• ই-পেপার

ই-ওয়ালেট ‘পকেট’ ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

আজকের খেলা

আজকের খেলা

মিসর-নিউজিল্যান্ড (সকাল ৭টা)

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া (রাত ১১টা)

ফ্রান্স-ইরাক (রাত ৩টা)

নরওয়ে-সেনেগাল (কাল সকাল ৬টা)

যুক্তরাজ্যে আইনজীবী নিয়ে থানায় হাসনাত আবদুল্লাহ তটস্থ এনসিপি নেতারা

নুরুল হক শিপু, লন্ডন
যুক্তরাজ্যে আইনজীবী নিয়ে থানায় হাসনাত আবদুল্লাহ তটস্থ এনসিপি নেতারা
হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আসার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রাজনীতির অন্দরমহল। হাসনাত আবদুল্লাহর আগমনের পর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ডিম নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যসহ নানা কারণে এই উত্তাপ ছড়িয়েছে। সর্বশেষ কেমব্রিজ শহরে এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসনাত আবদুল্লাহসহ তিনজনের নাম উঠেছে ব্রিটিশ পুলিশের নথিতে। হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়া বাকি দুজন হলেনএনসিপি নেতা জাকির চৌধুরী ও এহতেশামুল হক চৌধুরী। স্থানীয় পুলিশ, এনসিপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে বিশেষ করে লন্ডনে অনেকটাই তটস্থ রয়েছেন এনসিপি নেতারা। এ কারণে আজ লন্ডনে এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মী সমাবেশ বড় পরিসরে না হয়ে একটি রেস্তোরাঁয় ক্লোজড ডোর সভা হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এনসিপির মিডিয়া সেক্রেটারি মাহমুদ রহমান ইকবাল কালের কণ্ঠকে জানান, আজ এনসিপির কর্মী সমাবেশ নানা কারণে বড় পরিসরে হচ্ছে না। অনেকটাই ক্লোজড ডোর সভা হবে, যা লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার বিকেলে জুবায়ের নামের এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় ওই দিনই এনসিপির জাকির চৌধুরীকে পুলিশ হেফাজতে নেয় এবং পরে শর্তসাপেক্ষে তাঁকে ছেড়ে দেয়। একই ঘটনার তদন্তের স্বার্থে হাসনাত আবদুল্লাহকেও গত শনিবার কেমব্রিজ থানায় তলব করা হয়। তিনি নিজস্ব আইনজীবী নিয়ে থানায় গিয়ে তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল ৪টার পর ওই যুবকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী জুবায়ের আহমদ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি ফুড ডেলিভারির কাজও করেন। জুবায়ের আহমদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে একটি ভক্সওয়াগন বিলাসবহুল (রেজিস্ট্রেশন নাম্বার : ঋঢ১৬ ঐগউ) সাদা রঙের মাইক্রোবাসে থাকা আট যাত্রীর একজন ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। পেছনের গাড়িতে ছিলেন এনসিপি নেতা জাকির চৌধুরী। জুবায়ের যখন মোটরবাইক চালাচ্ছিলেন, তখন হাসনাতদের গাড়ি তাঁর কাছাকাছি এসে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে তিনি গাড়িটির পিছু নিয়ে একটি গ্রামীণ সড়কের দিকে গেলে গাড়িটি সেখানে থামানো হয়। এরপর গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে এসে তাঁকে আক্রমণ করেন। ওই সময় হামলায় জড়িতদের একজন ছোট একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করলে জুবায়েরের পেটে তিনটি ছোট জখম হয় বলে তিনি নিজেই কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

জুবায়ের জানান, হামলার সময় তিনি মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এটি বুঝতে পেরে হামলাকারীরা তাঁর ফোনটি নিয়ে নেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্রিটিশ নারী ঘটনাটির ভিডিওচিত্র ধারণ করেন এবং আহত অবস্থায় জুবায়েরকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই নারী পুলিশের কাছে তাঁর পক্ষে সাক্ষ্যও দিয়েছেন।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এটি একটি গুরুতর হামলার ঘটনা এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। জানা গেছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখাকাল অবধি আনুষ্ঠানিকভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভুক্তভোগী জুবায়েরের পক্ষে যে ব্রিটিশ নারী পুলিশকে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁর কাছ থেকে জানা গেছে, ঘটনাটি ওই নারীর বাড়ির পাশেই ঘটে। তিনি উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকান। তিনি দেখেন, কয়েকজন মিলে এক ব্যক্তিকে টানাহেঁচড়া করছে। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি গত শুক্রবার বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটের কিছু আগে ঘটে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সাক্ষী দাবি করেছেন, গাড়িটি চলে যাওয়ার আগে তিনি এর রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি চলন্ত গাড়ি থেকে মোটরসাইকেল আরোহী ওই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। ভিডিওচিত্রে তাঁকে গাড়িটির পেছনে অনুসরণ করতে দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, পরে এক পর্যায়ে গাড়ি থামিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল আরোহী ওই ব্যক্তির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী জুবায়ের আহমদের অভিযোগ, এ সময় তাঁকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ও ওই ব্রিটিশ নারী তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তিনি পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। হাসনাতকে তিনি এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন।

জুবায়ের নিজে বাংলাদেশে থাকাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে আসার পর থেকে তিনি বিভিন্ন সময় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা। ঘটনার বিষয়ে কেমব্রিজ পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিসবাউর রহমান জানান, এটি একটি টেররিজম অ্যাটাক। তাঁদের চিন্তা করা উচিত ছিল, এটি ব্রিটেন। এখানে সবার আগে আইনের শাসন বড়। এটি বাংলাদেশ নয় যে মব করে রেহাই মিলবে। হাসনাতরা হয়তো মনে করেছেন, দেশের মতো এখানেও মব সন্ত্রাস সহজ। উন্নত একটি দেশে এমন আচরণ দেশের ভাবমূর্তি ও রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ব্রিটেনের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার আতাউর রহমান জানান, যতটুকু শুনেছেন, এ ঘটনায় হাসনাত আবদুল্লাহ কোনোভাবেই জড়িত নন, তিনি গাড়ি থেকেই নামেননি। এ ছাড়া ঘটনা যা-ই ঘটুক, এসব পরিস্থিতি দেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে।

 

হামে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৬৩ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গতকাল রবিবার দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে এ তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮০ জনে। হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৮০১ জনে। এ সময়ে ৭৬ হাজার ৮৫৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হামের টিকা ঘাটতির কারণ স্পষ্ট, এ নিয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। অপারেশনাল প্ল্যান বাতিল করে ডিপিপি পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে অর্থায়ন ব্যাহত হয় এবং সময়মতো টিকা কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি পুরো টিকাদান রাউন্ড বাদ পড়ে যায়।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে হাম মোকাবেলার চেষ্টার কারণেই দেশে ভয়ানক সংক্রামক হামের এত বিস্তার। হাসপাতালে কিছু আইসিইউ আর চিকিৎসক রেখেই দায় সারার চেষ্টা হয়েছে। হাম প্রতিরোধে নেই প্রচার, নেই সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা। কভিডের সময়ে যে তৎপরতা ছিল, তার কিছুই এখন নেই বলে মনে করেন তাঁরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারি কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশুদের টিকা দেওয়া হলেও অনেক শিশু বাদ পড়ে থাকতে পারে। মহামারি পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি ছিল।

সাবেক স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদের মতে, যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাম সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে টিকাদানের শক্তিশালী ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও সব এলাকায় ৯৫ শতাংশ টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি। যেসব এলাকায় এ লক্ষ্য পূরণ হয়নি, সেখান থেকেই সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুরুতে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এমন ধারণা থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে। এর ফলেই দেশ দীর্ঘস্থায়ী হাম সংক্রমণের মুখে পড়েছে।

 

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ তরুণ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সিলেট
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ তরুণ নিহত

কাতারে গতকাল সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশের। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা তাঁরা। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় শোক জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন গাছবাড়ী এলাকার কাদের আহমদ, আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের মোস্তাক আহমদ এবং জুবায়ের আহমদ।

জানা যায়, পিকআপে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তাঁরা। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। তাঁদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় শোক জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুততম সময়ে দেশে আনতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগামী মাসেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল কাদিরের

পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন কাদের। আগামী মাসে তাঁর দেশে আসার কথা ছিল। এ নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছিলেন, বাড়িতে যোগাযোগও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বাড়ির লোকজনও প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিল। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা রূপ নিল চিরপ্রতীক্ষায়।

কানাইঘাট উপজেলায় নিহতদের পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কাতারপ্রবাসী। প্রতিদিনের মতো গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে তাঁরা একটি গাড়িতে করে কর্মস্থলে রওনা দেন। পথে তাঁদের বহনকারী গাড়ি শাহানিয়া এলাকায় মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়ির ভারতীয় চালক ছাড়াও পাঁচ বাংলাদেশি ঘটনাস্থলেই নিহত হন

নিহত কাদের আহমদের বাবা বাহার উদ্দিন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আমার ছেলেটা পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতারপ্রবাসী হয়েছিল। এত বছর পর আগামী মাসে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কত দিন পর ছেলেটা আসবে, পরিবারের সবাই সেই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ কী থেকে কী হয়ে গেল!

তিনি আরো বলেন, নিহত অন্য চারজনও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সন্তানদের লাশ দেশে আনার সামর্থ্য আমাদের কারো নেই। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমাদের সন্তানদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য।

 

ই-ওয়ালেট ‘পকেট’ ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর | কালের কণ্ঠ