• ই-পেপার

কানাডার রেজাইনায় প্রথমবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচার

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৬২

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

যারা কুফরি করে এবং অপরকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করে, তিনি তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দেন। যারা ঈমান আনে, সৎ কাজ করে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে, আর এটাই তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য... (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১-২)

পবিত্র কোরআনের ৪৭তম সুরা মুহাম্মদ। মদিনায় অবতীর্ণ এই সুরার নাম রাখা হয়েছে নবীজি (সা.)-এর নামানুসারে। এতে যুদ্ধ, গনিমত, মুরতাদ ও মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সুরার শেষে মুসলিমদের যুদ্ধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. আয়াতে ১২ জন মুশরিক বা আহলে কিতাবের নিন্দা করা হয়েছে, যারা মানুষকে ইসলাম গ্রহণে বাধা দিত।

২. আমল ব্যর্থ করার দ্বারা উদ্দেশ্য তার সুফল থেকে বঞ্চিত করা। নতুবা ভালো কাজ যেই করুক তা প্রশংসনীয়।

৩. পৃথকভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনার কথা বলা হয়েছেরিসালাতের প্রতি ঈমান আনার গুরুত্ব বোঝাতে। কেননা রিসালাত অস্বীকার করলে পুরো দ্বিন ও শরিয়ত অস্বীকার করা হয়।

৪. এটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য বাক্য দ্বারা ইসলাম চূড়ান্ত দ্বিন ঘোষণা করা হয়েছে। শরিয়তে মুহাম্মদির পূর্বে সব শরিয়তকে রহিত করেছে।

৫. তিনি ঈমান ও ইসলামের মাধ্যমে মন্দ কাজ দূর করে দেবেন এবং মন্দকে ভালোতে রূপান্তর করবেন।

  (তাফসিরে আবু সাউদ : ৮/৯১)

শিশুর নৈতিক গঠনে কার দায়িত্ব কতটুকু?

ড. ইউসুফ আল কারজাভি (রহ.)
শিশুর নৈতিক গঠনে কার দায়িত্ব কতটুকু?

পিতা সন্তানের ভরণ-পোষণের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। সে কখনো এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে না। কেননা ভরণ-পোষণে অবহেলা করলে সন্তানের স্বাস্থ্যহানি, অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পিতার আরেকটি দায়িত্ব হলো সন্তানের আত্মার খোরাক জোগানো। এ ক্ষেত্রেও তার অবহেলা করা উচিত নয়। কেননা এই ক্ষেত্রে অবহেলা করলে শারীরিক ক্ষতির চেয়ে আরো মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সেই ক্ষতি মৃত্যুর চেয়ে কম ভয়াবহ নয়। মানুষের অন্তর ও আত্মার মৃত্যু হলে মানুষ চিরস্থায়ী ধ্বংসের মুখোমুখি হয়। তাই সন্তানকে ঈমান, ইসলাম ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সবাই দায়িত্বশীল, প্রত্যেকেই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।

বুখারি, হাদিস : ২৫৫৪)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, হে মুমিনরা, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের এবং নিজ পরিবারকে রক্ষা কোরো। (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

আর এই দায়িত্ব পালনার্থে পিতা সন্তানদের নামাজের প্রশিক্ষণ দেবেন। তিনি তাদের নামাজ শেখাবেন সাত বছর বয়স তথা শিক্ষার বয়স হওয়ার পর থেকে। সন্তানের বয়স ১০ হলে পিতা নামাজের ব্যাপারে তাদের প্রতি কঠোর হবেন। হাদিসে এসেছে, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং ১০ বছর বয়সে তাদের নামাজে অবহেলার জন্য প্রহার করো।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)

হাদিসে প্রহার দ্বারা শাস্তিদান ও লাঞ্ছিত করা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো কঠোর মনোভাব প্রদর্শনের মাধ্যমে ইবাদতের গুরুত্ব বোঝান এবং রাগ দেখিয়ে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে ফেরানো; যেভাবে পিতার অন্যান্য নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করলে তার প্রতি রাগ দেখানো হয়।

সন্তানের নৈতিক গঠনে মা বাবার সহযোগী। কেননা মা ঘরের ব্যাপারে দায়িত্বশীল এবং কিয়ামতের দিন সে তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। নবীজি (সা.) হাদিসে নারীদের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ করে তাদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া সন্তান পিতার তুলনায় মায়ের সঙ্গেই অধিক সময় অতিবাহিত করে। সন্তানের ওপর মায়ের প্রভাব পিতার তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। কন্যাসন্তানের ব্যাপারে মা বিশেষভাবে দায়িত্বশীল। কেননা মেয়েরা তার মাকে অনুসরণ করতেই বেশি পছন্দ করে।

শিশুর নৈতিক গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও দায় আছে। তারা ছেলেমেয়ের নৈতিক গঠনে যত্নশীল হবে। তাদের জন্য এতটুকু যথেষ্ট নয় যে তারা শুধু শিশুকে ব্যাবহারিক ও প্রযুক্তিগত বিদ্যা শেখাবে, তাদের পরিবেশ, প্রকৃতি, জীব ও জীবন সম্পর্কে অবগত করবে। বিপরীতে তাদের মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও অস্তিত্ব সম্পর্কে মূর্খ রেখে দেবে। ফলে তারা জানবে না তারা কোথা থেকে এসেছে? কে তাদের স্রষ্টা? পার্থিব জীবন শেষে তাদের গন্তব্য কোথায়? আসা ও যাওয়া এবং জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ে তাদের কোনো করণীয় আছে কি না? সেই করণীয়টা কী? কে এই করণীয় নির্ধারণ করেছেন? তা আদায় বা প্রত্যাখ্যানের পরিণতি কী?

শিশুকে এসব প্রশ্নের উত্তর শিক্ষা দেওয়া ঈমানের দাবি। এতে মন ও মস্তিষ্ক প্রশান্ত ও পরিতৃপ্ত হয়, হৃদয় প্রশস্ত হয়। ইসলামী বিশ্বাস ও মূল্যবোধই এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে। কেননা ইসলাম মানবীয় ভুলত্রুটি, কল্পনা, বাড়াবাড়ি, মোহ ও স্ববিরোধিতামুক্ত। যে বিদ্যালয় শিশুর মনে ঈমানের বীজ বপনে ব্যর্থ হয়, তা শুধু বিভ্রান্ত ও স্ববিরোধী প্রজন্ম তৈরি করে। যারা জীবনের জাহাজে কোনো নাবিক, পথপ্রদর্শক, মানচিত্র, কম্পাস ও বাতিঘর ছাড়াই এর উত্তাল জলে পথ খুঁজে বেড়ায়, সে কোনো তীর খুঁজে পায় না এবং তা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও রাখে না।

শিক্ষা নববী মিশনেরই অংশ। আল্লাহ আরব জাতির প্রতি নিজের অনুগ্রহ বর্ণনা করে বলছেন, তিনি তাদের থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন। যার দায়িত্ব হলো তিনি তাদের কাছে তার আয়াত পাঠ করে, তাদেরকে পবিত্র করে, তাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেয়।

(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের সম্পর্কে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি বিষয়গুলোকে সহজ করে দেয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৭৮)

মহানবী (সা.) উত্তম শিক্ষা দানকারী শিক্ষকের ব্যাপারে বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমানবাসী, জমিনবাসী, গর্তের পিপীলিকা, এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত মানুষকে উত্তম বিষয় শিক্ষাদানকারীর জন্য কল্যাণ কামনা করেন। (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৮৭৪০)

আর মানুষকে যে শিক্ষা দেওয়া হয়, তার ভেতর সর্বোত্তম শিক্ষা হলোতার রবের পরিচয় শেখানো, তাকে তার উৎস, গন্তব্য ও অস্তিত্বের রহস্য শেখানো। সর্বোপরি তাকে জীবনের হাকিকত শেখানো। কেননা যে নিজেকে চিনতে পারে, সে তার প্রভুকেও চিনতে পারে।

লেখকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

আশুরার রোজার মর্যাদা ও নিয়ম

মুফতি আবদুল্লাহ নুর
আশুরার রোজার মর্যাদা ও নিয়ম

ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এই মাসের দশম দিনকে বলা হয় আশুরা। আরবি আশারা শব্দ থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ দশ বা দশম। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার স্মারক। ইসলামী শরিয়ত রোজার বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আশুরার মর্যাদা ও গুরুত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে। আশুরার রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আশুরা পবিত্র চার মাসের অন্যতম। যে চার মাস সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাস গণনায় মাস ১২টি। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)

সম্মানিত মাস আশুরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আশুরার রোজা। এর গুরুত্ব সম্পর্কে আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। কারণ এদিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন নবী (সা.) বলেন, মুসার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৬৮০)

এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে নির্দেশ দেন। তবে ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। তাই জীবনের শেষ দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখও রোজা রাখব।

(মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)

এই হাদিসের আলোকে ফকিহরা বলেন, আশুরার রোজার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখা। কেউ চাইলে ১০ ও ১১ মহররমও রোজা রাখতে পারেন। আর শুধু ১০ মহররমে একটি রোজা রাখলেও সুন্নত আদায় হবে, যদিও দুই দিন রাখা উত্তম।

আশুরার রোজা শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; এটি ত্যাগ, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষাও দেয়। একই সঙ্গে এদিন মুসলিম উম্মাহকে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার যে মহান আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করে আসছে।

আল্লাহ সবাইকে আশুরার রোজা নিয়ম মেনে রাখার তাওফিক দিন। আমিন।

মাঝে মাঝে সততার পুরস্কার শাস্তি হয়ে আসে কেন?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
মাঝে মাঝে সততার পুরস্কার শাস্তি হয়ে আসে কেন?

মনুষ্য সমাজের একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা হলো সৎ মানুষ অনেক সময় বঞ্চিত হয়, আর অসৎ মানুষ সুবিধা পেয়ে যায়। কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা, রাজনীতি, এমনকি পারিবারিক ক্ষেত্রেও দেখা যায়সত্য কথা বলা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা বা দুর্নীতির বিরোধিতা করার কারণে কেউ কেউ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। কখনো আবার (চাকরির ক্ষেত্রে) চাকরিচ্যুতি কিংবা শাস্তিমূলক বদলির শিকার হয়। প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়? এ ব্যাপারে কোরআন-হাদিসেই বা কী আছে?

এর উত্তরে প্রথমত বলতে হবে, দুনিয়া মুমিনের জন্য পরীক্ষাগার। কখনো কখনো আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরীক্ষা করেন যে সত্ভাবে চলতে গিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়েও কারা কারা সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে পারে? পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, মানুষ কি মনে করে যে আমরা ঈমান এনেছি বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ২)

কোনো ঈমানদার ও ভদ্র মানুষের ওপর বিপদ এলে আমরা অনেক সময় ভাবি, লোকটা এত সৎ মানুষ, তার ওপর বিপদ আসে কেন? তার বিরোধী কপট শ্রেণির মানুষরাতো অপবাদ দিয়ে বসে যে তার গোপন বদ আমলের কারণে তার ওপর বিপদ আসছে। অথচ বিষয়টা সব ক্ষেত্রে এমন নাও হতে পারে। আল্লাহর ঈমানদার বান্দাদেরও আল্লাহ পরীক্ষা করেন। এমনকি আল্লাহর বিশেষ বান্দা নবী-রাসুলরাও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। মুসআব ইবনে সাআদ (রহ.) তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, তাঁর বাবা সাআদ (রা.) বলেন, একদিন আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! মানুষের মধ্যে কার বিপদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়? তিনি বলেন, নবীদের বিপদের পরীক্ষা, তারপর যারা নেককার তাদের, এরপর যারা নেককার তাদের বিপদের পরীক্ষা। মানুষকে তার ধর্মানুরাগের অনুপাত অনুসারে পরীক্ষা করা হয়। তুলনামূলকভাবে যে লোক বেশি ধার্মিক তার পরীক্ষাও সে অনুপাতে কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি কেউ তার দ্বিনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়ে থাকে তাহলে তাকে সে মোতাবেক পরীক্ষা করা হয়। অতএব, বান্দার ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে, অবশেষে তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে সে জমিনে চলাফেরা করে অথচ তার কোনো গুনাহই থাকে না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৮)

সুতরাং সততার কারণে কষ্ট পাওয়া সব সময় ব্যর্থতার লক্ষণ নয়; বরং এটি ঈমান ও চরিত্রের পরীক্ষার অংশও হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অসৎ লোকেরা অনেক সময় ক্ষমতাবানদের স্বার্থ রক্ষা করে। যে ব্যক্তি অন্যায়কে সমর্থন করে, তোষামোদ করে বা সত্য গোপন করে, তাকে কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে পছন্দ করাটা স্বাভাবিক। কারণ সে তাদের ভুলের প্রতিবাদ করবে না। পক্ষান্তরে সৎ ব্যক্তি অকপটে সত্য কথা বলে দেয়, নির্দ্বিধায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়; ফলে সে অনেকের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। কিন্তু কর্তাব্যক্তি কিংবা সহকর্মীরা সৎ লোকদের বশে রাখতে চায়, বেআইনি কাজে সহযোগী বানাতে চায়, তা না পারলেই তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে। মহান আল্লাহ তাঁর হাবিবকে এ ধরনের লোকের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, তারা কামনা করে, যদি তুমি আপসকামী হও, তবে তারাও আপসকারী হবে। (সুরা : কলম, আয়াত : ৯)

অর্থাৎ অন্যায়কারীরা বরাবরই চায় যে সত্যবাদী মানুষ তার নীতিতে ছাড় দিক। যখন সে তা করে না, তখন তাকে চাপের মুখে ফেলা হয়। মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। বিভিন্ন দিক থেকে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়।

তবে বাস্তবতা হলো কখনো কখনো বাহ্যিকভাবে সৎ মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত আর অসৎ মানুষদের জয়যুক্ত মনে হলেও তারা আল্লাহর দরবারে হেরে যায়। তাদের পরকাল ধ্বংস হয়ে যায়। এর বিপরীতে যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সততার ওপর অটল থাকে, মহান আল্লাহ তাদের কোনো না কোনোভাবে এর প্রতিদান দিয়ে দেন। যেমনইউসুফ (আ.)-কে কূপ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে একসময় রাজত্বের আসনে বসিয়ে দেন। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, আর এমনিভাবে আমি ইউসুফকে জমিনে কর্তৃত্ব প্রদান করেছি, সে তার যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করতে পারত। আমি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত দান করি, আর আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৬)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, দুনিয়ার লাভ-লোকসানই শেষ বিচার নয়; আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচারের দিন রয়েছে। সৎ মানুষের দায়িত্ব হলো হতাশ না হয়ে সত্য, ন্যায় ও আমানতের পথে অটল থাকা। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ এর প্রতিদান দুনিয়া ও আখিরাতে দেবেন।