ব্যয় সংকোচনে প্রত্যাহার ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট
বর্ষামঙ্গল

জামায়াত জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু।
এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হলে বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ দলীয় ঐক্য ছিল মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়।
তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির নেতারা কালের কণ্ঠকে জানান, গত এক-দেড় মাস ধরে ১১ দলের কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়নি। গতকাল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা এই জোটের সঙ্গে আর থাকছি না। ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো আন্দোলন এলে আবারও একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ আছে।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অধিবেশনে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এ বি এম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, মুফতি আবুল হাসান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদির হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক যুদ্ধের সর্বশেষ উত্তেজনায় সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ শহরে হামলা চালিয়েছে। জবাবে হুতিরাও সৌদি আরবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অবনতির দিকে ছুটতে পারে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন ও কুয়েত চলতি মাসের শুরুতে নীরবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এই খবর ইরানিদের খেপিয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের এই হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হুতি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা হুমকি দিয়ে বলেছে, শনিবার ভোররাতে চালানো এই হামলার জন্য রিয়াদকে চড়া মূল্য দিতে হবে। উল্লেখ্য, হুতি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের অঞ্চলগুলোর জন্য হোদেইদাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। এই বন্দর দিয়েই হুতি নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তার বেশির ভাগ চালান প্রবেশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরো বলা হয়, ‘হোদেইদাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সৌদি আরব উত্তেজনার জবাবে পাল্টা উত্তেজনার নীতিকেই আগামী দিনগুলোতে সংঘাতের ভিত্তি বানিয়েছে।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং হুমকি দেওয়া ‘ব্যাপক’ হামলার প্রয়োজন না-ও হতে পারে; যদিও যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রস্তুত ও সক্রিয়’ রয়েছে। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান হুমকিকে ভয় পায় না বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না।
৪ জাহাজ আটক করেছে ইরান : ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, সতর্কতামূলক গুলি চালানোর পর তারা হরমুজে চারটি জাহাজ আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে চারটি জাহাজ আটক করেছে। জাহাজগুলো প্রণালিটির দক্ষিণ করিডর দিয়ে অতিক্রম করার পরিকল্পনা করছিল, যেটিকে আইআরজিসি একটি ‘অনিরাপদ পথ’ হিসেবে বিবেচনা করে।আইআরজিসি বলেছে, যেকোনো জাহাজ ‘অননুমোদিত’ পথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে , যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে বাণিজ্য প্রবাহের ওপর নতুন করে সন্দেহ তৈরি করেছে। হরমুজে পৃথক পথ খোলার সুযোগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজে পৃথক পথ খোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৫ নম্বর ধারা সুস্পষ্ট এবং এতে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে যাতায়াতের পদ্ধতি নির্ধারণ করবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের একটি পৃথক পথ চালু করা সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ধারা-৫-এর আওতায় আনার জন্য হরমুজে কোনো করিডর যুক্ত করা বা অপসারণের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পরামর্শ করা উচিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঠাণ্ডা-গরম’ কৌশল : অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ভলফগ্যাং পুশতাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনীতি, অবরোধের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক পদক্ষেপসহ সব ধরনের কৌশল ব্যবহারের চেষ্টা করছে। পুশতাই আলজাজিরাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো অর্জনের জন্য এই তিনটি দিকই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর মানে হলো, সর্বাগ্রে এবং এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।’ তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘পুরো যুদ্ধটির অবসান ঘটানোর ব্যাপারে ইরানিদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুবিধার্থে এক ধরনের কঠোর ও কঠোর কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। তাই এক রাতে তাদের ওপর বোমা বর্ষণ করা হয়, আরেক রাতে করা হয় না। এটি ইরানিদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপও সৃষ্টি করবে।’
গোপনে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে প্রথমবারের মতো ইরানে হামলা বাহরাইন ও কুয়েতের : উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন ও কুয়েত চলতি মাসের শুরুতে নীরবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা এবং ইরানের আরো কয়েকটি সামরিক অবকাঠামো। সূত্রগুলোর দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে বাহরাইন ও কুয়েতের এটিই প্রথম প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই অভিযানে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক আকাশ সহায়তা দিয়েছে। এতে ইরানকে মোকাবেলায় আরব দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই স্পর্শকাতর সংবাদটি ইরানকে খেপিয়ে তুলতে পারে। সূত্র : আলজাজিরা, মিডল ইস্ট মনিটর, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষিকার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

মানুষ গড়ার কারিগর তিনি। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের পথ দেখিয়েছেন। তবে সেই শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার জীবনেই এখন নেমে এসেছে কঠিন সময়। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে যখন দিশাহারা তাঁর পরিবার, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন।
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন প্রিয় শিক্ষক। অসুস্থতার মধ্যেও নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে গিয়ে এখন থমকে গেছে তাঁর স্বাভাবিক জীবন। ইয়াসমিন আরা বলেন, ‘শরীরটা খুব একটা ভালো চলছিল না, তার পরও আমি ক্লাস নিতে যেতাম। স্টুডেন্টরা আমার ক্লাস খুব পছন্দ করে। আমি চাই, শরীরটা আরেকটু ফিট হলে আবার একটা কাজে ফিরতে পারি। বসে থাকতে ভালো লাগে না। শরীরটা সুস্থ হলে আমি আবার কিছু একটা করতে চাই।’
ইয়াসমিনের ক্যান্সার ধরা পড়ে তৃতীয় পর্যায়ে। পরে তা লিম্ফ নোডেও ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁকে ওরাল কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে চিকিৎসায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে তাঁর পরিবারের।
ইয়াসমিন আরা বলেন, ‘আমার চিকিৎসায় অনেক খরচ হয়েছে। একটি ইনজেকশনের দামই ছিল এক লাখ টাকা। আমার ক্যান্সার থার্ড স্টেজে ধরা পড়েছে এবং লিম্ফ নোডেও ছড়িয়ে গেছে। এ কারণে আমাকে ওরাল কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। এই ওষুধের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়।’
অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হলেও আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান এই শিক্ষিকা। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার সেই পরিচিত জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাই এখন তাঁর বড় শক্তি। ইয়াসমিন আরার এই সংকটের কথা জানতে পেরে তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা উনাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি এবং আশ্বস্ত করেছি যে এবিজি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাহেব এবং আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ উনার পাশে রয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে আমাদের চেয়ারম্যান যেভাবে হাত বাড়িয়েছেন, সমাজের সব বিত্তবান মানুষও যেন এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন—এটাই আমাদের আহবান।’
ক্যান্সারের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্যে ফাউন্ডেশনের এই সহায়তা ইয়াসমিন আরার জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে গিয়ে শ্রেণিকক্ষ মুখর করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
