• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে স্টেডিয়াম কিনে শাহরুখ খানের ইতিহাস

পরিবেশ সচেতনতার কথা বলতে গিয়ে ট্রলের শিকার দিয়া মির্জা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পরিবেশ সচেতনতার কথা বলতে গিয়ে ট্রলের শিকার দিয়া মির্জা

২০০০ সালে ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল’ খেতাব জিতে লাইমলাইটে আসেন দিয়া মির্জা। ২০০১ সালে ব্লকবাস্টার ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ দিয়ে বলিউডে তার অভিষেক। এরপর তিনি লাগে রাহো মুন্না ভাই, সঞ্জু, দশ, হানিমুন ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, থাপ্পড় এর মত জনপ্রিয় ও আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন।

২০২১ সালে ব্যবসায়ী বৈভব রেখিকে বিয়ের পর থেকে অভিনয়ে অনিয়মিত দিয়া। ৫ বছর বয়সী ছেলে অভ্যিয়ান রেখি এবং বৈভবের আগের পক্ষের কন্যা ১৭ বছর বয়সী সামায়রা রেখিকে নিয়ে দিয়া মির্জা এখন বলিউডের সুখী পরিবারের ছবি।

ওটিটিতে বেছে বেছে কাজ করলেও দিয়া মির্জা এখন অভিনেত্রী নন, পরিবেশকর্মী হিসেবে বেশি পরিচিত। নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস থেকে তিনি পরিবেশ সচেতনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর তথ্যচিত্র ও শর্টফিল্ম বানান। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যক্তিগত জীবনে প্লাস্টিক ব্যবহার পুরোপরি বর্জন করেছেন দিয়া।

সমুদ্র সৈকত প্লাস্টিকমুক্ত করা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গাছ লাগানোর জন্য তিনি নিয়মিত ক্যাম্পেইন করেন। পরিবেশবান্ধব বাঁশের কাগজের ব্যবসা এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিং স্টার্টআপের সঙ্গেও যুক্ত দিয়া মির্জা। পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক নানা দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। দিয়া জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির শুভেচ্ছা দূত। এছাড়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একজন বিশেষ দূত তিনি।

পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজের জন্য ২০২৩ সালে বিবিসি তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান দেয়। তবে পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে কাজ করা আর আন্তর্জাতিক নানা স্বীকৃতিতে কিছুই যায় আসে না নেটিজেনদের। সম্প্রতি এক পডকাস্টে পরিবেশ সচেতনতার কথা বলতে গিয়ে নেটিজেনদের ট্রলের শিকার  হয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রী সোহা আলী খানের পডকাস্টে দিয়া মির্জা তার ৫ বছরের ছেলে অভ্যিয়ানের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। একবার এক ডেলিভারি বয় ডাব নিয়ে তাদের বাসায় এসেছিল। প্লাস্টিকের ব্যাগে ডাব আনতে দেখে বিরক্ত হয়েছিলেন দিয়া। হাসতে হাসতে তিানি বলেন, ‘বেচারা (ডেলিভারি বয়) জানতো না কার বাসায় প্লাস্টিক নিয়ে এসেছে।’ মায়ের পরিবেশ সচেতনতার কথা জানে ৫ বছরের ছেলে অভ্যিয়ানও। দরজা খুলে অভ্যিয়ান কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ায় এবং  ডেলিভারি বয়কে বলে, ‘ভাইয়া প্লাস্টিক ব্যাগে এনেছেন কেন? আমাদের বাসায় প্লাস্টিক নিষেধ। আপনি এটাকে প্লাস্টিক থেকে বের করুন, নিচে রাখুন এবং প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্লাস্টিক স্ট্র নিয়ে যান।’

সোহাও পডকাস্টে অভ্যিয়ানের সচেতনতার প্রশংসা করে বলেন, ‘ভেবে দেখো, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বিশ্বাসের জায়গায় এভাবে অটল থাকা!’

কিন্তু পডকাস্টের এ ক্লিপ ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন দিয়া মির্জা ও তার ছেলে। সোহা আলী যাকে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকা বলছেন, নেটিজেনদের কাছে সেটাই মনে হয়েছে অহঙ্কার। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এদের অধিকারবোধের বাড়াবাড়ি সত্যিই অবিশ্বাস্য, এটা তাদের মৌলিক সম্মান এবং ভদ্রতাবোধকেও অন্ধ করে দেয়। আপনি যদি প্লাস্টিক না চান, তবে নিজেই ঠেলাগাড়িতে গিয়ে কিনে আনুন এবং কাগজের ব্যাগে করে বহন করুন।’

আরেকজন দিয়া মির্জাকে ভন্ড হিসেবে অভিহিত করে লিখেছেন, ‘আপনি যদি পরিবেশ বাঁচানোর বিষয়ে সত্যিই এত গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে ডাবের পানির জন্য বিক্রেতার কাছে স্টিলের পাত্র নিয়ে যান। বিক্রেতাকে আপনার বাড়িতে এসে পৌঁছে দেওয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই দিন।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘এই ভিডিওটি দুটি ভিন্ন ভারতকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, একটা ছেলে যার বাস্তব পৃথিবী কীভাবে চলে সে সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, যে প্লাস্টিক নিয়ে চিন্তিত; এবং একজন ডেলিভারিম্যান যার মূল ফোকাস হলো কোনোমতে দিন গুজরান করা।’

তবে অভিনেত্রী ও দিয়া মির্জার ঘনিষ্ঠ রিচা চাড্ডা নেটিজেরদের ওপর পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তারকাদের ওপর মানুষের আক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আপনারা সবাই অবাক হন যে কেন অভিনেতারা মুখ খোলেন না?  মুখ খুললে নিয়মিত কিছু মগজহীন সন্দেহভাজনের হেনস্থা সইতে হয়।’ ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, ‘অবশ্যই তারকাদের ওপর চড়াও হোন ভাই, অভিনেতাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কী বা আর আসে যায়। মাঝেমধ্যেই তো আত্মহত্যা করে মুখরোচক খবরের যোগান দেওয়াও শিল্পীদের দায়িত্ব হওয়া উচিত। তাই না?’

ক্ষিপ্ত রিচা লিখেছেন, ‘সচেতন নারীরা যদি তাদের সিলেবাসের বাইরে কোনো কথা বলেন, তবে তাদের লজ্জিত করা হবে। যেন তারা শুধু লিপস্টিক, বিকিনি, মেকআপ নিয়েই কথা বলবে।’

দিয়া মির্জার পরিবেশ সচেতনতার নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রিচা লেখেন, ‘এই বিষয়গুলো একটু খুঁজে দেখুন, কারণ আপনারা যদি একটি ৫ বছরের বাচ্চাকে হেনস্থা করতে পারেন, তবে গুগলে একটা সাধারণ সার্চও করতে পারবেন, তাই না?’

রিচা লেখেন, ‘দিয়া পরিবেশ রক্ষার জন্য একদিনে যা করেন, এসব ইউটিউবার আর ব্লগাররা সারা বছরেও তা করেন না।’ দিয়া মির্জার বিলাসী জীবনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রিচা জানান, দিয়া তার বিয়েতে ১১০০ গাছ উপহার দিয়েছিল।

শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, ভোট দেবেন ৫৭৩ শিল্পী

অনলাইন ডেস্ক
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, ভোট দেবেন ৫৭৩ শিল্পী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে শুক্রবার সাড়ে ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ও বেলা ১টা থেকে থাকবে এক ঘণ্টা নামাজের বিরতি।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ভোটার, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে প্রাঙ্গণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এবারের নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একটি প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান, সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। আরেকটি প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন জয় চৌধুরী। অন্যদিকে ১১টি কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদের বিপরীতে দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই গণনা শুরু হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আজই ঘোষণা করা হবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির ফলাফল।

নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন শাকিব, ফিরছেন ‘বরবাদ’ টিমের সঙ্গে

বিনোদন ডেস্ক
নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন শাকিব, ফিরছেন ‘বরবাদ’ টিমের সঙ্গে
ছবি : কালের কণ্ঠ

অনেক দিন ধরেই আলোচনা শোনা যাচ্ছিল রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের সঙ্গে আবারও ফিরছেন শাকিব খান। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। গেল বছরে মুক্তি পাওয়া ‘বরবাদ’ টিমের সঙ্গে ফিরছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টিমের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন ছবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাকিব খান। 

তিনি লেখেন, ‘বরবাদ টিম আবার ফিরছে। চলো, আরেকটা ইতিহাস তৈরি করি।’ 

এদিকে ছবিটির পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের সঙ্গে নতুন সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন শাকিব খান। 

কালের কণ্ঠকে এই নির্মাতা বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই শাকিব ভাই আমাদের সঙ্গে নতুন ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ছবির নাম কিংবা বাকি অন্যান্য কাস্টিং এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা আগের কোনো ছবির সিক্যুয়াল নয়। একদমই নতুন একটা গল্প। থ্রিলার অ্যাকশন জনরার সিনেমা, এখানে কোনো পলিটিক্যাল কিছু থাকবে না। শুধু এতটুকু বলব, দর্শক একদম নতুন কিছু পাবেন।’ 

জানা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে সিনেমার শুটিং শুরু হবে। দেশে ও দেশের বাইরে একটানা শুটিং হবে। এরপর ২০২৭ সালের যে কোনো এক ঈদে মুক্তি পাবে। 

এর আগে ২০২৫ সালে শাকিব খানের সঙ্গে ‘বরবাদ’ সিনেমা নির্মাণ করে রীতিমতো বাজিমাত করেন মেহেদী হাসান হৃদয়। দারুণ ব্যবসাসফল এ সিনেমাটির পর গত ঈদুল আজহায় সিয়াম আহমেদের সঙ্গে তিনি নির্মাণ করেন ‘রাক্ষস’। এবার তিনি আবারও শাকিব খানের সঙ্গে ফিরছেন।

অনুমোদনের অপেক্ষায় বহু সিনেমা, কমিটি থাকলেও কার্যক্রম নেই

ইমরুল নূর
অনুমোদনের অপেক্ষায় বহু সিনেমা, কমিটি থাকলেও কার্যক্রম নেই
সংগৃহীত ছবি

অনেকদিন ধরেই চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি কমিটির কার্যত কোনো কার্যক্রম না থাকায় বিদেশি সিনেমা আমদানি ও রপ্তানির আবেদনগুলো ঝুলে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন প্রযোজনা ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নতুন সিনেমার অভাবে বিপাকে পড়েছেন সিনেমাহল মালিকরাও।

বছরদুয়েক আগে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের পর আমদানি-রপ্তানি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এরপর সাফটা চুক্তির আওতায় পাঁচ শর্তসাপেক্ষে বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমোদন দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। 

তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গত নির্বাচনের পর থেকে কমিটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। কয়েক মাস ধরে কোনো সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি।

এ অবস্থায় একাধিক প্রযোজনা ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিদেশি সিনেমা আমদানি ও রপ্তানির আবেদন করলেও সেগুলোর অনুমোদন মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউ কেউ বলছেন, কমিটি ভেঙে গেছে। আবার অনেকে মনে করছেন, কমিটি থাকলেও সেটি সক্রিয় নয়।

এরই মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইন-উইন এন্টারপ্রাইজ প্রায় দুই মাস আগে পাঁচটি থাই সিনেমা আমদানির আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। 

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার এবং সাবেক হল মালিক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এমনিতেই দেশি সিনেমা নেই। সিনেমা চালাতে পারছি না। আমাদের তো সিনেমাহল চালাতে হবে। বিদেশি ছবি আমদানির জন্য আবেদন করে রাখলেও মুক্তির জন্য এখনো পর্যন্ত অনুমোদন পাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক দিন ধরে কমিটির কোনো সভাও পাইনি। এখন সিনেমাহল বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদেশি ছবিগুলোর অনুমোদন পেলে এখন সেগুলো চালাতে পারতাম। থাই ছবি এনে সেগুলো পয়সা খরচ করে ডাবিং করে রেখেছি কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় এখন আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে। দুই মাস আগে আবেদন করেছি কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি। মন্ত্রণালয়ের উচিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো অনুমোদনের ব্যবস্থা করা। তাহলে আমরা হল মালিকরা তাদের হলগুলো রানিং রাখতে পারি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রযোজক জানান, দেশীয় সিনেমার স্বল্পতার সময়ে বিদেশি ছবি প্রদর্শন সিনেমাহল সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু তিনি নিজেও কয়েকটি চলচ্চিত্র আমদানির আবেদন করে রাখলেও তা নিয়ে কোনো সাড়া পাননি। 

তবে চলচ্চিত্র আমদানি ও রপ্তানি কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পুনর্গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হন তিনি।

শাহীন সুমন বলেন, ‘কমিটি তো ভাঙেনি, এখনো বহাল আছে। এখন চলচ্চিত্র আমদানি রপ্তানির অনুমোদনের বিষয়টি তো মন্ত্রণালয় দেখে। কেন ছবিগুলো অনুমোদন পাচ্ছে না সেটি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।’

তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অনিশ্চয়তার কারণে দীর্ঘদিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় অনুমোদন-সংক্রান্ত জটিলতাও শিগগির কাটতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি কমিটির বর্তমান অবস্থা এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা আবেদনগুলোর বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, কমিটি এখনও বহাল রয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র-২) শারমীন আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত এই কমিটিই বহাল রয়েছে। যেসব আবেদন জমা পড়েছে সেসব নিষ্পত্তির জন্য ইতিমধ্যেই আগামী সপ্তাহে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সভা ডাকা হয়েছে।’ এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে চাননি। 

জানা গেছে, জমা পড়া আবেদনের প্রেক্ষিতে তা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী ৭ জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুপুর আড়াইটায় এক সভা ডাকা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এসব আবেদন নিষ্পত্তি হলে বিদেশি সিনেমা আমদানির পথ আবারও সচল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন সিনেমাহলগুলো যেমন উজ্জীবিত হবে, অন্যদিকে দর্শকদেরও প্রেক্ষাগৃহমুখী করার সুযোগ তৈরি হবে।