kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

সম্পদ উপার্জন নিন্দনীয় নয়

মাইমুনা আক্তার   

১৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সম্পদ উপার্জন নিন্দনীয় নয়

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে সম্পদ অর্জন করতে হয়। কিন্তু সম্পদ অর্জনই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। এর মানে এই নয় যে মানুষ তার প্রাপ্য হকও ছেড়ে দেবে। আয়-উপার্জন ছেড়ে দেবে ও উত্তরাধিকারদের অন্যের কাছে মুখাপেক্ষী রেখে ফেলে যাবে।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাস সাক্ষী যে পৃথিবীর সর্বোত্তম মানব নবী-রাসুলরা জীবিকা উপার্জনের জন্য শ্রম ব্যয় করেছেন। বিশ্বনবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা জীবিকা উপার্জনের জন্য বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করেছেন। বিনাশ্রমের উপার্জনকে তাঁরা ঘৃণা করতেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নামাজ আদায়ের পর তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করো। ’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ১০)

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম হলো দান-খয়রাত। নিজ হাতে উপার্জিত সম্পদকে দান করলে মহান আল্লাহ বেশি খুশি হন এবং বহুগুণে তার প্রতিদান দেন।

সাঈদ ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে লোক বৈধ উপার্জন থেকে দান-খয়রাত করে, আর আল্লাহ তাআলা হালাল ও পবিত্র মাল ছাড়া গ্রহণ করেন না, সেই দান দয়াময় রহমান স্বয়ং ডান হাতে গ্রহণ করেন, তা যদি সামান্য একটি খেজুর হয় তাহলেও। এটা দয়াময় রহমানের হাতে বাড়তে বাড়তে পাহাড় হতেও বড় হয়ে যায়; যেভাবে তোমাদের কেউ তার দুধ ছাড়ানো গাভি বা ঘোড়ার বাচ্চাকে লালনপালন করে থাকে। (তিরমিজি, হাদিস : ৬৬১)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্বামীর ঘর থেকে স্ত্রী কোনো কিছু দান করলে এতে তার সওয়াব হয়। স্বামীরও সমপরিমাণ সওয়াব হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণকারীরও সমপরিমাণ সওয়াব হয়। এতে একজন অন্যজনের কিছু পরিমাণ সওয়াবও কমাতে পারে না। স্বামীকে উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রীকে খরচের জন্য সওয়াব দেওয়া হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৬৭১)

বোঝা গেল, ইসলামে উপার্জনের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং সন্তানদের হালাল পদ্ধতিতে সম্পদ সংরক্ষণেরও অনুমতি রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উদ্দেশে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার উত্তরাধিকারীদের মানুষের মুখাপেক্ষী বানিয়ে দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া অধিক উত্তম। ’ (বুখারি, হাদিস : ১২৯৫)

সন্তানদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে হালাল পদ্ধতিতে সম্পদ সংরক্ষণকে ইসলাম এতটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে এক সাহাবি তাঁর সব সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করার ইচ্ছা পোষণ করলে মহানবী (সা.) তা গ্রহণ করেননি। বরং তিনি তাঁকে তাঁর সব সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ওয়াকফ করার অনুমতি দেন।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সাদ (রা.) বলেন, আমি মক্কায় রোগগ্রস্ত হলে রাসুল (সা.) আমার শুশ্রূষার জন্য আসেন। আমি বললাম, আমার তো সম্পদ আছে। সেগুলো আমি ওসিয়ত করে যাই? তিনি বলেন, না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বলেন, না। আমি বললাম, তবে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেন, এক-তৃতীয়াংশ করতে পারো। আর এক-তৃতীয়াংশই তো বেশি। মানুষের কাছে হাত পেতে পেতে ফিরবে ওয়ারিশদের এ রকম ফকির অবস্থায় ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে তাদের বিত্তবান অবস্থায় রেখে যাওয়া উত্তম। আর যা-ই তুমি খরচ করবে, তা-ই তোমার জন্য সদকা হবে। এমনকি যে লোকমাটি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দেবে, সেটাও। সম্ভবত আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করবেন। তোমার দ্বারা অনেক লোক উপকৃত হবে, আবার অন্যরা (অবিশ্বাসী সম্প্রদায়) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৫৪)

অতএব মহান আল্লাহর বিধান মেনে সম্পদ উপার্জন করা নিন্দনীয় নয়। তবে সম্পদ উপার্জনের নেশায় পড়ে হালাল-হারামের তারতম্য ও মহান আল্লাহর বিধান ভুলে যাওয়া যাবে না। মহান আল্লাহ সবাইকে হালাল পদ্ধতিতে সম্পদ উপার্জন করার তাওফিক দান করুন।

 



সাতদিনের সেরা