় ফোনে আসে আরেকটি দুঃসংবাদ। মৃত মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর নাতনি মারা গেছেন।

তুজাম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার বিকেলে বাবা মারা যান। শনিবার সকালে বাবার দাফন শেষে জানতে পারি, আমার মেয়ে মুন্নি আর নেই। এক দিনের ব্যবধানে বাবা আর মেয়েকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে মুন্নী টাইফয়েডসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

 

 

সংরক্ষণের দাবি

কুমিল্লায় বটগাছের শিকড়ে ৩০০ বছরের মসজিদ

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় বটগাছের শিকড়ে ৩০০ বছরের মসজিদ
ঝোপঝাড়ে ঘেরা ও বটগাছের শিকড়ে আচ্ছাদিত মসজিদটি ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা সদর উপজেলার মাঝিগাছা গ্রামে প্রায় ৩০০ বছর ধরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে রহস্যঘেরা এক প্রাচীন মসজিদ। বিশাল বটগাছের শিকড়ে আংশিকভাবে ঝুলে থাকা এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি অবহেলা, দখল ও ধ্বংসের মুখে রয়েছে। এর সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার ও অন্যান্য দপ্তরে আবেদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শিক্ষানুরাগী ও ব্রাহ্মণপাড়ার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।

জনশ্রুতি রয়েছে, ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজা দ্বিতীয় ধর্ম মাণিক্যের শাসনামলে (১৭১৪-১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দ) নূরজাহান নামের এক নারী এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মাঝিগাছার তিন বোন নূরজাহান, মোগরজান ও ফুলজানের মধ্যে নূরজাহান সাপের ছোবলে আক্রান্ত হলে তাঁকে ভেলায় করে গোমতী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাজদরবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলেন। পরে তিনি রাজদরবারে নৃত্যশিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। দীর্ঘ সময় রাজদরবারে কাটানোর পর নিজ গ্রামে ফিরে এসে তিনি বিপুল সম্পদ ও জমির মালিক হন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। নূরজাহান পাপমোচনের আশায় নিজ অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে, মসজিদটিতে কখনো আজান দেওয়া হয়নি এবং কোনো দিন নামাজও আদায় করা হয়নি। তবে এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঝোপঝাড়ে ঘেরা ও বটগাছের শিকড়ে আচ্ছাদিত মসজিদটি ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।