• ই-পেপার

রাজধানীর আবাসিক হোটেল থেকে মরদেহ উদ্ধার

‘এবারের বাজেটে ৩ লাখ কোটি টাকা পাচারের সুযোগ আছে’

অনলাইন ডেস্ক
‘এবারের বাজেটে ৩ লাখ কোটি টাকা পাচারের সুযোগ আছে’

‘৫৫ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটেও উৎপাদন, কৃষি, ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে এমন নীতি ও অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়েছে, যা সম্পদ কেন্দ্রীকরণ, লুটপাট ও অর্থপাচারকে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোকেই বহাল রেখেছে। এবারের বাজেটে ৩ লাখ কোটি টাকা পাচারের সুযোগ আছে। গণমানুষের স্বার্থ, জাতীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী বৈষম্য হ্রাসের প্রশ্নে বাজেটে স্পষ্ট রূপরেখা নেই।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাজেট সংশোধনের দাবিতে আয়োজিত পথসভা, গণসংযোগ ও মানববন্ধন থেকে এসব কথা বলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

​ঢাকা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, গাজীপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, শেরপুর ও সাতক্ষীরাসহ দেশের ২৩টি জেলার ৩২টি স্থানে সংগঠন তিনটি যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামউদ্দিন ঠাকুর মানু, ইবনুল সাঈদ রানা, জহিরুল ইসলাম কাজল; অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ। পথসভার সভাপতিত্ব করেন অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক এবং সঞ্চালনা করেন রাজনৈতিক সংগঠক ফিরোজা বেগম।

পথসভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পরিবর্তে পুরনো লুটপাট ও অর্থপাচারের উপযোগী মডেলকেই  অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে বাজেটে যেটুকু নির্দেশনা রাখা হয়েছে, তা দেশের বর্তমান সংকট ও চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, দায়সারা এবং অপর্যাপ্ত। এই অমিত সম্ভাবনাময় খাতের জন্য যতটুকু গুরুত্ব সহকারে ও পরিপূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা, গবেষণা ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ থাকা দরকার ছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে তার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। অথচ তীব্র জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং জলবায়ু ঝুঁকির বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য শক্তিই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির বিশেষ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির বিশেষ অভিযান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাস্কফোর্সের সভাপতি মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র সিদ্ধান্তে নবগঠিত টাস্কফোর্সের উদ্যোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ডিএসসিসির জিগাতলা ও  যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খাল এলাকায় এ বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাস্কফোর্সের সভাপতি মীর শাহে আলম।

অভিযানকালে জিগাতলা এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ির ছাদ, বেইজমেন্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে ২টি নির্মাণাধীন ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৭০ ধারা অনুযায়ী  ভবনের প্রত্যক মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ডেঙ্গুর লার্ভা থাকায় লাল কালি চিহ্নিত বিশেষ সতর্কতামূলক লিফলেট ভবনের প্রবেশপথে সেঁটে দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি আবাসিক এলাকায় ডেঙ্গুর লার্ভা সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ ও ময়লা জমে থাকায় বাসিন্দাদের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্তক করা হয়। এ ছাড়া যত্রতত্র ময়লা না ফেলতে পথচারী ও ব্যবসায়ীগণকে সচেতন করা হয়। 

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়; জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুক।’

তিনি আরো জানান, জাতীয় কমিটির অধীনে এই টাস্কফোর্সের অভিযান রাজধানীজুড়ে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখার বিনীত অনুরোধ জানান।

যাত্রাবাড়ির দক্ষিণ কুতুবখালী খাল পরিদর্শনকালে তিনি খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. মুন্না (৫০) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) রাত ১২টার দিকে কৃষি মার্কেটে এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

মৃত মুন্না সপরিবারে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট বিহারী ক্যাম্প এলাকাতে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম মইন উদ্দিন।
দুই মেয়ে এক ছেলের জনক ছিলেন তিনি।

মৃতের মেয়ে আনিছা বেগম জানিয়েছেন, তার বাবা রাত পৌনে ১২টার দিকে বাসায় আসছিলেন। পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।

জেনেভা ক্যাম্পে রাতের আঁধারে মাদকের রমরমা, নিয়ন্ত্রণে গডফাদাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জেনেভা ক্যাম্পে রাতের আঁধারে মাদকের রমরমা, নিয়ন্ত্রণে গডফাদাররা
(বাঁ থেকে) মনু গাল কাটা মনু, শাহ আলম, উল্টা সালাম, সামির নেটা সামির ও ইমতিয়াজ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে প্রতি রাতে মাদকের হাট বসে। এখনো সেখানকার প্রতিটি সড়ক, গলি ও চিহ্নিত মাদক স্পট রীতিমতো দখলে থাকে শীর্ষ মাদক গডফাদার উল্টা সালাম, গাল কাটা মনু, শাহ আলম, নেটা সামির ও ইমতিয়াজের নিয়ন্ত্রণে। তাদের শতাধিক সহযোগী অনেকটা প্রকাশ্যে ইয়াবা, হেরোইন, গাজা, আইস, সিসাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে।

ক্যাম্পের চারপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল থাকলেও রহস্যজনক কারণে এসব মাদক কারবারিদের ধরা হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কেউ তাদের মাদক কারবারের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকি। গত দুই দিনে কয়েকজন ব্যক্তিকে তারা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রাতেও তারা একজনকে মারধরের পর হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেনেভা ক্যাম্পের একাধিক ব্যক্তি জানায়, ক্যাম্পের ভেতরে প্রতিদিন বিকাল থেকে রাতভর গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে প্রকাশ্যে মাদক কারবার চলে। এর মধ্যে গডফাদার উল্টা সালাম, ইমতিয়াজ, নেটা সামির, শাহ আলম ও গাল কাটা মনুর প্রভাব রয়েছে ক্যাম্পের ভেতরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে ৫ আগস্ট পরবর্তী দফায় দফায় অভিযানের পরও জেনেভা ক্যাম্পের মাদক কারবার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এরা ছাড়াও ইরফান, লালনসহ আরো অনেক পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক গডফাদার ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার নেতৃত্ব দেয়। তাদের প্রত্যেকের ৫০ জনের বেশি সহযোগী ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে অনেকটা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে।

দিনের বেলায়ও লাইন ধরে অনেকটা রিলিফের পণ্যের মতো প্রকাশ্যে তাদের কাছ থেকে মাদক কিনতে দেখা যায় সরেজমিনে। অথচ এ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বারবার জোরালো অভিযানেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি এই মরণ নেশার লেনদেন।

এদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের মাদক গডফাদাররা আড়ালে থেকে সহযোগীদের দিয়ে মাদক কারবার করে। এদের মধ্যে অনেকেই এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে। বর্তমানে যারা গ্রেপ্তার হয়নি তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। 

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক গডফাদাররা আধিপত্য ধরে রাখতে ক্যাম্পে তাদের সহযোগীদের দিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। এর জেরে প্রাণ যাচ্ছে এলাকার নিরীহ মানুষের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এক আতঙ্কের জনপদ। শুধু মাদক কারবারই নয়, প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এ এলাকায়। এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হয় এতে কিছুদিনের জন্য স্বস্তি ফিরলেও ফের একই পরিস্থিতি রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানাধীন আটকেপড়া পাকিস্তানিদের আবাসস্থল জেনেভা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে জানিয়ে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সেখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্রেতা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে মাদক কারবার বারতেই থাকবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

পুলিশ ও ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়, এর আগে মাদক অপরাধীদের হাতে খুন হয় শাহ আলম নামের এক নিরপরাধ তরুণ। তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গত এক বছরে একই কারণে এই মাদক কারবারিরা আরো পাঁচজনকে খুন করে। তাদের চাপাতির কোপে ও গুলিতে আহত হয় অর্ধশতাধিক লোক। এর মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

পুলিশ বলছে, ক্যাম্পের অন্তত ৮০ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এখন মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। শিশু ও কিশোরদের পাশাপাশি নারীদেরও ব্যবহার করে তারা ক্যাম্পে মাদক কারবার করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জেনেভা ক্যাম্পে ছোট ছোট ঘর রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে পান-সিগারেট-চায়ের অনেক দোকান। এর বাইরে ভাসমান কিছু দোকান রয়েছে। এসবের অনেকগুলো মাদক ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে।

পুলিশ বলছে, গত এক বছরে মোহাম্মদপুর থানায় যেসব মামলা হয়েছে, এর অন্তত ৬০ শতাংশ মামলা হয়েছে মাদককে কেন্দ্র করে।

এক বছরে যারা নিহত : গত বছরের ৬ আগস্ট ক্যাম্পে গুলিতে মারা যান শাহেন শাহ নামের এক যুবক। একই দিনে গলায় গুলিবিদ্ধ হন শুভ নামের আরেক যুবক। তার আগে শাহ আলম নামে এক তরুণকে হত্যা করা হয়। পরে ১৭ আগস্ট আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়, যা চলে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। আরেক দফা বিরতির পর আবার ৩০ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘর্ষ হয়। ৪ সেপ্টেম্বর সোহেলের গুলিতে মারা যান অটোরিকশাচালক সাদ্দাম হোসেন সনু। আহত হন কুরাইশ।

এরপর ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে পর দিন সকাল পর্যন্ত চলে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি ও গোলাগুলি। এর মধ্যে চুয়া সেলিমের স্ত্রী নাগিন বেগম এবং ২৩ সেপ্টেম্বর চারকো ইরফান গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ সেপ্টেম্বর গুলিবিদ্ধ সাগর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন। এর আগে ৩১ মে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিতে মারা যায় রাসেল নামের এক শিশু।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুনিয়া সোহেল নিজে মোটরসাইকেলে করে এসে ককটেল ফাটিয়ে চলে যায়। এরপর থেকে ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।