'তারা আজ কত দিন সহায়-সম্বলহীন হয়ে সাগরে ভাসছে? তাদের সংখ্যা না হয় বড়জোর ১০ হাজার হবে বা আট হাজার। এই লোকগুলোর কি কোনো আশ্রয় হবে না এত বড় পৃথিবীতে?' এমন মন্তব্য করেছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের সিনিয়র এডিটর সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর। সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিউজ অ্যান্ড ভিউজে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক গোলাম মোর্তজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। আমানুল্লাহ কবীর বলেন, 'মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশ যখন আশ্রয় দিচ্ছিল না তখন জাতিসংঘ বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগ ও অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সেই জাতিসংঘ আজ কোথায়? জাতিসংঘ কি পারে না আজকে এই অসহায় মানুষগুলোর জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলতে, তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে?' অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জানতে চান, সাগরে এত লোক ভাসছে কিন্তু কোনো রাষ্ট্রের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তাহলে মানুষ হিসেবে তারা কি পৃথিবীর কারো কোনো সহানুভূতি পেতে পারে না? একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের বা রাষ্ট্রের শেষ আশ্রয়টুকু পাবে না- এটা তো হতে পারে না। অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, 'আমরা নিজেরা একটি সমস্যা সৃষ্টি করব আর বিদেশিদের দোষারোপ করব- এটা মনে হয় ঠিক না। কারণ এক দেশের নাগরিক যখন অন্য দেশে কোনো কারণ ছাড়াই আশ্রয় নিতে যাবে আর সেটি যদি হয় হাজার হাজার লোকের সমাগম, তা কোনো দেশই মেনে নিতে পারবে না। আমরা হয়তো গরিব, অসহায় লোকদের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করছি। কিন্তু আমাদের দেশের লোক যখন সরকারের কোনো অনুমতি নিয়ে সাগরে পাড়ি দেয়নি তখন এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের উদ্বেগ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।' এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুু ও নিরপেক্ষ হয়নি- এমনটি অনেকে বলছেন। এ ধরনের সমালোচনায় সরকারের কোনো সমস্যা হবে কি? জবাবে সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর বলেন, একটি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা যায় না। ঢাকা একটি প্রাচীন শহর। ময়লা-আবর্জনা ও পয়োনিষ্কাশনের অভাব ও যত্রতত্র পার্কিং ও অসহনীয় যানজটের কারণে সেই ঢাকা এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এই ঢাকাকে আধুনিক ও বসবাসের জন্য গড়ে তুলতে হলে আগামী দিনে সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়রদের অনেক কাজ করতে হবে। তাঁরা যদি নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নে মনোযোগী হন তবে তাতে নগরবাসীর সমর্থন থাকবে।