• ই-পেপার

প্রশ্ন-উত্তর

  • সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৮৭

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা বৃক্ষতলে তোমার কাছে বায়াত গ্রহণ করল, তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি অবগত ছিলেন। তাদের তিনি দান করলেন প্রশান্তি এবং তাদের পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয় ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধে লভ্য সম্পদ, যা তারা হস্তগত করবে, আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১৮-১৯)

আয়াতদ্বয়ে বায়াতে রিদওয়ানের অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের মর্যাদা ও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আল্লাহর রিদা তথা সন্তুষ্টির ঘোষণার কারণে হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় অনুষ্ঠিত শপথকে বায়াতে রিদওয়ান বলা হয়।

২. আয়াত দ্বারা সাহাবিদের মর্যাদা, বিশেষ করে বায়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাবাহিদের মর্যাদা প্রমাণিত হয়।

৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা এই গাছের নিচে শপথ নিয়েছে তাদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। অন্যত্র তিনি বলেছেন, তোমরা ভূপৃষ্ঠের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।

৪. সাহাবিরা একটি কাঁটাযুক্ত বাবলাগাছের নিচে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেছিলেন। সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব (রহ.) বলেন, এই গাছের কথা সাহাবিদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

৫. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হুদাইবিয়ার একটি গাছের নিচে মানুষ সমবেত হয়ে নামাজ পড়ত। শিরক ও বিদআতের আশঙ্কায় ওমর (রা.) সেটাও কেটে ফেলেন। (আত-তাহরির ওয়াত-তানভির : ২৬/১৭৩; মাআরেফুল কোরআন : ৮/৬৬)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

মসজিদ ফান্ডের টাকায় মিনার নির্মাণ

প্রশ্ন : অনেক দিন যাবৎ আমাদের মসজিদের সাধারণ মুসল্লিদের দাবি হলো, মসজিদের ছাদে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন মিনার বানানো হোক। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি অন্তত একটি মিনার নির্মাণ করব। কিন্তু অনেকে বলছেন, মসজিদের সাধারণ ফান্ডের টাকা মিনারে খরচ করা যাবে না। প্রশ্ন হলো, আসলেই কি মসজিদের সাধারণ ফান্ডের টাকা ব্যয় করে মিনার নির্মাণ করা যাবে না?

সাইফুর রশীদ, যশোর

উত্তর : শুধু মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রদত্ত অর্থ দিয়ে মিনার নির্মাণের অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে মসজিদ কমপ্লেক্সের নামে জমাকৃত চাঁদার টাকা মিনারসহ মসজিদের সব কাজে ব্যবহার করা যাবে। মূলত মিনারের নামে স্বতন্ত্র চাঁদা করে সে অর্থ দ্বারা মিনার করাই উত্তম। (হিন্দিয়া ২/৪৬২, খাইরুল ফাতাওয়া : ২/৭৬৯, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৮/৫৩৭)

জীবন সংশোধনের দোয়া

জীবন সংশোধনের দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আসলিহলী দ্বিনি, আল্লাজি হুয়া ইসমাতু আমরি, ওয়া আসলিহলী দুনইয়ায়াল্লাতি ফিহা মাআশি, ওয়াজআলিল মাওতা রহমাতান লি মিন কুল্লি সু-ইন।

অর্থ : হে আল্লাহ, তুমি আমার দ্বিনের ব্যাপারে আমাকে সংশোধন করে দাও, যা আমার সব কাজের রক্ষাকবচ। তুমি আমার পার্থিব জীবন সংশোধন করে দাও, যেখানে রয়েছে আমার জীবন-জীবিকা এবং প্রতিটি অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য আমার মৃত্যুকে আমার জন্য রহমতের উৎস বানাও।

উপকার : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এই দোয়া করতেন। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৬৭৩)

ইবাদতের সামাজিক কল্যাণ ও প্রভাব

মুফতি আতাউর রহমান
ইবাদতের সামাজিক কল্যাণ ও প্রভাব

ইসলামী বিধি-বিধানের অন্যতম সৌন্দর্য হলো এর বহুমুখী কল্যাণ। ইবাদতগুলোর একটি দিক হলো তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। অন্যদিক হলো, তা সেই সমাজের কল্যাণ বয়ে আনে যেখানে মুসলমান বসবাস করে। বসনিয়ান মুসলিম চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক আলী ইজ্জত বেগোজিভ তাঁর আল ইসলামু বাইনাশ শারকি ওয়াল গারবি বইয়ে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের বহুমুখী কল্যাণ তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন ইসলামের রুকনগুলো কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি মানবকল্যাণ নিশ্চিত করে।

ইবাদতের সামাজিক প্রভাব

ইবাদতের সামাজিক কল্যাণ ও প্রভাব বহুমুখী। যার কয়েকটি নিম্নে বর্ণনা করা হলো

১. আত্মশুদ্ধি ও মূল্যবোধের উন্নয়ন : আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ছাড়া কোনো সমাজের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নামাজ এই সামগ্রিক পরিশুদ্ধির নিশ্চয়তা দেয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তুমি নামাজ কায়েম কোরো। নিশ্চয়ই নামাজ বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বোত্তম। (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)

২. চারিত্রিক স্খলন রোধ : জাকাত মানুষকে চারিত্রিক স্খলন ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তাআলা জাকাতের প্রভাব সম্পর্কে বলেছেন, তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করবে। এর দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশুদ্ধ করবে।

(সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০৩)

আল্লামা সাদি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, তুমি তাদেরকে পাপ কাজ ও মন্দ চরিত্র থেকে পবিত্র করবে এবং তাদের ভেতর উত্তম চরিত্র ও নেককাজের উন্নয়ন ঘটাবে। ফলে তাদের ইহকালীন ও পরকালীন প্রতিদান বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের সম্পদও বৃদ্ধি পাবে। (তাফসিরে সাদি, পৃষ্ঠা ৩৪২)

৩. পরকালীন জবাবদিহির ভয় : তাকওয়া বা আল্লাহভীতির মূল কথা হলো মানুষের ভেতর পরকালীন জবাবদিহির ভয় জাগ্রত করা। যা মানুষকে অন্যায় ও অবিচার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। আর রোজা মানুষের ভেতর আল্লাহভীতি তথা পরকালের ভয় জাগ্রত করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিহার করল না, তাঁর না খাদ্য-পানীয় পরিহারের কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

৪. বিরোধ-সংঘাত দূর করা : সেই সমাজকেই কল্যাণের ধারক বলা যায়, যার অধিবাসীরা পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত নয়। হজ মানুষকে বিবাদ-সংঘাত থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। আল্লাহ বলেন, হজ হয় সুনির্দিষ্ট মাসসমূহে। অতঃপর যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে হজ করার নিয়ত করে তার জন্য হজের সময়ে স্ত্রী-সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহ-বিবাদ বিধেয় নয়। তোমরা উত্তম কাজের যা কিছু করো আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা কোরো এবং আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা! তোমরা আমাকে ভয় কোরো।

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৭)

সামাজিক কল্যাণও ইবাদত

ইসলাম শুধু ইবাদতের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করেনি, বরং সমাজের জন্য কল্যাণমূলক কাজকে ইবাদতের মর্যাদা দান করেছে। নিম্নে এমন কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো

১. অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া : নিজেকে প্রাধান্য দেওয়া সামাজিক অশান্তি ও বিরোধের অন্যতম কারণ। ইসলাম নিজের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা দেয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩)

২. অন্যকে কষ্ট না দেওয়া : অন্যকে কথা ও কাজে কষ্ট দেওয়া মুমিনের কাজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলমান, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। আর সেই প্রকৃত মুহাজির সে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় পরিহার করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০)

৩. সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা : শুধু নিজেকে ও নিজের ঘরবাড়ি নয়, বরং সমাজ ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামের শিক্ষা। ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। তার ভেতর সর্বোত্তম হলো আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এ কথা বলা এবং সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরানো। লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৫)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।