• ই-পেপার

পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তির জন্য মহানবী (সা.)-এর সুসংবাদ

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৫৬

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

আমি তাদেরই সুকৃতিগুলো গ্রহণ করে থাকি এবং মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করি, তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা সত্য। আর এমন এক লোক আছে, যে তার মা-বাবাকে বলে, আফসোস! তোমাদের জন্য! তোমরা কি আমাকে এই ভয় দেখাতে চাও যে আমি পুনরুত্থিত হবো যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে? তখন তার মা-বাবা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি বিশ্বাস স্থাপন কোরো, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।... (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১৬-১৭)

আয়াতদ্বয়ে আবু বকর (রা.)-এর মর্যাদা ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. তাফসিরবিদরা বলেন, (১৫ নম্বর) আয়াতটি আবু বকর (রা.)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে এর শিক্ষা সবার জন্য প্রযোজ্য।

২. দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ পুরস্কার ও শাস্তির যত অঙ্গীকার করেছেন তার সবই সত্য। সবই তিনি বাস্তবায়ন করবেন।

৩. আয়াত দ্বারা মা-বাবার আনুগত্যের ফজিলত ও পুরস্কার প্রমাণিত হয়।

৪. দ্বিন ও ইসলামের ক্ষেত্রে মা-বাবার আনুগত্য করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে তাদের অবাধ্য হওয়ার পরিণতি ভয়াবহ।

৫. উম্মত এই বিষয়ে একমত যে নবীদের পর সর্বোত্তম মানুষ আবু বকর (রা.)। তাঁর মর্যাদা একাধিক আয়াত ও অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

(বুরহানুল কুরআন : ৩/৩৬৩)

 

সমাজে প্রচলিত কিছু সূক্ষ্ম কুফর-শিরক

মুফতি দিদার হুসাইন
সমাজে প্রচলিত কিছু সূক্ষ্ম কুফর-শিরক

অনেকেই মনে করেন, শিরক মানেই শুধু মূর্তি পূজা করা। কিন্তু পবিত্র কোরআন-হাদিসে এমন বহু বিষয়কে শিরক বলা হয়েছে, যা মূর্তি পূজার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

এখানে কিছু উদাহরণ দেয়া হলো

আল্লাহ ছাড়া অন্যের ওপর ভরসা করা : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, আর মুমিনরা যেন একমাত্র আল্লাহর ওপরই ভরসা করে। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২২)

যখন কেউ মনে করে যে কোনো ব্যক্তি, পীর, নেতা বা শক্তি আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে তার উপকার বা ক্ষতি করতে পারে, তখন তা শিরকের দিকে নিয়ে যায়।

আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দোয়া করা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডেকো না, যে তোমার উপকারও করতে পারে না, অপকারও করতে পারে না। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১০৬)

এ আয়াতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে। দোয়া একটি ইবাদত। তাই বিপদ-আপদ দূর করার জন্য মৃত ব্যক্তি, কবর বা অলিদের কাছে সাহায্য চাওয়া কোরআনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়; বরং দোয়া একমাত্র মহান রবের কাছেই করতে হবে।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, বলুন (হে নবী), আমি তো কেবল আমার প্রতিপালককেই ডাকি এবং তাঁর সঙ্গে কাউকেই শরিক করি না।

(সুরা : জিন, আয়াত : ২০)

এই আয়াতে তাওহিদের মূল শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে, আল্লাহকে একমাত্র আহবান করা এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা।

দুনিয়াবি স্বার্থে আল্লাহর হুকুম অমান্য

করা : মহান আল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর

সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে এবং তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো ভালোবাসে।

(সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৬৫)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, কোনো ব্যক্তি, মতবাদ বা দলকে অনুসরণ করতে গিয়ে কিংবা ভালোবাসতে গিয়ে যদি আল্লাহর আদেশকে উপেক্ষা করা হয়, বুঝে নিতে হবে, নিজের অজান্তেই আল্লাহর ভালোবাসা ও উপাসনায় অন্য কাউকে শরিক করে ফেলেছে। 

আল্লাহর আইনকে অস্বীকার করে অন্যকে চূড়ান্ত বিধানদাতা মনে করা : এই বিশ্বাসও একটি মানুষের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, কখনো কখনো ধ্বংস করে দেয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পণ্ডিত ও সন্ন্যাসীদের রব বানিয়ে নিয়েছে। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩১)

মুফাসসিরিনে কেরাম এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তারা তাদের আলেমদের সিজদা করত না; বরং হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম বানানোর ক্ষেত্রে অন্ধ আনুগত্য করত।

রিয়া তথা লোক-দেখানো ইবাদত : ইবাদতের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি না হয়ে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ হলে তাতে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে। আল্লাহ বলেন, অতএব দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন; যারা লোক-দেখানোর জন্য কাজ করে। (সুরা : মাউন, আয়াত: ৪-৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি কি তোমাদের এমন বস্তু সম্পর্কে সংবাদ দেব, যা তোমাদের জন্য দাজ্জালের চেয়েও অধিক ভয়ংকর। (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি (সা.) বললেন, গোপন শিরক। যেমনকোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ছিল, অতঃপর কেউ তাকে দেখছে বলে সে নামাজকে খুব সুন্দর করে পড়তে শুরু করল। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২০৪)

আল্লাহ ছাড়া গায়েবের জ্ঞান অন্য কারো আছে বলে বিশ্বাস করা : আমাদের সমাজে কেউ কেউ মনে করে যে পীর, জ্যোতিষরা ভবিষ্যতের কথা জানেন, এটা ঈমানবিধ্বংসী বিশ্বাস। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, গায়েবের চাবিকাঠি তাঁরই কাছে। তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না। (সুরা : আল-আনআম, আয়াত : ৫৯)

আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা

করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা কবরের ওপর বোসো না এবং কবরের দিকে (মুখ করে) সালাত আদায় কোরো না।

(মুসলিম, হাদিস : ৯৭২)

অন্য হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) যে রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেননি, সে রোগশয্যায় থেকে বলেছেন, ইহুদি ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।

(বুখারি, হাদিস : ৪৪৪১)

কোরআন ও হাদিসের আলোকে দেখা যায়, মানুষের ইবাদত মনে করা অনেক কাজ ও বিশ্বাস মানুষকে কুফর ও শিরকের দিকে নিয়ে যায়। তাই একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো তাওহিদের সঠিক ধারণা অর্জন করা, নিজের বিশ্বাস ও আমলকে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে যাচাই করা এবং সব ধরনের শিরক থেকে বেঁচে থাকা।

শিশুকে স্তন্যদানে ইসলামের নির্দেশনা

মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া
শিশুকে স্তন্যদানে ইসলামের নির্দেশনা

আল্লাহ মায়ের দুধের ওপর সন্তানের অধিকার দিয়েছেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতেও শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ, শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পূর্ণতা লাভে মায়ের দুধ অপরিহার্য। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো বর্তমান যুগে কোনো কোনো মা তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে চান না, খাওয়ালেও খুব কম খাওয়ান। তাঁরা তাঁদের শিশুকে শুধু বাজারের গুঁড়া দুধ খাইয়ে লালন করে থাকেন। অথচ এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সন্তানের জন্য প্রদত্ত খাবার। তাই মায়ের শারীরিক অসুস্থতা কিংবা বিশেষ কোনো অপারগতা না থাকলে সন্তানকে বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মায়েরা নিজেদের বাচ্চাদেরকে পূর্ণ দুই বছর স্তন্যদান করবে, যদি দুধ খাওয়ার পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায়।

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৩৩)

তাফসিরবিদরা বলেন, আয়াত থেকে বোঝা যায় যে সন্তানকে দুধ পান করানো ওয়াজিব এবং বিশেষ অপারগতা ছাড়া স্তন্যদান থেকে বিরত থাকার অবকাশ নেই।

(জামিউ আহকামিসসিগার : ১/১২৩)

অন্যদিকে দেখা যায়, অনেক মা সন্তানকে তিন-চার বছরও দুধ খাওয়ান। আবার অনেকে আড়াই বছর খাওয়ানো যায় মনে করে এই মেয়াদ পূর্ণ করেন। এটা ভুল। সন্তান অনূর্ধ্ব দুই বছর মায়ের বুকের দুধ খেতে পারবে। দুই বছরের বেশি বয়সী সন্তানকে দুধ পান করানো নাজায়েজ। দুই বছর দুধ পান করানোর বিষয়টি সুরা বাকারার ২৩৩ নম্বর আয়াতে রয়েছে। এ ছাড়া আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেছেন, মায়ের দুধ পানের সময় দুই বছরই। (সুনানে দারাকুতনি : ৪/১৭৪)

অনেকে মনে করেন, দুই বছরের বেশি দুধ পান করানো যায় নাএ কথা ঠিক, তবে শিশুর স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা থাকলে কিংবা অন্য খাবারে অভ্যস্ত না হলে আড়াই বছর বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ আছে এমন ধারণাও ভুল। শিশুকে দুই বছরের বেশি বুকের দুধ খাওয়ানোর কোনো সুযোগ নেই, শিশু অন্য খাবারে অভ্যস্ত না হলেও।

যে ছেলে-মেয়ে এক মায়ের দুধ পান করেছে তারা পরস্পর দুধ ভাই, দুধ বোন। এদের মধ্যে বিয়েশাদি হারাম। অথচ এ মাসআলাটির প্রতি অনেকেই ভ্রুক্ষেপ করে না। গ্রামগঞ্জে মহিলারা শখ করেই একে অন্যের সন্তানকে দুধ খাইয়ে থাকেন। আবার অনেকে প্রয়োজনবশতও খাওয়ান। যেমনমায়ের অসুখ হলে বাচ্চাকে পার্শ্ববর্তী অন্য মা দুধ পান করান, কিন্তু এ বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যায়। যিনি দুধ পান করালেন তিনিও এটা স্মরণ রাখেন না, অন্যদেরও জানানো হয় না। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-পড়শিদেরও বিষয়টি জানা থাকে না। ফলে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো কোনো দম্পতির বিয়ে হয়ে সন্তান-সন্ততি হয়ে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দুধ ভাই-বোনের সম্পর্কের খোঁজ পাওয়া যায়। কত ভয়াবহ ব্যাপার! এ জন্য প্রথমত দুধ পান করানোর বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। শিশুর দুধের অভাব বা প্রয়োজন ছাড়া শুধু শখ করে কিংবা হাসিঠাট্টা করে অন্য মায়ের দুধ পান করানো থেকে বিরত থাকা জরুরি।

আর যদি কোনো শিশুকে দুধ পান করানো হয়, তবে এ দুধ-সম্পর্কের কথা আত্মীয়-স্বজনকে জানানো এবং এ সম্পর্কের সংরক্ষণ করা জরুরি, বরং ডায়েরিতে নোট করে রাখা উচিত। (তাফসিরুল মানার : ৪/৪৭০; ফিকহুস সুন্নাহ : ২/৪০৩)

অনেকে মনে করেন, শিশু তার দাদি-নানির দুধ পান করতে পারবে না। যদি দুধ পান করে, তবে মা-বাবার বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শিশু তার দাদি-নানির দুধ পান করলে মা-বাবার সম্পর্ক নষ্ট হবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৫/১২৫)

কোনো কোনো এলাকায় দেখা যায়, খালাতো ভাই-বোন বা চাচাতো ভাই-বোন, যাদের মধ্যে পর্দা ফরজ, তারা বড় হলে পর্দা করতে পারবে নাএ আশঙ্কায় ছোট থাকতেই খালা বা চাচির দুধ খাইয়ে দেওয়া হয়, যেন তারা বড় হয়ে পর্দা লঙ্ঘনের গুনাহে পতিত না হয়। যৌথ পরিবারে এমনটি বেশি ঘটে থাকে। অথচ শরিয়তে দুধ-সম্পর্কের বিধান এ উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়নি। দুধ-সম্পর্কের ভিত্তি হবে সন্তানের দুধের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে। পর্দার হুকুম আদায় করতে পারবে না এ আশঙ্কায় দুধ পান করানো সমীচীন নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৬/৩৬৯)

দুধ-সম্পর্কের কারণে দুধ ভাই-বোনের দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ হয়ে যায় এবং তাদের মধ্যে বিয়েশাদি হারাম হয়ে যায়। কিন্তু তারা সব ক্ষেত্রে রক্ত সম্পর্কীয় আসল মাহরামের মতো নয়। আজকাল দুধ ভাই-বোনের চালচলন আপন ভাই-বোনের মতোই দেখা যায়, যা মোটেই কাম্য নয়। একইভাবে তাদের একাকী সফরসম দূরত্বে  যাওয়াও ঠিক নয়। (সংক্ষেপিত)

মুমিন অনর্থক কাজে আগ্রহী হয় না

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
মুমিন অনর্থক কাজে আগ্রহী হয় না

ইসলাম মানুষকে এমন এক জীবনব্যবস্থা শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি কথা, কাজ ও সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্য। যে লক্ষ্য তাকে দুনিয়া-আখিরাতের সফলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি এনে দেয়। প্রকৃত মুমিন কখনো অহেতুক বিষয়ে উন্মাদ হয়ে পড়ে না। সে জানে, মানুষের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত এবং প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। তাই তার চিন্তা ও কর্মে থাকে উদ্দেশ্য, দায়িত্ববোধ এবং কল্যাণের অনুসন্ধান।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সফল মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আর তারা অনর্থক ও অসার বিষয় থেকে বিমুখ।

(সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৩)

অর্থাৎ মুমিন এমন কাজে সময় নষ্ট করে না, যা তার ঈমান, চরিত্র বা জীবনের কোনো উপকারে আসে না। একজন সচেতন মুমিন গিবত, অপবাদ, অশ্লীলতা, অর্থহীন তর্কবিতর্ক, সময়ের অপচয়, ইসলামের সঙ্গে যায় না এমন বিষয় নিয়ে উম্মাদনা কিংবা শুধু নফসের খেয়াল পূরণের জন্য করা কাজ ইত্যাদিতে নিজেকে জড়ায় না। কারণ ইসলামের শিক্ষা হলো সব ধরনের অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন হলো সে অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করবে।

(তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, একজন মানুষের ঈমান যত পরিপক্ব হয়, তার জীবন থেকে অনর্থক বিষয়গুলো ততই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। সে নিজের সময়, শক্তি ও সামর্থ্যকে এমন কাজে ব্যয় করে, যা দুনিয়া ও আখিরাতে উপকার বয়ে আনে।

মুমিনের প্রতিটি কাজের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বৈধ উপকারের উদ্দেশ্য থাকে। তারা তাদের বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইসলাম নির্দেশিত কর্মপন্থার মাধ্যমে ব্যবসা, চাকরি, পরিবার পরিচালনা, জ্ঞানার্জন, সমাজসেবাসবকিছুকেই ইবাদতের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। কারণ পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা হলো মুমিনের জীবন-মরণ ও এর মাঝখানের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে আল্লাহর জন্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, বলো, আমার নামাজ, আমার যাবতীয় ইবাদত, আমার জীবন, আমার মরণ (সবকিছুই) বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই (নিবেদিত)।

(সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬২)

তাই মুমিন শুধু আনন্দ বা প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ে না; বরং সে মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বিবেচনা করে, এতে মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন কি না এবং এর কোনো প্রকৃত কল্যাণ আছে কি না।

কারণ প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, তুমি কি লক্ষ্য করেছ তার প্রতি যে তার খেয়ালখুশিকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? আল্লাহ জেনেশুনেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন আর তার কানে ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখের ওপর টেনে দিয়েছেন পর্দা। অতঃপর আল্লাহর পর আর কে (আছে যে) তাকে সঠিক পথ দেখাবে? এর পরও কি তোমরা শিক্ষাগ্রহণ করবে না?

(সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ২৩)

প্রবৃত্তির অনুসরণ এতটাই ভয়াবহ বিষয় যে একটা পর্যায়ে এর বশবর্তী হয়ে মানুষ এমন কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যা তার নেক আমল নষ্ট করে দেয়, হৃদয়কে কঠিন করে তোলে। তাদের অবস্থা এমন হয়ে যায় যে কেউ তাদের হক কথা শোনালেও তা তারা গ্রহণ করে না, উল্টো সুপরামর্শদাতা ও সতর্ককারীকে ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলে অপমান করার চেষ্টা করে। (নাউজুবিল্লাহ!)

অথচ ঈমান ও দ্বিনের প্রশ্নে মুমিন কখনো আপস করবে না। সে জানে, আল্লাহর সন্তুষ্টির বিনিময়ে দুনিয়ার কোনো লাভ বা স্বার্থ গ্রহণযোগ্য নয়। নিজের উম্মাদনা ও খাহেশাতের পক্ষে কোনো ভ্রান্ত যুক্তিও কল্যাণকর নয়।

সুতরাং প্রকৃত মুমিনের জীবন আবেগের নয়, বরং ইসলামী আদর্শের হতে হবে; খেয়ালের নয়, হেদায়েতের হতে হবে; অর্থহীন ব্যস্ততার নয়, কল্যাণকর কর্মের হতে হবে। এমন কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক, দেশ ও মানুষের কল্যাণে আসে এবং তাদের পরকালীন জীবনকে সমৃদ্ধ করে।

পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তির জন্য মহানবী (সা.)-এর সুসংবাদ | কালের কণ্ঠ