শুরুর দিনগুলোর কথা বলুন। ২০০৮ সালে সিলেট থেকে ঢাকায় আসি আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার বিদেশ যাওয়া হয়নি। শেষে ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে অনেক বিলবোর্ড দেখতাম। বিশেষ করে আড়ংয়ের বিলবোর্ড দেখতে দেখতে ঘণ্টা পার করে দিতাম। খেয়াল করতাম মডেলদের দাঁড়ানোর স্টাইল, তাকানোর ভঙ্গি ইত্যাদি। ভাবতাম, ওখানে আমার ছবি দেখা গেলে কতই না মজা হতো! এই ভেবে একটা গ্রুমিং স্কুলেও ভর্তি হয়ে যাই। আমার ভাগ্য ভালোই বলতে হয়, ২০০৯ সাল থেকে কয়েকটি ছোট ফ্যাশন হাউসের কাজ পেয়ে যাই। তেমন বড় কিছু নয়, টুকটাক। মনে আছে, প্রথম কাজের পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম ৫০০ টাকা। তবে আমার বড় হওয়ার ইচ্ছা ছিল। সুযোগের অপেক্ষা করতে থাকি। ২০১০ সালে আমি র্যাম্পে হাঁটা শুরু করি। এক-দুইটা বড় কাজও পাই। ২০১১ সালও মন্দ কাটেনি। বারোতে মডেলিংজগতে আমার মোটামুটি নাম হয়ে যায়। আর তেরোতে আমি আড়ংয়ের মডেল হই। আমার স্বপ্নের ফ্যাশন হাউস! তাদের সঙ্গে আমি এখনো কাজ করি। এটা আমার বিরাট প্রাপ্তি। প্রথম ঈদের কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? ২০০৯ সালে প্রথম ঈদের কাজ করি। মফস্বল শহরের একটা ফ্যাশন হাউসের মডেল হয়েছিলাম। তবে ঈদের বিলবোর্ডে প্রথম মডেল হই ২০১২ সালে। প্রাইড লিমিটেডের বিলবোর্ড ছিল সেটা। সত্যি কথা বলতে কী, তখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম যে বিলবোর্ডটি দেখতে রাতের বেলা বেরিয়ে পড়তাম। রাস্তা ফাঁকা, আমি একা, তাকিয়ে আছি নিজের দিকে। হয়তো আপনার হাসি পাচ্ছে, কিন্তু সত্যি ব্যাপারটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এবারের ঈদের কাজের কথা বলুন। এখন আমি একটু চুজি হয়েছি। বাছাই করে কাজ করি। অনেক অফার ছিল কিন্তু সব কাজ নিইনি। এবারের ঈদেও কোড, প্রাইড লিমিটেড, গ্রামীণ ইউনিক্লো, টেক্সমার্ট, ট্রেন্ডজসহ ছয়টি ফ্যাশন হাউসের কাজ করেছি। সারা দেশে হাউসগুলোর ৩০০টি বিলবোর্ডে আমাকে এখন দেখা যাচ্ছে। ঈদের কাজ কিন্তু শুরু হয়ে যায় ঈদের দুই মাস আগে থেকে। আমি প্রতি ঈদে ভিন্ন ভিন্ন লুকে হাজির হওয়ার চেষ্টা করি। এবারও সব কাজেই ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছি। মাথায় রাখি কোন ধরনের পোশাক নিয়ে হাজির হচ্ছি। সে মতো লুক দিই বা ভঙ্গি করি। ঈদের সঙ্গে অন্য সময়ের ফারাক কেমন? অন্য সময় ঋতুভিত্তিক অনেক কাজ হয়। যেমন—বসন্ত, গ্রীষ্ম, হেমন্ত বা শীতে হাউসগুলো একেক রকম পোশাক আনে। ঈদের সময়ও মৌসুম বিবেচনায় রাখা হয়, তবে ঈদের নিজস্বতা যেমন হাসিখুশি, ঝলমলে, বৈচিত্র্য ইত্যাদি ব্যাপারই আগে চলে আসে। ঈদের কাজগুলো বেশি সময় নিয়ে করা হয়। এ সময় হাউসগুলোর প্রচারণা বাজেটও থাকে অনেক বেশি। কী ধরনের পোশাকের মডেল হতে আপনার বেশি ভালো লাগে? ওয়েস্টার্ন পোশাকের মডেল হতে আমার বেশি ভালো লাগে। তানজিমের মডেল হয়েছিলাম। খুব মজা হয়েছিল। এ ছাড়া আড়ংয়ের পাঞ্জাবির মডেল হতেও ভালো লাগে। ফ্যাশন হাউস জুরহেমের পোশাক পরেও ভালো লেগেছে। আপনি তো চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন? কেমন লেগেছে? হ্যাঁ, আমি রেদওয়ান রনির আইসক্রিম ছবিতে কাজ করেছি। চলচ্চিত্র মাধ্যমটা বড়। এখানে অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। আমি চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে চাই। ঈদ কেমন কাটাবেন? আমার কাছে ঈদ মানে কাজের ছুটি। আব্বু-আম্মুর সঙ্গে সিলেটে ঈদ করি। ঈদে সাদামাটা পোশাক পরি সাধারণত। আমার প্রিয় রং সাদা। ঈদের দিন সাদা রঙেরই পাঞ্জাবি পরব।