kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বেহাল ছায়াবাণী হল, মৃত্যুঘণ্টা বাজছে নাট্য ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠানের

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ছায়াবাণী’। এটি শুধু ময়মনসিংহের অন্যতম প্রাচীন সিনেমা হলই নয়, নাট্য ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠানও। এর পূর্ব নাম অমরাবতী নাট্যমন্দির। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে দুই বাংলার প্রায় সব গুণী শিল্পীরই আগমন ঘটেছিল এ নাট্যশালায়। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা ব্যবসা বন্ধ থাকায় অবহেলা আর অনাদরে মৃত্যুঘণ্টা বাজছে প্রতিষ্ঠানটির।

সিনেমা হলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্রবেশপথের কলাপসিবল গেটের লোহাতে মরিচা পড়েছে। ভবনের হলুদ রং হয়েছে ধূসর। জানালার কাচগুলো ভাঙা। ভবনটির সামনে ও আশপাশে আবর্জনা। বন্ধ ঘরে দমবন্ধ হওয়া পরিবেশ। তবে আশার কথা বলেছেন অমরাবতী কার্যকর কমিটির সদস্যরা। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান বলেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন আবার হলটি চালু করার জন্য। এ ছাড়া হলের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নিচ্ছেন তাঁরা। তবে স্থানীয় অনেকের আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানটির খালি জায়গা ভবিষ্যতে নজরদারির অভাবে বেদখল হতে পারে। হুমকির মুখে পড়তে পারে ভবনসহ এর ঐতিহ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ব্রিটিশ শাসনামলে শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠতে থাকে নাট্য সংগঠন। এর মাঝে অন্যতম সংগঠন ছিল অমরাবতী নাট্যসমাজ। অমরাবতী নাট্য মন্দিরের ইতিহাস বিষয়ে ময়মনসিংহের নাট্যব্যক্তিত্ব ও অধ্যাপক প্রয়াত সুধীর দাশের লেখনীর ভাষ্য মতে, অমরাবতী নাট্যসমাজের প্রতিষ্ঠার সময়টি ১৮৯২ (মতান্তরে ১৮৮৫) সাল। এর মূল উদ্যোক্তারা ছিলেন তৎকালীন গৌরীপুর এবং মুক্তাগাছার জমিদাররাসহ সেই সময়ের স্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও চাকরিজীবীরা। ১৯২৪ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন ইংরেজ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জে আর বেয়ারকে সভাপতি এবং রায় বাহাদুর শশধর ঘোষকে সম্পাদক করে নাট্যমন্দির নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়। অমরাবতী নাট্যমন্দিরের উদ্বোধন করা হয় ১৯২৬ সালে। নাট্যমন্দির চালু হওয়ার পর জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীকে সভাপতি এবং আইনজীবী জমিদার সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্তকে সম্পাদক করে নাট্যসমাজের গঠনতন্ত্র রচিত হয়। 

অমরাবতীতে সেই সময়ে অসংখ্য নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বকালে ময়মনসিংহ শহরের চারু ঘোষ নামের এক ব্যক্তি নির্বাক সিনেমা চালানোর জন্য চুক্তি বলে ভাড়া নেন এ নাট্যশালা তথা মিলনায়তনটি। প্রেক্ষাগৃহের নাম হলো ‘লক্ষ্মীনারায়ণ পিকচার প্যালেস’। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, বছরের ২৪ দিন এবং বিশেষ বিশেষ দিনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য মিলনায়তনটি ছেড়ে দিতে হবে। কিছুদিন পর এটি চারু ঘোষ ভাড়াটিয়া স্বত্ব হস্তান্তর করেন শহরের কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ইন্সপেক্টর ক্ষিতিশ ঘোষের কাছে। তখন সবাক চলচ্চিত্রের যুগ শুরু হয়েছে। ক্ষিতিশ বাবু ‘লক্ষ্মীনারায়ণ পিকচার প্যালেসের নাম পাল্টে ‘ছায়াবাণী’ নাম দেন। 

১৯৬৭ সালে ছায়াবাণীকে আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ রূপে সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়। এখন পর্যন্ত এটি ছায়াবাণী সিনেমা হল নামেই পরিচিত। তবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না যে ময়মনসিংহের সংস্কৃতির ধারার বিশেষ করে স্থানীয় নাট্যচর্চা জগতের এক গৌরবময় ইতিহাস ধারণ করে আছে আজকের সিনেমা হলটি। এই হলে চরম বিপদ আসে ২০০২ সালে ময়মনসিংহের চার সিনেমা হলে বোমা হামলার পর। এরপর মাঝেমধ্যে হলটি খুললেও নানা কারণে পুরোপুরি আর চালু হয়নি।



সাতদিনের সেরা