বিশ্বকাপে নক আউটে প্রথম জয়ের হাতছানি ছিল দুই দলের সামনেই। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই দ্বৈরথে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নক আউটে প্রথম জয়ের রেকর্ড গড়ে শেষ ষোলোতে উঠে গেছে মিসর।
পেনাল্টি শুট আউটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চার শটের মধ্যে লক্ষ্যভেদ করেন জ্যাকসন আরভিন, আওয়ার মাবিল; কিন্তু বারের ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন হ্যারি শুটার ও লুকাস হ্যারিংটন। অন্যদিকে মিসরের নেওয়া চার শটেই লক্ষ্যভেদ করেন মোহাম্মদ সাবের, রামি রাবিয়া, মো. সালাহ ও হোসাম আবদেলমজিদ। ২০০৬ সালে জাপানকে হারানোর পর প্রথমে গোল হজম করার পর বিশ্বকাপে জেতার উদাহরণ ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। এবারও গল্পটা পাল্টাতে পারল না সকারুরা।
ইমাম আশুরের ত্রয়োদশ মিনিটের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে গিয়ে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল মিসর। করিম হাফেজের ক্রসে জোরালো হেডে দারুণ গোল করেন আল আহলি মিডফিল্ডার। প্রথম পনেরো মিনিটে নিরঙ্কুশ বলের নিয়ন্ত্রণ (৭০ শতাংশ) রাখার পুরস্কারই পেয়েছে ফারাওরা। আত্মঘাতী গোলের সৌভাগ্যে ভর করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলায় সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। বক্সের মধ্যে হেডে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তা নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন মিসরের হানি। চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও আত্মঘাতী গোল করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে দুইবার আত্মঘাতী গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হানি। নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ সমতায়। এরপর অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটেও কোনো দল আর গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টিতে বাজিমাত করে মিসর।
কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে পর্তুগালও। পরশু পুরো বিশ্বেরই নজর ছিল টরন্টো স্টেডিয়ামে। কানাডার ওই মাঠে যে মুখোমুখি হয়েছেন দুই মহাতারকা। একসঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদে ছয় মৌসুম কাটিয়ে তাঁরা দুজন একে অন্যের পরম বন্ধুই হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আর লুকা মডরিচের জন্য ছিল এবার টিকে থাকার লড়াই। আগে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল মডরিচের ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু রোনালদোর পেনাল্টিতে আসে সমতা, এটি তাঁর বিশ্বকাপ নক আউট ম্যাচে প্রথম গোল। পরে গনসালো রামোস ম্যাচের যোগ করা সময়ে লক্ষ্যভেদ করলে ২-১ গোলের জয়ে পর্তুগাল পা রাখে শেষ ষোলোয়, বিদায় ঘটে মডরিচের ক্রোয়েশিয়ার। লস অ্যাঞ্জেলেসে মিকেল ওয়াইরসাবালের জোড়া গোলে স্পেন ৩-০ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রিয়াকে। এটি বিশ্বকাপ নক আউটে ১৬ বছর পর প্রথম জয় স্পেনের। ভ্যাংকুভারে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে আরেক ধাপ সামনে এগিয়েছে সুইজারল্যান্ডও।
সর্বশেষ ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে কোনো নক আউট ম্যাচ জিতেছিল সুইজারল্যান্ড। সেবার জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল তারা। গত তিনটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠলেও জিততে পারেনি সুইসরা। কিন্তু আফ্রিকান প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াকে পেয়ে এবার তারা নক আউট ম্যাচের সেই জয়ের খরা কাটিয়েছে। ব্রিল এমবোলো মাত্র ১০ মিনিটের সময়ই গোল করে এগিয়ে দেন সুইসদের। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরেকটি গোল পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। ৪৬ মিনিটে ডান এনডোয়ের গোলের পর আলজেরিয়া আরো চাপ তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। ম্যাচ শেষে অবসরের ঘোষণা দেন দেশটির অন্যতম বড় তারকা রিয়াদ মাহরেজ।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের শুরুটা হয় হোঁচট খেয়ে। নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ধীরে ধীরে নিজেদের রং ফিরে পায় দলটি। বিশেষ করে পুরোপুরি ফিট হয়ে ম্যাচ টাইম বাড়তে থাকে অন্যতম তারকা লামিন ইয়ামালের। আর তাতেই বদলে যান স্ট্রাইকার মিকেল ওয়াইরসাবাল। দুজনের রসায়নটা জমে উঠছে ক্রমেই। কুকুরেয়ার কাছ থেকে বল পেয়েই ৩৬ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন ওয়াইরসাবাল। এরপর বায়েনার বল ডান প্রান্ত থেকে দুরন্ত গতি নিয়ে উঠে আসা পোরো লক্ষ্যভেদ করেন ৬৬ মিনিটে। অস্ট্রিয়া বেশ কয়েকবার বেশ জোরালো আক্রমণ করেছে বটে, তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় স্পেনের জাল খুঁজে পায়নি। উল্টো শেষ দিকে (৮৯ মিনিট) তারা আরেকটি গোল হজম করে। কুকুরেয়ার অ্যাসিস্টে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওয়াইরসাবাল। ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যায় লা রোজারা। গত দুই আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে (শেষ ষোলো) উঠলেও জিততে পারেনি। অবশেষে এবার নক আউটে জয় পেয়েছে দলটি। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল।
পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এটি। এর আগের পাঁচটি আসরে তিনি আটটি নক আউট ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু গোলের দেখা পাননি। ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষের সামনে সেই খরা কেটেছে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে, পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন সিআর সেভেন এবং দলকেও ফিরিয়েছেন সমতায়। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৬২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের বদলি হিসেবে নামেন গনসালো। তিনিই ৯৪ মিনিটে দলের জয়সূচক গোল করেন। যদিও যোগ করা সময়ে ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল ভিএআর বিশ্লেষণে বাতিল হয়। ফলে আরেকবার বিশ্বকাপ থেকে কান্নাভেজা বিদায় ঘটে লুকা মডরিচের।


