• ই-পেপার

টেকেরঘাট সড়কের করুণ দশা

আশ্রয়কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা

আশ্রয়কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও পাহাড়ধস থেকে অসহায় ও দুর্গত জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। উদ্দেশ্য হলো, সহায়-সম্বলহীন মানুষ যেন সেখানে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে এবং তাদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জীবন রক্ষার জন্য নির্মিত অনেক আশ্রয়কেন্দ্রই আজ অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্গত মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। এর পেছনে রয়েছে অব্যবস্থাপনা, স্বার্থান্বেষী মহলের দুর্নীতি এবং যথাযথ তদারকির অভাব। দেশের অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, নেই সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা কিংবা বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ। ফলে দুর্যোগের সময় মানুষ বাধ্য হয়ে সেখানে আশ্রয় নিলেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই সেখান থেকে চলে যেতে চায়। কারণ বিদ্যুত্হীন, অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িকেই তারা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে। তাই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে সত্যিকার অর্থে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার ও প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত ও টেকসইভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

শেখ সুলতানা মীম

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

পলিথিন ও জলাবদ্ধতা

পলিথিন ও জলাবদ্ধতা

সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লাখো মানুষ পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা। একই সময়ে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোও মৌসুমি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এর প্রভাব শুধু জনজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, চলমান এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত করতে হয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা হাওরাঞ্চলের বন্যা অনেকাংশেই প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত হলেও নগরাঞ্চলের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ মানুষের সৃষ্ট অব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের নির্বিচার ব্যবহার আজ ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য ড্রেন, নালা, খাল ও নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। শত শত বছরেও এসব পলিথিন মাটির সঙ্গে মিশে যায় না, বরং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্থানে জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণ ব্যাহত করে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি। আমরা মনে করি, আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা মিলবে না।

আফিয়া আবিদা এষা

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

চট্টগ্রামের বাঁশখালী আজ এক কঠিন মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে, ফসল নষ্ট হয়েছে, গবাদি পশু ভেসে গেছে। অনেক মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা উঁচু স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল, শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে এখনো অনেক পরিবার কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। দুর্গম এলাকা, বিচ্ছিন্ন গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ এখনো সাহায্যের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন

বিশেষ করে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী এবং বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান, আপনাদের সহযোগিতা আজ অসংখ্য অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই দুর্যোগে এগিয়ে আসুন।

আমরা সবাই মিলে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই। একটি পরিবারও যেন ক্ষুধার্ত না থাকে, একটি শিশুও যেন বিশুদ্ধ পানির অভাবে কষ্ট না পায়।

তৌহিদ-উল বারী

বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

বন্যায় পথপ্রাণীদের দিকেও নজর দিন

বন্যায় পথপ্রাণীদের দিকেও নজর দিন

বন্যার সময় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসবই পানিতে ডুবে যায়। মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সরকার তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলে এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চেষ্টা করে। কিন্তু এই দুর্যোগে কুকুর-বিড়ালের কষ্ট কম না। পথপ্রাণীরা ফুটপাতে শুয়ে থাকে, উচ্ছিষ্ট ও ময়লা আবর্জনার স্তূপ থেকে খাবার খেয়ে বাঁচে। কিন্তু বন্যায় যখন রাস্তাঘাট ডুবে যায়, তখন তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। বোবা প্রাণী বলে তারা তাদের দুঃখ, কষ্ট, ক্ষুধার ব্যাপারে কাউকে কিছু মুখ ফুটে বলতে পারে না। একটু খাবার আর আশ্রয়ের জন্য তারা ছুটে বেড়ায়। আমাদের মনে রাখা দরকার, যেকোনো প্রাণী আমাদের জীববৈচিত্র্যের অংশ। বন্যায় শুধু মানুষ নয়, গোটা জীববৈচিত্র্যই হুমকির মুখে পড়ে। তাই অসহায় মানুষকে পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের উচিত পথপ্রাণীদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া। কারণ তারা দিনশেষে আমাদের নীরবে বিভিন্ন সাহায্য করে থাকে। তাই আমাদের সবার উচিত তাদের বিপদে  খাবার, আশ্রয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাহায্য করা। তবেই একটি মানবিক ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে।

শেখ সুলতানা মীম

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ