• ই-পেপার

সৌদি আরবে গাড়ির ধাক্কায় নিহত চরভদ্রাসনের সাবেক ইউপি সদস্য

শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ, আটক ১

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ, আটক ১

শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকার জেবীন রাইস প্রসেসিংয়ের গোডাউন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব চাল জব্দ করা হয়। এসময় ওই গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়।

আটক বোরহান উদ্দিন শহরের কসবা কাছারিপাড়া মহল্লার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা সরকারি চালসহ একজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকায় অবস্থিত জেবীন রাইস প্রসেসিংয়ের গোডাউনে অভিযান শুরু করা হয়। এসময় বস্তায় ২০২৬ সালের জুন মাসের সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সীলমোহরকৃত ৩৩ টন চাল পাওয়া যায়।

এতে দেখা যায়, অন্য জায়গায় পাচারের উদ্দেশে খাদ্য অধিদপ্তরের ৫০ কেজি ওজনের ৫০০ বস্তা এবং ৩০ কেজি ওজনের ২৭০ বস্তাসহ মোট ৭৭০ বস্তায় ভর্তি ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল রয়েছে। যার মোট মূল্য ১৬ লাখ  ২১ হাজার ৯০০ টাকা। পরে চালগুলো জব্দ এবং গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়।

শেরপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সদর থানার ওসি সোহেল রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান জানান, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন ক্ষতিকর কার্যক্রম ২০২৩-এর ৫-এর ক ও খ এবং ৬ ধারা মোতাবেক উপযুক্ত বিচারের জন্য জুডিশিয়াল আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওসি মো. সোহেল রানা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালগুলোর সঠিক হিসাব দিতে না পারায় সদর থানা পুলিশকে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জব্দ চালগুলো গোডাউনে সিলগালা করে আটক ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণ এবং মামলা দায়ের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মনোহরদীতে তিন মাদকসেবীর কারাদণ্ড

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
মনোহরদীতে তিন মাদকসেবীর কারাদণ্ড

নরসিংদীর মনোহরদীতে ইয়াবা সেবন করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ৩ যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী বিচারক মো. সজিব মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ নিয়ে খিদিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

এসময় খিদিরপুর বাজারের পাশে ইয়াবা সেবন করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় কালিরচর গ্রামের মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে সোহরাবকে (৩৬) মাদকসেবনের সরঞ্জাম ও দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করে স্থানীয়রা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানানো হলে তাঁরা উপস্থিত হয়ে সোহরাবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫ মাসের কারাদণ্ড দেন।

অপরদিকে খিদিরপুর বাজারের পাশে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় নয়াপাড়া গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেনকে (২৯) আটক হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দোষ স্বীকার করলে ৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই এলাকায় গাঁজা সেবনরত অবস্থায় সাইফুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলামকে (১৮) আটক করে ১ মাস কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) কাওসারসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া জানান, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!
এম আর মজিব। সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে ভূমি হস্তান্তর করের ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার পর ওই ইউপির ১ থেকে ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৯ জন ইউপি সদস্য (মেম্বার) একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানে মজিবের বিরুদ্ধে ‘অনাস্থা’ এনে এর প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এম আর মজিব তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যে দাবি করে এ ধরনের আবেদনকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র ও সাজানো নাটক বলেছেন।

তবে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাঈদ বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই শিবপুর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই লিখিত আবেদনে ৯ ইউপি সদস্য একত্রিত হয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ হারে প্রদেয় নগদ ৩৫ লাখ টাকার পুরোটা পরিষদের কোনো সদস্যকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান মজিব বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক থেকে পুরো টাকা তুলে নিজেই আত্মসাৎ করেন।
 
অভিযোগের স্বপক্ষে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নবীনগর শাখার স্টেটমেন্টেও দেখা যায়, বিগত ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওই চেয়ারম্যান মোট ৯টি ভুয়া প্রকল্পের নামে ৩৫ লাখ টাকার পুরোটাই তুলে আত্মসাৎ করেন।

ডিসির কাছে দেওয়া লিখিত ওই আবেদনে বলা হয়, এসব ভুয়া প্রকল্পের কোনো রেজুলেশন ইউনিয়ন পরিষদে সর্বসম্মতভাবে পাস না করেই চেয়ারম্যান মজিব এককভাবে ৩৫ লাখ টাকার সমুদয়টা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

এ বিষয়ে আবদনকারী স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান মজিবের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর লিখে শেষ করা যাবে না৷ শুধু সরকারের ভূমি হস্তান্তর করের প্রদেয় ১ শতাংশের ৩৫ লাখ টাকা কীভাবে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন, সেটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলেই পরিষ্কার বুঝা যাব।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান এম আর মুজিব বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আবেদনকারীদের সব তথ্যই অসত্য। মূলত সামনে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার ক্লিন ইমেজকে বিনষ্ট করতেই কিছু কুচক্রী মহল এসব অপকর্ম করাচ্ছেন৷

তিনি জানান, ৩৫ লাখ টাকা নয়, ভূমি হস্তান্তর করের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা হয়ত তোলা হয়েছে এবং সেই প্রকল্পগুলোর কাজও ইতোমধ্যেই সম্পন্নও করেছি, ইনশাআল্লাহ।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আবেদনটি এখনও হাতে পাইনি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোষা কুকুরের কামড়ে ধরাশায়ী গরু চোর!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
পোষা কুকুরের কামড়ে ধরাশায়ী গরু চোর!
প্রতীকী ছবি

বরগুনার আমতলীতে গরু চুরি করতে গিয়ে বাড়িতে পালিত পোষা কুকুরের কামড়ে আহত সোবাহান মৃধা (৫৫) নামের এক চোরকে আটক করেন গৃহিণী তানিয়া আক্তার সুখী।

বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের আহসানুল করিম নিয়াজের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ওই বাড়িতে গরু চুরি করতে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে এলাকার চিহ্নিত চোর সোবাহান মৃধা। ওই সময় গরুর মালিকের পালিত পোষা কুকুরটি তাকে ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি কামড় দেয়। এক পর্যায়ে তিনি কাবু হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে বাড়ির গৃহিণী ধরে ফেলেন।

গৃহিণী তানিয়া আক্তার সুখী বলেন, আমার স্বামী আহসানুল করিম নিয়াজ চাকরির কারণে ঢাকায় থাকেন। আমি আর আমাদের সন্তানদের নিয়ে বাড়িতেই থাকি। আমার স্বামীর অনুপস্থিতিতে এলাকার চিহ্নিত চোর সোবাহান প্রায়ই আমাদের বাড়ির পুকুর থেকে মাছ, তরিতরকারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করেন। তার নির্যাতনে এলাকার মানুষ এখন অতিষ্ঠ।

তিনি আরো বলেন, চোরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে আমরা বাড়িতে একটি কুকুর লালন-পালন করতে শুরু করি। ঘটনার সময় হঠাৎ করে কুকুরের ডাকাডাকির শব্দ পেয়ে আহত অবস্থায় চোরকে ধরে ফেলি। পরে এলাকার লোকজন এসে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে ওই রাতেই চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

ওই ঘটনায় গৃহিণী তানিয়া আক্তার সুখি আটক চোরের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আটক চোর সোবহানের শরীরের একাধিক স্থানে কুকুরের কামড়ের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ মুঠোফোনে বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত আটক চোর সোবহানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি, তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।