মহান আল্লাহ মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে নবী-রাসুলদের প্রেরণ করেছেন। যেমন—মুসা (আ.)-এর ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুসাকে আমি আমার নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছিলাম এবং বলেছিলাম, তোমার সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসো।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৫)
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন, আমি তাকে আদেশ দিয়ে বলেছিলাম, তুমি তোমার স্বজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাও। অর্থাৎ তাদেরকে কল্যাণের পথে আহবান কোরো, তারা যে অন্ধকার ও বিভ্রান্তির মধ্যে আছে তা থেকে তাদেরকে বের করে সুপথের আলো ও ঈমানি দূরদর্শিতার দিকে নিয়ে আসো। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৪৭৮)
মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনা সম্ভব হয় যখন মানুষ আসমানি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, যখন তারা আল্লাহর পরিচয় লাভের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, যখন তারা ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল ও পরকাল সম্পর্কে জানতে পারে, যখন তারা তাদের ভালো-মন্দ বুঝতে পারে। সর্বোপরি যখন মানুষ আল্লাহর ইবাদত ও তার পদ্ধতি এবং তাঁর ভালোবাসা লাভের পথ খুঁজে পায়। ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) আল্লাহর কাছে আসমানি জ্ঞান ও আত্মশুদ্ধি লাভের দোয়া করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসুল প্রেরণ কোরো, যে তোমার আয়াতগুলো তাদের কাছে তিলাওয়াত করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৯)
ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, এই দোয়া তারা বিশেষভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য করেছিলেন। আয়াতে পবিত্র করার দ্বারা উদ্দেশ্য তাদেরকে শিরক ও মূর্তিপূজা থেকে মুক্ত করা, পরিশুদ্ধ করা এবং আল্লাহর আনুগত্য বৃদ্ধি করা। (তাফসিরে তাবারি : ২/৫৭২)
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, তাদেরকে পবিত্র করবেন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাদেরকে মন্দ স্বভাব, অন্তরের কলুষতা, মূর্খতাসুলভ কাজ থেকে পবিত্র করবেন। ফলে তারা অন্ধকার থেকে আলোর পথে অগ্রসর হবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ১/৪৬৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্য ও চেষ্টার বরকতে মানুষ আল্লাহর ওলি ও পণ্ডিত আলেমে পরিণত হয়েছিল। তাদের জ্ঞান ছিল সুগভীর এবং অন্তর ছিল পবিত্রতম। তারা ভণিতা জানতেন না এবং তাদের সর্বাঙ্গে সত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটত।