• ই-পেপার

মতিঝিলে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

রিহ্যাব

সিঙ্গল ডিজিট সুদে গৃহঋণ ও বিশেষ তহবিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিঙ্গল ডিজিট সুদে গৃহঋণ ও বিশেষ তহবিলের দাবি

আবাসন খাতকে গতিশীল রাখতে একটি বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠন এবং সিঙ্গল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নেতারা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়সভা করে রিহ্যাবের একটি প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে রিহ্যাবের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এতে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলী আফজাল বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে গৃহঋণ চালু করা গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। একই সঙ্গে আবাসন খাতের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে।

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকাকে কার্যকরভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বল্পসুদের হাউজিং ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণ করা জরুরি। এতে মানুষ রাজধানীর বাইরে বসবাসে আরো আগ্রহী হবে।

বৈঠকে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে আবাসন খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, হাউজিং খাতের ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্যতম নিরাপদ ঋণ, যার ফলে অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় আবাসন ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকে। বর্তমানে হাউজিং ঋণের সুদের হার অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য ঋণের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গভর্নর বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ আরো সম্প্রসারিত হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ সহজতর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক আজ

সীমান্তে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ওড়ানোর প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সীমান্তে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ওড়ানোর প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ওড়ানো এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে উদ্বেগ ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন, চোরাচালান ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে এটি ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন। সম্মেলনে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। আজ সকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। পুশ ইনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাপরিচালক পর্যায়ের এই আলোচনা ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার করে আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দেশ পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও দিল্লিতে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারীদের হাতে সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, পুশ ইন বন্ধ, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তি এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

আলোচ্যসূচিতে রয়েছে তিনবিঘা করিডর দিয়ে পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন, আগরতলা থেকে আখাউড়াগামী চারটি খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের জন্য ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম।

এ ছাড়া আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্যবিনিময়, সিবিএমপি (কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান) কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।

সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার বন্ধ এবং দুই বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থ ইস্ট নিউজ জানিয়েছে, সম্মেলনে বিজিবি নজরদারি কার্যক্রমে ড্রোনের ঘন ঘন ব্যবহার এবং আকাশসীমা নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় বিএসএফের কাছে তুলে ধরবে।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী বিজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে, বিশেষ করে বিএসএফ ও বিজিবিকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, বিএসএফ দুর্গম, অরক্ষিত ও ঘন বনাঞ্চল, বিশেষ করে আসামের ধুবড়ি সেক্টরের নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য ইসরায়েলি প্রযুক্তির টিথারযুক্ত ড্রোন এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (আইএসআরও) সহযোগিতায় তৈরি রাডার-সজ্জিত মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ব্যবহার করে।

মৃত ৬ শিশুর পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
মৃত ৬ শিশুর পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর জন্য আরো ৪৮ ঘণ্টা সময় পেয়েছে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতালটি।

গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ৯ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে শোকজের জবাব দিতে হবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে।

তিনি বলেন, এর আগে হাসপাতালটিকে প্রথমে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। আবেদন বিবেচনায় নিয়ে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক অধিদপ্তরে এসে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন।

এদিকে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতিটিকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল সাংবাদিকদের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানান হাসপাতালের আইনজীবী শিশির মনির।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগে ঘোষিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বহাল থাকবে। প্রতিটি পরিবারকে এরই মধ্যে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

শিশির মনির বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সশরীরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উপস্থিত হয়ে শোকজের জবাব দিতে চায়। এ কারণে সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে।গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

গত শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতে চার লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ভারতে চার লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী রবিন খুদা। ছবি : সংগৃহীত

ভারতে ডেটা সেন্টার প্রকল্পে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন রবিন খুদা নামের এক বাংলাদেশি শিল্পপতি। এর অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। জানা গেছে, ভারতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্ল্যাকস্টোন সমর্থিত ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাংক। পাঁচ গিগাওয়াটেরও বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগকে ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম বৃহৎ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দ্রুত উত্থানের মাধ্যমে তিনি এরই মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।

রবিন খুদার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৯৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনিতে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পেশাগত হিসাববিজ্ঞান সনদ লাভ করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি তিনি। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি।

ভারতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে রবিনের লক্ষ্য হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে এআই এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধি করা। মোদির সঙ্গে রবিন দেখা করার পর তাঁর কম্পানি এয়ারট্রাংক এই বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। কম্পানিটি ভারতজুড়ে পাঁচ গিগাওয়াটের ডেটা সেন্টার তৈরি করবে।

এয়ারট্রাংকের বিনিয়োগ নিয়ে মোদি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, এ ধরনের বিনিয়োগের ফলে বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থান আরো মজবুত হবে। পাশাপাশি এটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, দেশীয় সাপ্লাই চেইনকে চাঙ্গা করবে এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল করবে।

৩০ বিলিয়ন ডলারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটি করা হবে মহারাষ্ট্রে। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফাদনাভিস জানান, এয়ারট্রাংক মহারাষ্ট্রে তিন গিগাওয়াটের ডেটা সেন্টার তৈরি করবে। এর অংশ হিসেবে মুম্বাইয়ের রায়গঞ্জে একটি জমি কেনার চুক্তিও করেছে এয়ারট্রাংক।

ফোর্বস এশিয়াকে এই বিনিয়োগের ব্যাপারে রবিন খুদা বলেছেন, ভারত বিশ্বের এমন হাতে গোনা কয়েকটি বাজারের একটি, যেখানে আমাদের বড় বড় পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো বিপুল ভবিষ্যৎ চাহিদার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৩ সালে বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হওয়া রবিন খুদা নিজ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা একজন বিলিয়নেয়ার। ডেটা সেন্টার নির্মাণ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি তাঁর বেশির ভাগ সম্পদ অর্জন করেছেন। ব্ল্যাকস্টোন এবং কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের সমর্থনে প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগকে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল অবকাঠামো কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডেটা সেন্টার খাতে ভারতের অন্যান্য বড় বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে আদানি গ্রুপের ১০০ বিলিয়ন ডলারের নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ডেটা সেন্টার নির্মাণ পরিকল্পনা।

এয়ারট্রাংক জানিয়েছে, তাদের প্রকল্প ভারতের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হবে এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে লুমিনা ক্লাউডইনফ্রা অধিগ্রহণের মাধ্যমে ভারতে কার্যক্রম শুরু করে এয়ারট্রাংক। ওই চুক্তির ফলে মুম্বাই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার উন্নয়ন প্রকল্প তাদের হাতে আসে।

প্রযুক্তি খাতে তাঁর যাত্রা ছিল প্রচলিত প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ারদের মতো নয়। তিনি ফুজিত্সুর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড শাখাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও ক্লাউডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। পরে তিনি পাইপ নেটওয়ার্কের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত পরিকল্পনা ও একীভূতকরণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে তিনি ডেটা সেন্টার কম্পানি নেক্সটডিসিতে যোগ দেন।

২০১৫ সালে এয়ারট্রাংক প্রতিষ্ঠা করেন রবিন খুদা। শুরুর সময় অর্থায়ন সংগ্রহে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি ব্যক্তিগত সঞ্চয়ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে হয়েছিল। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি সিডনি ও মেলবোর্নে বড় ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস চালু করে। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোনের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ২৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে এয়ারট্রাংক অধিগ্রহণ করে। তবে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকেন খুদা। বর্তমানে এয়ারট্রাংক নিজেকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং সৌদি আরবে বিস্তৃত। এয়ারট্রাংকের মতে, ভারতের বিশাল বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা দেশটিকে ডেটা সেন্টার বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ভারতের ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া এআই মিশন এবং ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

রবিন খুদার ভাষ্য, বৈশ্বিক বিনিয়োগ দ্রুত স্থানান্তরিত হতে পারে এবং যেসব দেশ নীতিগত নিশ্চয়তা, সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে, তারাই এআই অবকাঠামো বিনিয়োগের পরবর্তী ধাপের সুবিধা পাবে। তাঁর মতে, ভারত সেই পথেই এগোচ্ছে। এয়ারট্রাংকের ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেশটির ডিজিটাল অবকাঠামো খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। সূত্র : ফোর্বস, ফিন্যানশিয়াল টাইমস