• ই-পেপার

মিথ্যা তথ্য প্রচারের ভয়াবহতা

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৫৩

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

বলো, তোমরা ভেবে দেখেছ কি যদি এই কোরআন আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ হয়ে থাকে আর তোমরা তাতে অবিশ্বাস করো, অথচ বনি ইসরাঈলের একজন এর অনুরূপ কিতাব সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করল; আর তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো, তা হলে তোমাদের পরিণাম কি হবে?...আরবি ভাষায়, যেন তা জালিমদের সতর্ক করে এবং যারা সৎকর্ম করে তাদের সুসংবাদ দেয়। (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১০-১২)

আয়াতগুলোতে ইহুদি-খ্রিস্টানদের সত্যবিমুখতার নিন্দা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অদৃশ্যের জ্ঞান বিষয়ে এভাবে বলা উত্তম আল্লাহ তাঁকে অদৃশ্যের অনেক জ্ঞান দিয়েছিলেন, যা অন্য কোনো নবী-রাসুলকে দান করেননি।

২. ইহুদি-খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত অস্বীকার করে তারা নিজেদের ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে অজ্ঞ। কেননা তাওরাত ও ইনজিলে তাঁর আগমন ও বৈশিষ্ট্যের বিবরণ রয়েছে।

৩. আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বহু ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম-পণ্ডিত তাদের ধর্মগ্রন্থ পড়েই মুসলিম হয়েছে।

৪. অহংকার ও গর্ব মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধিকে বিকৃত করে দেয়। ফলে অহংকারী সত্যের সন্ধান পায় না।

৫. মুসলিম দাস-দাসীকে তাচ্ছিল্য করে কুরাইশ সর্দাররা বলত, ইসলাম ভালো হলে নিম্ন শ্রেণির মানুষরা তা গ্রহণ করত না। (মাআরেফুল কোরআন : ৭/৭৯১)

মনীষীর কথা

মনীষীর কথা

মৃত্যু পর্যন্ত ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকাই দ্বিনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা।

মুজাহিদ (রহ.)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

শ্বশুরকে বাবা ডাকা যাবে?

প্রশ্ন : কিছুদিন আগে একটি প্রবন্ধে একটি হাদিস পেলাম। হাদিসটি হলো একবার আলী (রা.) বক্তৃতায় বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার বাবাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বাবা বলে দাবি করবে অথবা যে ক্রীতদাস তার মনিবকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বানায়, তার ওপর আল্লার অভিশাপ, ফেরেশতা ও সমগ্র মানবজাতির অভিশাপ বর্ষিত হবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ কিংবা নফল (ইবাদত) কবুল করবেন না।

(মুসলিম, হাদিস : ৩৬৮৬)

তদ্রূপ বুখারি শরিফের ৬৭৬৬ নম্বর হাদিসেও আছে, পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বানালে জান্নাত হারাম হয়। আমার প্রশ্ন হলো, শ্বশুরকে বাবা বললেও কি জান্নাত হারাম হয়ে যাবে?

নাফে মজুমদার, পটুয়াখালী

উত্তর : হাদিসে বর্ণিত হুঁশিয়ারি ওই ব্যক্তির জন্য যে নিজ পিতৃপরিচয় ত্যাগ করে অন্য কাউকে বাবা বানায়। আর শ্বশুরকে বাবা বলা হয় শুধু ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশার্থে, পিতৃপরিচয় ত্যাগ করে নয়। ইসলামে এর অনুমতি আছে। এ ক্ষেত্রে জান্নাত হারাম হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রযোজ্য হবে না। (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬, আহকামুল কোরআন : ৩/৫২২, ইবনে কাছির : ৬/৪০২)

 

ধার্মিক অর্ধাঙ্গিনী বেছে নেওয়ার গুরুত্ব

আব্দুস সাত্তার সুমন
ধার্মিক অর্ধাঙ্গিনী বেছে নেওয়ার গুরুত্ব

মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো জীবনসঙ্গী নির্বাচন। ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যাতে দাম্পত্য জীবন হয় শান্তিময়, বরকতময় ও জান্নাতের পথে সহায়ক।

 

কোরআনের নির্দেশনা

১. ঈমান ও পবিত্রতাই মূল ভিত্তি

আল্লাহ তাআলা বলেন, পবিত্র নারীরা পবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র পুরুষরা পবিত্র নারীদের জন্য।

(সুরা : আন-নুর, আয়াত : ২৬)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, একজন মুমিন পুরুষের জন্য সর্বোত্তম হলো একজন দ্বিনদার, চরিত্রবান নারী।

২. তাকওয়াবান জীবনসঙ্গী আল্লাহর নিয়ামত

আল্লাহ বলেন, তারা তোমাদের জন্য পোশাক, আর তোমরা তাদের জন্য পোশাক।

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৭)

অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী একে অপরের রক্ষক, সৌন্দর্য এবং নিরাপত্তা; তাই সৎ ও ধার্মিক সঙ্গী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

হাদিসের দিকনির্দেশনা

১. চারটি গুণ কিন্তু অগ্রাধিকার দ্বিন

রাসুল (সা.) বলেছেন, নারীকে চারটি বিষয়ের জন্য বিবাহ করা হয়তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বিন। তোমরা দ্বিনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও, তাতে তোমরা সফল হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৯০)

এটি সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশ ধার্মিকতাকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

২. উত্তম স্ত্রী দুনিয়ার সেরা সম্পদ

রাসুল (সা.) বলেছেন, দুনিয়া হলো ভোগের বস্তু, আর এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো নেককার স্ত্রী।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৭)

অর্থাৎ একজন ধার্মিক স্ত্রী দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই সফলতার মাধ্যম।

 

ধার্মিক অর্ধাঙ্গিনীর বৈশিষ্ট্য

১. আল্লাহভীরু (তাকওয়াবান)

২. নামাজ-রোজায় যত্নশীল

৩. পর্দাশীল ও লজ্জাশীলা

৪. স্বামীর প্রতি অনুগত ও সদাচরণকারী

৫. পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল

৬. অহংকারমুক্ত ও ধৈর্যশীলা।

 

কেন ধার্মিক স্ত্রী বেছে নেবেন?

১. সংসারে শান্তি ও বরকত আসে

২. সন্তানের সঠিক দীক্ষা হয়

৩. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মান বৃদ্ধি পায়

৪. আখিরাতে একসঙ্গে জান্নাতের পথে চলা সহজ হয়।

ধার্মিক অর্ধাঙ্গিনী শুধু দুনিয়ার সুখ নয়, বরং আখিরাতের সফলতারও চাবিকাঠি। তাই বিয়ের সময় সর্বপ্রথম দেখা উচিত তার ঈমান, আমল ও চরিত্র। কারণ একজন নেককার স্ত্রী হতে পারে একজন পুরুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত।

মিথ্যা তথ্য প্রচারের ভয়াবহতা | কালের কণ্ঠ